elektronik sigara

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর সৌদি আরবের নাম্বার 05 77 58 56 34

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ শে আগষ্ট, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হাজী সাহেবানদের জন্য এক নজরে হজের ৭ দিনের করণীয় ডাউনলোড করুন

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

সারা বিশ্ব একই দিনে রোযা ও ঈদের হুকুম

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

বদরপুরের পীর সাহেব হানাফী মাযহাবের বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে একথা প্রমাণ করতে চান যে, হানাফী মাযহাবের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী সমগ্র বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদ হবে এবং এটাই নাকি জাহিরী রিওয়ায়াত। নির্ভরযোগ্য ফিকাহ গ্রন্থসমূহের ইবারতেও নাকি এ মতের অভিব্যক্তি ঘটেছে। এ ব্যাপারে শরয়ী সঠিক ফয়সালা জানতে চাই।


জবাবঃ


বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন এলাকার স্বাধীন চিন্তাধারার কিছু লোকদের পক্ষ থেকে সারা বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদ পালন করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে একই দিনে রোযা ও ঈদ পালন করা শরীয়াতের দৃষ্টিতে এর মধ্যে কি ফায়দা আছে এবং এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরামের দৃষ্টিভঙ্গী কি ছিল, সে সব বিষয়ে একটু তলিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাছাড়া একই দিনে রোযা ও ঈদ করার কোন প্রমাণ আছে কিনা, বা থেকে থাকলে তার প্রকৃত অর্থ কি সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।


(১)একই দিনে রোযা ও ঈদ করার নির্দেশ  সম্বলিত কোন আয়াত বা সহীহ হাদীস কিংবা ফুকাহাগণের ইজমা কেউ পেশ করতে পারবে না। যেমনভাবে জুমু’আ ও ওয়াক্তিয়া নামায সারা বিশ্বে বিভিন্ন সময়ে হচ্ছে, এ ব্যাপারে কেউ মাথা ঘামায় না বা প্রস্তাব পেশ করে না যে, এগুলো একই সময় কিভাবে করা যায়? কারণ, এগুলো এমন ইবাদত যা ওয়াক্ত মুতাবিক হয়। নামায হোক, রোযা হোক, সারা বিশ্বে  এক একই সময় হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা শরীয়তে নেই। আর এটা সম্ভবও নয়।


(২)সাহাবায়ে কিরাম একই দিনে রোযা বা ঈদ করাকে জরুরী মনে করতেন না, বরং তারা মনে করতেন প্রত্যেক এলাকার লোকেরা তাদের নিজ নিজ দেখা অনুযায়ী  রোযা, ঈদ করবে। সকল এলাকায় এক সময় করা জরুরী নয়। যেমন-মুসলিম শরীফের হাদীসে দেখা যায় যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হযরত কুরাইব থেকে জানতে পেরেছিলেন যে, শামের লোকেরা মদীনা বাসীদের একদিন পূর্বে রামাযানের চাঁদ দেখেছে। সেই হিসেবে হযরত মুআবিয়া (রাযিঃ) শামবাসীদেরকে একদিন পূর্বে রোযা রাখতে বলেছেন। এ তথ্য জানার পরে হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) শামের ঘটনা তাহকীক করে মদীনাতেও একই দিনে রোযা রাখার কোন ব্যবস্থা করেননি। অথচ তিনি ইচ্ছা করলে সেই ব্যবস্থা প্রহণ করতে পারতেন। আসলে একই দিনে  রোযা বা ঈদ করাকে তাঁরা  জরুরী মনে করতেন না। তাই এ ব্যাপারে কোন গুরুত্ব দেননি।


ইসলামের শুরু লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দেড় হাজার বৎসর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার ভিন্ন ভিন্ন সময় রোযা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু কোন ফকীহ বা ইমাম এক দিনে রোযা ও ঈদ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। জরুরতও মনে করেননি। এখন হঠাৎ করে কিছু লোকের মাথায় এ খেয়াল কিভাবে চাপল যে, এত বৎসর যাবৎ সকল ‍উলামা ও ফুকাহাগন ভুল করে এসেছেন আর তারা সহীহ বুঝতে পেরেছেন? কাজেই এখন থেকে সারা বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদ শুরু করা দরকার?


বাস্তবে উলামাগণ ভুল করেননি। বরং এসব আনাড়ীগণ কুরআন হাদীস না বুঝে উল্টা-পাল্টা ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তাদের একমাত্র পুঁজি মুতাকাদ্দিমীন ফুকাহায়ে কিরামের দু’ একটা উক্তির অপব্যাখ্যা। উক্তি দু’টি এইঃ


(১) উদয়স্থলের বিভিন্নতার কোন ধর্তব্য নেই। [আল বাহরুর রায়িক ২:২৭০]


(২) এক প্রান্তে যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে অপর প্রান্তেও রোযা ও ঈদ করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।[আল বাহরুর রায়িক ২:২৭০]


বস্তুতঃ উক্তি দু’টি না কুরআনের আয়াত, না হাদীস। বরং ফুকাহাগণের বচন (কওল)। সুতরাং উক্ত কওলের এমন ব্যাখ্যা দিতে হবে, যাতে আয়াত, হাদীস, সাহবায়ের আমল ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকে এবং এমন কোন ব্যাখ্যা দেয়া যাবে না, যে ব্যাখ্যা অনুযায়ী উক্তি দু’টি কুরআন ও হাদীসের বাস্তবতার বিরুদ্ধে চলে যায়। এসব দিকে লক্ষ্য রেখে উলামায়ে মুতাআখখিরীন। যেমন- আল্লামা কাসানী (রহঃ) তার বিশ্ববিখ্যাত ফাতাওয়ার কিতাব বাদায়িউস সানায়ি, এ উল্লেখিত উক্তির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, “চন্দ্রের উদয়স্থলের পার্থক্য নিকটবর্তী শহরের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। নিকটবর্তী শহর দ্বারা উদ্দেশ্য ঐসব এলাকা, যেখানে চাঁদ দেখার ব্যাপারে ১/২ দিনের পার্থক্য হয় না। আর যেসব শহরের মধ্যে চাঁদ দেখার ব্যাপারে ১/২ দিনের পার্থক্য হয়ে থাকে সে সমস্ত এলাকাকে দূরবর্তী এলাকা বলা হয়। সেসব শহরের মধ্যে চন্দ্রের উদয়স্থলের পার্থক্য ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে এক শহরে বা দেশে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে, অন্য এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে না”।[বাদায়িউস সানায়ি ২:৮৩]


তেমনিভাবে আল্লামা ইবনে আবিদীন (রহঃ) ‘মিনহাতুল খালিক আলাল বাহরির রায়িক’ গ্রন্হ্যে উল্লেখ করেন, “পশ্চিম এলাকায় চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে, পূর্ব অঞ্চলের লোকদের জন্য রোযা ও ঈদ করা জরুরী হবে এর অর্থ সম্পূর্ণ পৃথিবীর পশ্চিম ও পূর্ব এলাকা নয়। বরং একই শহরের পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চল উদ্দেশ্য”। [মিনহাজ ২:২৭০]


এ ধরনের একই কথা হানাফী মাযহাবের প্রচুর কিতাব বিদ্যমান রয়েছে। উদাহরণ স্বরুপঃ (১) তাবয়ীনুল হাকায়িক ১:৩২১ (২) মজমাউল ফাতাওয়া ২৫২ (৩) মারাক্বিল ফালাহ ৫৩৩ (৪) ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২:৩৫৫-৩৫৬ (৫) তাহতাবী ৩৫৫ (৬) ফাতহুল মুলহিম ৩:৩১৩ (৭) মাআরিফুস সুনাম ৬:৩১ (৮) আলউরফুশশুজী ১৪৯ (৯) রুইয়াতে হিলাল ৫৮ (১০) জাদীদ ফিকহী মাসায়িল ২:৪০ প্রভৃতি।


قوله: ويلزم اهل المشرق بروية اهل المغرب اذ ليس المراد باهل الشرق جميعهم بل بلدة واحدة تكفي كما لايخفى .    (منحة الخلاق على البحر الرائق:2/472)


পক্ষান্তরে কতিপয় স্বাধীন খিয়ালের লোক এ সমস্ত কিতাবাদীকে উপেক্ষা করে নিজের মনগড়া এমন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যা কুরআন, হাদীস এবং বাস্তবতার বিরুদ্ধে। তা ছাড়া ঐ ব্যাখ্যা হানাফী মাযহাবের কোন কিতাবেও পাওয়া যায় না। আবদুর রব সাহেব (বদরপুরী) যে সমস্ত কিতাবের দলীল দিয়েছেন, ঐ সব কিতাব মুতাকাদ্দিমীনদের উল্লেখিত শুধু দুই কওল বর্ণিত হয়েছে মাত্র । যার সহীহ ব্যাখ্যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। কিন্তু আবদুর রব সাহেব ঐ উক্তিদ্বয়ের যে ব্যাখ্যা নিজে বুঝেছেন বা করেছেন, তা ঐ সমস্ত কিতাবসমূহের কোনটাতে আদৌ লেখা নেই। বরং ঐ ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ তার মনগড়া ব্যাখ্যা, যা শরীয়তের দলীল হতে পারে না। কাজেই ঐ ব্যাখ্যা দ্বারা সাধারণ লোকদেরকে ধোঁকা দেয়া গেলেও কোন সাধারণ আলেমকে ধোঁকা দেয়া যায় না।


মুতাকাদ্দিমীনদের কওলের ব্যাপারে তার উক্ত মনগড়া ব্যাখ্যা যা কুরআন ও হাদীসের সম্পূর্ণ বিপরীত। পবিত্র কুরআনে পাকে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে রামাযান মাস পাবে, সে যেন উক্ত মাসে রোযা রাখে”।


বদরপুরী সাহেব বলতে পারেন, হাদীসে আছে- “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু কর, এবং ২য় চাঁদ দেখে ঈদ কর”। এ হাদীসে তো সকল এলাকার জন্য ভিন্ন দেখার কথা বলা হয়নি। তার উত্তরে আমরা বলব- উক্ত হাদীসে একসাথে সারা দুয়িার কথা বলা হয়নি। হাদীসের এ অর্থ সাহাবায়ে কিরাম বুঝেছেন। যেমন মুসলিম শরীফের বরাত দিয়ে আমরা শুরুতে উল্লেখ করেছি। অন্য এক হাদীসে এসেছে-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা পেশাব-পায়খানায় বসবে, তখন পূর্বমুখী বা পশ্চিমমুখী হয়ে বসবে”। বদরপুরী সাহেব কি বলবেন যে, এটা সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য বলা হয়েছে? নিশ্চয় এ কথা বলবেন না। বরং সকল মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে, এটা মদীনাবাসী এবং বাইতুল্লাহ থেকে উত্তর এলাকার লোকদের জন্য। তেমনিভাবে মুতাকাদ্দিমীনদের কাওল পূর্বে বা পশ্চিমে অবস্থিত এলাকার জন্য। অর্থাৎ এ পরিমাণ দূরত্বের জন্য যেখানে উদয়স্থলের ব্যবধানে একদিনের ব্যবধান হয় না।


আসলে বদরপুরী সাহেবের ব্যাখ্যা রীতিমত বাস্তব বিরোধও বটে। কারণ তিনি বলেছেন, সারা পৃথিবীর জন্য চন্দ্রের উদয়স্থলের পার্কথ্য ধর্তব্য নয়। এটা একটা চরম অবান্তর কথা, যা একজন সাধারণ লোকও স্বীকার করবে। কারণ, শত শত বৎসর ধরে পৃথিবীতে চন্দ্রের উদয়কে কেন্দ্র করে আরবী তারিখের পার্থক্য চলে আসছে। এই পার্থক্য তো চন্দ্রের উদয়স্থলের পার্থক্যের কারণেই হয়েছে। এই জ্বলন্ত বাস্তবতাকে অস্বীকার করা পাগলামীর চরম বহিঃপ্রকাশ বৈ আর কি? এমন অবান্তর কথা মানতে শরীয়ত কখনও নির্দেশ দেয় না। এটাকে অস্বীকার করা অবান্তর নয় কি?


কেউ কেউ বলে থাকেন, আল্লাহ তা‘আলা সমগ্র পৃথিবীর জন্য একটা সূর্য ও একটা চাঁদ তৈরী করেছেন। প্রত্যেক এলাকার জন্য নতুন নতুন চাঁদ সৃষ্টি করেননি। তাহলে কেন সারা বিশ্বে একই তারিখ হয়ে রোযা ও ঈদ একদিনে হবে না? তার উত্তর এই যে, চাঁদ ও সূর্য একটি –একথা ঠিক, কিন্তু এগুলোর উদয় এবং অস্ত এক সময় হয় না বরং কোথাও পূর্ণিমার চাঁদের আলো ঝলমল করে। ঠিক সেই মুহূর্তে কোথাও দ্বিপ্রহর বিদ্যমান থাকে। এক্ষেত্রে দূরবর্তী শহরে চাঁদ দেখা দিলে, নিশ্চয়  সেখানে মাগরিবের সময় হবে। সুতরাং সেখানকার চাঁদ দেখা যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে মাগরিবের সময়কেও গ্রহণ করে জোহরের সময় মাগরিবের নামায পড়তে হবে। তেমনিভাবে উপসাগরীয় দেশের চাঁদ দেখা দূরবর্তী দেশে গ্রহণ করলে পূর্ব এলাকার চন্দ্র মাস ২৮ দিনে শেষ হবে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী মাসের চাঁদ আকাশে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী মাস গণনা শুরু হয়ে যাবে। অন্যদিকে পশ্চিম এলাকার আকাশে নূতন চাঁদ বিদ্যমান থাকার পরও নতুন মাস শুরুর পরিবর্তে পূর্ববর্তী মাস বহাল থাকবে।  অথচ বুখারী শরীফ ১:২৫৫ পৃঃ এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, চন্দ্র মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিনেই হয়ে থাকে। সুতরাং সাহাবা (রাযিঃ) গণের সময় থেকে বিগত চৌদ্দশ বৎসর পর্যন্ত সকল মুসলমান যে নিয়মে চলে আসছে, সেটাই শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য।