elektronik sigara

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাব অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে চাইলে ভিজিট করুনঃ www.maktabatunnoor.com

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

রামাযানের ক্যালেণ্ডার

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

(ক) প্রতি বছর জামি‘আ রাহমানিয়া থেকে প্র্রকাশিত ক্যালেণ্ডারে এবং রাহমানী পয়গাম পবিত্র রামাযানুল মুবারক উপলক্ষ্যে সাহরী ও ইফতারের ক্যালেণ্ডার প্রচার হয় এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও ক্যালেণ্ডার প্রচার করা হয়, কিন্তু সমস্যা হয় যে, আপনাদের ক্যালেণ্ডারের সাথে অন্যান্য ক্যালেণ্ডারে বেশ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ইফতারীর সময়ের ব্যাপারে। এই পার্থক্যের কারণ জানতে চাই।

(খ) অনেক বছর থেকে বাংলাদেশে মুফতী আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী সাহেব (রহঃ) প্রণীত বার মাসের ক্যালেণ্ডার সব মহলে গৃহীত হয়ে আসছে। উক্ত ক্যালেণ্ডার এর ব্যাপারে পরবর্তীতে কোন যাচাই বা তাহকীক হয়েছে কি-না?


জবাবঃ


(ক) অন্যান্য ক্যালেণ্ডারের সাথে জামি‘আ রাহমনিয়ার ক্যালেণ্ডারের পার্থক্য হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।


(১) মুফতী আমীমুল ইহসান সাহেব এর ক্যালেণ্ডারের উপর পরবর্তীতে অনেক গবেষণা ও পর্যালোচনা হয়েছে। অনেক স্থানে পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে। সেই সংশোধিত ক্যালেণ্ডার বিগত কয়েক বছর থেকে “ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ” বিতরণ ও প্রচার করে আসছে। জামি‘আ রাহমানিয়া উক্ত সংশোধিত ক্যালেণ্ডারের ভিত্তিতে সাহরী ও ইফতারীর ক্যালেণ্ডার তৈরী করে থাকে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে যায়। কারণ, প্রত্যেকটির ভিত্তিই আলাদা।


(২) ইফতারীর ব্যাপারে সংশোধিত ক্যালেণ্ডারে সূর্যাস্তের যে সময় উল্লেখ আছে-আমরা সতর্কতার জন্য তার সাথে তিন মিনিট যোগ করে ইফতারীর সময় নির্ধারণ করে থাকি। অনেক প্রতিষ্ঠান সাবেক ক্যালেণ্ডারে সূর্যাস্তের সময়ের সতর্কতার জন্য ৫ মিনিট যোগ করে যে ইফতারীর সময় নির্ধারণ করা আছে এটাকে সূর্যাস্তের সময় মনে করে তার সাথে সতর্কতার জন্য দ্বিতীয়বার ৫ মিনিট যোগ করে ইফতারীর সময় নির্ধারণ করে । যার কারণে অনেক ক্যালেণ্ডারে দেখা যায় রাহমানিয়ার ক্যালেণ্ডার থেকে ৬/৭ মিনিট পরে ইফতারীর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এতটা বিলম্ব করে ইফতার করা হাদীসের দাবী সম্মত নয়। হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময় হওয়ার পর যথাসম্ভব শীঘ্র ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন।


(৩) অন্যান্য ক্যালেণ্ডারে রোযার হেফাজতের জন্য সুবহে সাদিকের মূল সময় থেকে ৫ মিনিট পূর্বে সাহরীর শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ফজরের ওয়াক্ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। এর দ্বারা রোযার হেফাজত যদিও হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ফজরের আযান ও নামাযের ব্যাপারে সমস্যা থেকে যাচ্ছে যেমন, অনেক মুআজ্জিন সাহেব আছেন যারা উক্ত ক্যালেণ্ডারে সুবহে সাদিকের অর্থাৎ ফজরের সময় শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পূর্বে যে সাহরীর শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তারা এটা ফজরের ওয়াক্ত শুরু মনে করে আযান শুরু করে দিচ্ছেন। ফাতাওয়া অনুযায়ী ওয়াক্তের পূর্বে হওয়ার কারণে তাদের এ আযান সহীহ হচ্ছে না। যার ফলে ঐসব মসজিদে ফজরের আযান ছাড়াই ফজরের জামাআত কায়িম হচ্ছে। এতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ গুনাহগার হচ্ছেন এবং জামাআতের সাওয়াব কম হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে মারাত্মক একটা অসুবিধা এই হচ্ছে যে, ঐ ভুল আযান শুনে অনেকে যারা ঘরে ফজরের নামায পড়ে ফেলছেন তাদের অনেকের নামায, ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে হওয়ায় বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সামনে রেখে রাহমানিয়ার ক্যালেণ্ডারে সুবহে সাদিকের মূল সময় থেকে ৫ মিনিট পূর্বে তাহাজ্জুদ নামায এবং সাহরী খাওয়া বন্ধ করতে বলা হয়েছে এবং সুবহে সাদিকের মূল সময় থেকে ৫ মিনিট পরে ফজরের আযান দিতে বলা হয়েছে। সারকথা, অন্যান্য অধিকাংশ ক্যালেণ্ডারে রোযার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে এবং রাহমানিয়ার ক্যালেণ্ডারে রোযা এবং ফজরের আযান ও নামাযের ব্যাপারে সতর্কতা অবম্বন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সুবহে সাদিক এর মূল সময়টি যেহেতু হিসাব করে বের করা হয়েছে, এতে বাস্তবের সাথে ২/১ মিনিট বেশ কম হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তাছাড়া ঘড়ির টাইমের মধ্যেও ২/১ মিনিট কমবেশী থাকতে পারে। উভয় সমস্যা এড়ানোর জন্য মূল সময় থেকে পাঁচ মিনিট পরে আযান দিতে বলা হয়েছে। এটা শুধু ফজরের সাথে খাছ নয় বরং সকল ওয়াক্তেই কিছুটা সতর্কতা অবশ্যই অবলম্বন করা চাই। ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী সময় হলেই আযান শুরু করে দেয়া উচিত নয়।


(খ) হ্যাঁ, মুফতী আমীমুল ইহসান সাহেব (রহঃ) প্রণীত ক্যালেণ্ডরের উপর আনুমানিক ৭/৮ বছর পূর্বে ইসলামিক ফাঊণ্ডেশনের উদ্যোগে বাইতুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা উবাইদুল হক সাহেব এর নেতৃত্বে উলামায়ে কিরাম, আবহাওয়াবিদ ও সৌরবিদদের সমন্বয়ে ব্যাপক গবেষণা ও পর্যালোচনা হয়। অতঃপর তারা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেন এবং তাদের তৈরী নকশা হযরতুল আল্লামা মুফতী আবদুর রহমান সাহেবসহ দেশের আরো কিছু মুফতী সাহেবদের খিদমতে পেশ করেন। তারপর থেকে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ উক্ত সংশোধিত ক্যালেণ্ডার প্রচার করে আসছে। মুফতী আমীমুল ইহসান সাহেব (রহঃ) প্রণীত ক্যালেণ্ডার  এবং পরবর্তী ক্যালেণ্ডারের মধ্যে অনেক স্থানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান আছে। যার কয়েকটি নিম্নে দেয়া হলোঃ


(১) ফজর ও মাগরিবের সময়ের মধ্যে উভয় ক্যালেণ্ডারের মধ্যে বহু তারিখে ৪/৫ মিনিটের পার্থক্য আছে, যে কারণে সংশোধিত ক্যালেণ্ডারে কয়েক মাসে সাবেক ক্যালেণ্ডারের তুলনায় ৪/৫ মিনিট পূর্বেই ইফতারীর সময় হয়ে যায়।


(২) সাবেক ক্যালেণ্ডারে ফজরের সময়ের ব্যাপারে কোন সতর্কতা অবলম্বন করা হয় নাই, শুধু সতর্কতামূলক সাহরীর শেষ সময় লেখা হয়েছে। আর কোন কোন ক্যালেণ্ডারে মাত্র এক মিনিটের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে-যা মোটেই যথেষ্ট নয়। আর সংশোধিত ক্যালেণ্ডারে ৩/৫ মিনিট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।


(৩) সাবেক ক্যালেণ্ডারে বিভিন্ন জেলা শহরের সময় উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে যে, ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট বাড়াতে হবে বা ঢাকার সময় থেকে ৪/৫ মিনিট কমাতে হবে। আর সংশোধিত ক্যালেণ্ডারে প্রত্যেক জিলা শহরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যালেণ্ডার তৈরী কর হয়েছে। কারণ, নির্দিষ্ট  কয়েক মিনিট এর পার্থক্যের মাধ্যমে পূর্ণ এক বৎসর এর বাস্তব সময়সূচী রক্ষা কর সম্ভব হয়নি। মুফতী সাহেব (রহঃ)  জিলাসমূহের পার্থক্যের ব্যাপারে অক্ষাংশের তারতম্য না করে শুধু দ্রাঘিমার উপর ভিত্তি করেছেন। অথচ বর্তমান সৌরবিদদের তাহকীক অনুযায়ী একই দ্রাঘিমার হয়ে অক্ষাংশের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন মৌসুমে নামায ও রোযার সময়ের ব্যবধান হয়ে থাকে। সুতরাং ঢাকা শহরের সময়সূচী থেকে অন্যান্য জেলা শহরের সময়সূচী নির্ণয় করতে হলে দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশ উভয়টি প্রতি দৃষ্টি রাখা জরুরী।