elektronik sigara

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাব অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে চাইলে ভিজিট করুনঃ www.maktabatunnoor.com

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

মসজিদ ছেড়ে খানকায় নামায আদায়

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

আমাদের এলাকাতে একটি মসজিদ আছে। কিছু সংখ্যক লোক চন্দ্রপাড়া পীর সাহেবের মুরীদ; তারা পীর সাহেবের কথামত উক্ত মসজিদের সন্নিকটেই একটি খানকা করে সেখানে পীর সাহেবের ওজীফা পালন করে, এরপর নামাযের সময় হলে তারা মসজিদে না এসে সেখানেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, এমনকি জুমু’আর নামাযও উক্ত খানকায় আদায় করে থাকে। এভাবে মসজিদ ছেড়ে খানকায় নামায আদায় করা কেমন?


জবাবঃ


হাদীস শরীফে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দুনিয়ার মধ্যে সর্বোত্তম স্থান হল মসজিদ।[মুসলিম শরীফ, মিশকাত -৬৮]


আর মসজিদ বানানোর আসল উদ্দেশ্য হল, এলাকার সমস্ত মানুষ মসজিদে এসে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায এবং জুমু’আ জামা’আতের সাথে আদায় করা। মসজিদে নামায পড়ার ফযীলত সম্পর্কে হযরত আনাস রাযি.-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘরে একা একা নামায পড়ার চেয়ে মহল্লার মসজিদে নামায পড়লে ২৫ গুণ বেশী সওয়াব হয়। এবং জামে মসজিদে নামায পড়লে ৫০০ গুণ বেশী সওয়াব হয়।   [মিশকাত-৭২]


মসজিদে এসে নামায পড়ার ‍গুরুত্ব সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তার এক ছাত্রকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি জান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর যুগে স্পষ্ট মুনাফিক ও অসুস্থ ব্যাক্তি ছাড়া অন্য কেউ মসজিদে এসে জামা’আতসহ নামায পড়া থেকে বিরত থাকত না। অসুস্থ ব্যক্তি যদি দুইজন মানুষের কাঁধে ভর করে চলতে পারত তাহলে তারা নামায পড়তে আসত। এবং তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সুনানে হুদা শিক্ষা দিয়েছেন। আর সুনানে হুদার একটি বিষয় হল, যে মসজিদে আযান দেয়া হয় সে মসজিদে এসে নামায পড়া।   [মুসলিম শরীফ ১:২৩২]


মসজিদে এসে নামায না পড়ার ভয়াবহতা এবং কঠোরতা সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আযান শুনল কিন্তু তার আহবানে সাড়া দিলনা (অর্থাৎ, মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামা’আতসহ নামায পড়ল না) তার নামায হবে না। কিন্তু অপারগতা বশতঃ (যেমন, অসুস্থতা, প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে) মসজিদে না আসতে পারলে কোন অসুবিধা নেই। (দারাকুতনী-মিশকাত-৯৭) মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরকাতে এ হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, নামায হবে না এর অর্থ পরিপূর্ণভাবে নামায হবে না বা নামায কবুল হবে না। [মিরকাত: ৩:৬৪]


উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে শরী‘আতের বিধান হল, শরয়ী উযর ব্যতীত কেউ ‍নিকটে মসজিদ থাকা সত্বেও মসজিদে না এসে কোন খানকায় বা বাড়িতে জামা’আতসহ নামায পড়লে জামা’আতের সওয়াব ও পুরষ্কার পাবে না। বরং এ অবস্থায় মসজিদে না এসে অন্য কোথাও (চাই তা ওয়াক্বফকৃত হোক না কেন) নিয়মিত জামা’আতসহ নামায পড়তে থাকলে ফাসিক বলে গণ্য হবে।


উল্লেখ্য, নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামের মতে চন্দ্রপাড়ার সিলসিলা পথভ্রষ্ট ও গোমরাহ্। নিকটে মসজিদ থাকতে অন্যত্র জামা’আত করাও সে গোমরাহীর একটি আলামত। সুতরাং চন্দ্রপাড়ার মুরীদদের জন্য জরুরী, অতিসত্বর এ সিলসিলা ছেড়ে তাওবা করে নেয়া, এবং হক্কানী উলামায়ে কেরাম থেকে কোন সহীহ্ পীরের সন্ধান জেনে তাঁর সাথে সম্পর্ক করা।