elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর লিখিত সকল কিতাব পাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

মওদূদী সাহেবের ব্যাপারে কতিপয় প্রশ্নের সমাধান

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

একঃ মওদূদী সাহেরেব চিন্তাধারাকে উলামায়ে কিরাম নিয়মিতই ভ্রান্ত ও গোমরাহ বলে থাকেন, এর আসল কারণ কি?

সঠিক ইসলামী চিন্তাধারার সাথে মওদূদী চিন্তাধারার মৌলিক সংঘাতগুলো কি কি? নির্ভরযোগ্য প্রমাণসহ জানানোর আবেদন রইল।

প্রশ্ন দুইঃ মওদূদী সাহেবের লিখিত বাই-পুস্তক তথা তাফহীমুল কুরআন, তাফহীমাত, তানকীহাত, খুতবাত, রাসায়েল মাসায়েল, তাজদীদ ও ইহ্‌যায়ে দ্বীন, খেলাফত ও মুলুকিয়াত, ইসলামী রিয়াসাত, কুরআন কী চার বুনিয়াদী ইস্তেলাহে ইত্যাদি পড়া যাবে কি না?

প্রশ্ন তিনঃ মওদূদী পন্থী ইমামের পিছনে নামায আদায় করলে নামায সহীহ হবে কি-না? এবং তাদেরকে ইমাম বা মুয়াজ্জিন হিসাবে নিয়োগ দেয়া যাবে কি-না?


জবাবঃ

১নং প্রশ্নের জবাবঃ


মাসিক তরজুমানুল কুরআন ১৩৫৫ হিজরী রবিউল আউয়াল সংখ্যায় জনাব মওদূদী সাহেব নিজের সম্পর্কে লিখেনঃ


مجہے گروہ علماء میں شامل ہونے کا شرف حاصل نہیں ہے، میں ایک بیچ کی راس کا آدمی ہوں جس نے جدید اور قدیم دونوں طریقہ ہائے تعلیم سے کچہ کچہ حصہ پایاہے، اور دونو کوچوں کو چل پہر کر دیکہا ہے۔


অর্থঃ উলামা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমি মধ্য বিন্দুর লোক, যে নতুন-পুরাতন উভয় শিক্ষাব্যবস্থার কিছু কিছু অংশ পেয়েছে এবং উভয় গলিতেই হেঁটে চলে দেখেছে।


অপরদিকে “মাওলানা মওদূদী” নামক বইতে জনাব আব্বাস আলী খান লিখেনঃ ঊনিশশ’ চৌদ্দ খৃঃ এ বালক মওদুদী মৌলভী (তথা তার বর্ণনা মতে মেট্রিক) পরীক্ষা দেন- ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে (তার পিতা) আওরাগাবাদ থেকে হায়দারাদগমন করেন এবং সেখানে দারুল উলূমে (তথা ডিগ্রী কলেজে) পুত্র মওদূদীকে ভর্তি করে দেন,- কিন্তু ছ’মাস অতীত না হতেই ভূপোল থেকে দুঃসংবাদ এলো যে, পিতা মৃত্যু শয্যায় শায়িত।- এ সময় থেকেই বালক মওদূদীকে জীবিকা অন্বেষণ উপায় অবলম্বন করতে হয়। (মাওলানা মওদূদী পৃঃ ৩৬)


মাসিক তরজুমানুল কুরআন রবিউল আউয়াল সংখ্যায় উদৃত নিজ ভাষ্য ও “মাওলানা মওদূদী” নামক বইতে উদ্ধৃত জামা‘আতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খানের উক্ত বর্ণনা অনুযায়ী বুঝা গেল যে জনাব মওদূদী সাহেব দ্বীনী ও দুনিয়াবী শিক্ষার কোনটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষিত নন।


একদিকে যেমন নিয়মিত কোন শিক্ষা গ্রহণ করে আলেম হওয়ার সুযোগ তিনি পাননি অপর দিকে কোন কামেল ও দক্ষ আলিমের দিক নির্দেশনার অধীনে থেকে দ্বীনী কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও তিনি স্বীকার করেননি। বরং নিজ মেধার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ও চরম মুক্ত স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। উম্মতের রাহবার আঈম্মায়ে মাযহাব থেকে শুরু করে আঈম্মায়ে হাদীস ও যামানার মুজাদ্দিদগণ সহ অতীতের প্রায় সকল দক্ষ উলামায়ে কিরাম তাঁর নিকটে ছিল অতিতুচ্ছ। যা তার বিভিন্ন লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।


এই ধরনের লোক ইসলামকে নিয়ে গবেষণা করলে পরিণতি যা হওয়ার তাই ঘটেছে। বিষয়টি মওদূদী সাহেব পর্যন্ত সীমিত থাকলে উলামায়ে কিরামের তেমন বিচলিত হওয়ার কিছু ছিল না, কিন্তু যখন তিনি নিজ গবেষণার ফসলগুলো জামায়াতে ইসলাম নামে একটি দল গঠনের মাধ্যমে উম্মতের মাঝে ছড়ানোর প্রয়াস পেলেন তখন শরয়ী মৌলনীতির আলোকে তার চিন্তাধারাকে যাচাই বাছাই করে উম্মতের সামনে পেশ করার জরুরী দায়িত্ব দক্ষ ও পরিপক্ক, মুত্তাকী ও স্বচেতন উলামাদের যিম্মায় বর্তায়।


উপমহাদেশের খ্যাতনামা উলামাদের প্রায় সকলেই মওদূদী সাহেবের চিন্তা ধারায় যে সব মারাত্মক ভুল ভ্রান্তি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে প্রথমে তা মওদূদী সাহেব ও তার প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী নেতৃবর্গকে বিভিন্ন ভাবে অবহিত করে সেগুলো প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে বলেছেন। কিন্তু দেখা গেল মওদূদী সাহেব বা জামায়াতের নেতৃবর্গ তা প্রত্যাহার করার পরিবর্তে বাড়তি কিছু বিভ্রান্তি যোগ করে ক্রমাগত তা প্রতিষ্ঠিত করতেই চেষ্টা করেছেন। তখন মুসলিম জন সাধারণকে গোমরাহী থেকে বাঁচানো স্বার্থে উলামায়ে কেরাম মওদূদী সাহেবের মৌলিখ ভুলগুলো সুদৃঢ় প্রমাণসহ মুসলিম উম্মাহর সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন, এমনকি মওদূদী সাহেবের প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনামূলক ভ্রান্তিমুক্ত রচনা-প্রবন্ধ ইত্যাদি দেখে যেসব বিদগ্ধ উলামায়েকেরাম ও ইসলামী বুদ্ধিজীবীগণ জামাআতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠালগ্নে জনাব মওদূদী সাহেবের সঙ্গে এমনকি জামায়াতের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ সমূহে অধিষ্ঠিত হয়ে মওদূদী সাহেবকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর মওদূদী সাহেবকে ক্রমশঃ ভুলপথে চলতে দেখে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরাও একে একে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত হতে পৃথক হয়ে গেছেন। উদাহরণতঃ জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমীর মাওঃ মনজুর নো’মানী, সেক্রেটারী জনাব কমরুদ্দীন (এম,এ) বেনারসী। মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য হাকীম আঃ রহীম আশরাফ ও মাওলানা আমীন আহসান এসলাহী বিশ্ব বরেণ্য দাঈয়ে ইসলাম মাওঃ আবুল হাসান আলী নদভী। জামায়াতের অন্যতম রুকন ও মওদূদী সাহেবের জন্যে নিবেদিত প্রাণ ডক্টর এসরার আহমাদ সাহেব প্রমূখ সহ প্রথম সারীর প্রায় আরো সত্তর জন নেতৃবর্গ।


দ্রঃ মাওঃ মনযুর নো’মানী লিখিত “মওদূদী সাহেবের সাথে আমার সাহচর্যের ইতিবৃত্ত।”


যুগসেরা মুহাক্কিক উলামায়েকিরাম সঠিক বরাতের ভিত্তিতে মওদূদী সাহেবের গোমরাহ চিন্তাধারাগুলোর তাত্ত্বিক পর্যালোচনা করে অনেক বই-পুস্তক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তন্মাধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম যথাক্রমে-১। মাওঃ মনজুর নো’মানীর “মাওঃ মওদূদী ছে মেরী রেফাক্বতকী ছার গুযাশ্‌ত” অনুবাদ “মাওঃ মওদূদীর সাথে আমার সাহচর্যের ইতিবৃত্ত”। ২। শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রঃ-এর “ফিতনায়ে মওদূদীয়্যাত”। ৩। বিশ্ববরেণ্য আলেম ও ইসলামী দার্শনিক জাস্টিস মুফতী, মাওঃ মুহাম্মাদ তক্বী উসমানীর “হযরত মুআ’বিয়া আওর তারিখী হাক্কায়েক” বাংলা অনুবাদ “ ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুআ’বিয়া” ৪। মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরীদপুরী রঃ-এর “ভুল সংশোধন” ও হযরত মাওঃ ইউসুফ বিন্নোরী রহ-এর-  الاستاذ المودودي وشيئ من حياته وافكاره    ইত্যাদি, বিস্তারিত দেখার প্রয়োজন বোধ করলে উপরোক্ত বাইগুলো দেখুন।


আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিত আমরা নিম্নে কয়েকটি মারাত্মক ভ্রান্তির উল্লেখ করে সেগুলোর সংক্ষিপত পর্যালোচনা করছি।


১। মওদূদী সাহেব “কুরআন কী চার বুনিয়াদী ইস্তেলাহেঁ” নামক পুস্তকে লিখেন:


الہ، رب، دین، اور عبادت یہ چار لفظ قران کی اصطلاحی زبان میں بنیادی اہمیت رکھتے ہیں- عرب مین جب قران پیش کیا اس وقت ہر شخص جانتا تھا کہ الہ کے کیا معنی ہیں اور رب کسے کہتے ہیں.........لیکن بعد کی صدیوں میں رفتہ رفتہ ان سب کے وہ اصل معنی جو نزول قران کےوقت سمجھے جاتے تھے بدلتے چلے گئے.........محض ان چار بنیادی اصطلاحوں کے مفہوم پر پردہ پڑ جانے کی بدولت قران کی تین چوتھائی سے زیادہ تعلیم بلکہ اسکی حقیقی روح نگاہوں سےمستور ہوگئی .


অর্থঃ ইলাহ, রব দ্বীন ও ইবাদত এই চারটি শব্দ কুরআনের পরিভাষায় মৌলিক গুরুত্ব রাখে, আরবে যখন কুরআন নাযিল হয় এই শব্দগুলোর মর্ম সকলেই জানত, কিন্তু পরবর্তী শতাব্দিসমূহে ক্রমে ক্রমে কুরআন নাযিলের সময়কার অর্থ নিজ ব্যাপকতা হারিয়ে একেবারে সীমিত বরং অস্পষ্ট অর্থের জন্যে নির্দিষ্ট হয়ে যায়........। আর বাস্তবে এই চারটি মৌলিক পরিভাষায় অর্থে আবরণ পড়ে যাওয়ার কুরআনের তিন চতুর্থাংশেরও বেশী শিক্ষা বরং মূল স্প্রিটই দৃষ্টির অগোচরে চলে যায়। পৃষ্ঠা ৮,৯১০


পর্যালোচনা: বাস্তবেই ইলাহ, বর, দ্বীন ইবাদত শব্দগুলো কুরআনের মৌলিক পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত। কুরআনের অধিকাংশ বিষয় বস্তুর সাথেই শব্দগুলোর যে কোন ভাবে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। শব্দগুলোর সহীহ মর্ম অস্পষ্ট হয়ে গেলে কুরআন বুঝা সম্ভব হবে না এবং তদনুযায়ী আমল করাও যাবে না। মওদূদী সাহেবের মতে সাহাবাদের যামানা তথা ১ম শতাব্দীর পর হতে এগুলোর সঠিক মর্ম অদৃশ্য হয়ে গেছে, সাথে সাথে কুরআনের তিন চতুর্থাংশ শিক্ষা বরং মূল স্প্রটই পর্দার অন্তারালে চলে গেছে।


অথচ কুরআন আল্লাহ তা‘আলার সর্বশেষ কিতাব। পূর্ববতী সব আসমানী কিতাব এর দ্বারা রহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ নাযিলের পর কিয়ামত অবধি ও কিতাব কোন অংশেও কখনো রহিত হবে না। কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের পরিপূর্ণ হিদায়াতের একমাত্র মাধ্যমে এ কুরআন। সকল যুগের সর্বজনের জন্যেই পথ প্রদর্শক এ কুরআন। কাজেই কিয়ামতের আগ পর্যন্ত এর শব্দাবলী হুবহু বিদ্যমান থাকা চাই, তেমনিভাবে সব সময়ের জন্যে এর মর্মার্থও থাকা চাই অবিকৃত ও সহজবোধ্য, সাথেই কুরআনের আমলী নমুনাও থাকতে হবে নাযিল হয়া থেকে কিয়ামত পূর্বপর্যন্ত একই সূত্রে গাঁথা।


শব্দ, অর্থ ও বাস্তব নমুনা কোন একটিও যদি অস্পষ্ট ও বিকৃত হয়ে যায় বা মাঝপথে তা পর্দার অন্তরালে চলে যায়। তাহলে পরবর্তীদের জন্যে এ কিতাব আর হিদায়াতের কাজ দিতে পারবে না। পক্ষান্তরে এ গুলোর যথাযথ সংরক্ষণ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয় কাজেই আল্লাহ তা‘আলা-ই এগুলোকে সংরক্ষণ করবেন এটাই স্বাভাবিক, তাই তো আল্লাহ তা‘আলা নিজ কালামে পাকে অত্যন্ত জোরালো ভাবে ঘোষণা করেছেন-{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ‌ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ۔}


অর্থঃ নিশ্চয়ই আমিই যিক্‌র তথা এ কুরআন নাযিল করেছি, এবং নিশ্চয়ই আমিই তা সংরক্ষণ করবো।(সূরায়ে হিজর আয়াত-৯)


আর সংরক্ষণের আওতায় উপরোক্ত সবগুলো বিষয় শামিল থাকা জরুরী। তাইতো শ্রেষ্ঠ মুফাসসির আল্লামা আলুসী বাগদাদী وআমিই তা সংরক্ষণ করবো” এর তাফসীরে বলেন-


{وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} اي من كل ما يقدح فيه كالتحريف والزيادة والنقصان .....وقال الحسن حفظه بقاء شريعته الي يوم القيامة-


অর্থঃ (এবং নিশ্চয় আমিই তা সংরক্ষণ করবো) তথা অর্থগত বিকৃতি, সংযোজন ও বিয়োজন জাতীয় সব ধরনের ত্রুটি হইতে ......... এবং হযরত হাসান বছরী বলেন কুরআনের সংরক্ষণের অর্থ কুরআনের শরীয়ত (আমল পদ্ধতি) কে কিয়ামত পর্যন্ত বাকি রাখা। (রুহুল মাআনী ১৪ পারা পৃঃ ২৪)


অপর এক আয়াতে ইরশাদ করেন-{ لَّا يَأْتيهِ الْبَاطِلُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ ۖ }


অর্থঃ সম্মুখ কিংবা পশ্চাৎদিক হতে কোন বাতিল (বিকৃতি ও মিথ্যা) এই কিতাবে প্রবেশ করতে পারবে না।   (সূরায়ে হা-মীম সিজদা আয়াত ৪২)


তেমনিভাবে আল্লাহর রাসূলও ঘোষণা করে গেছেন-يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله....الخ


অর্থঃ এই ইল্‌ম (কুরআন ও হাদীস)কে সঠিক ভাবে ধারণ করে যাবে পরবর্তী প্রত্যেক যুগের যোগ্য বান্দারা- যারা দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন কারীদের বিকৃতি, বাতিলদের বিভ্রান্তি ও অজ্ঞদের অপব্যাখ্যা হতে কুরআনও হাদীসের ইল্‌মকে মুক্ত রাখবে।   (মিশকাত শরীফ ৩২ পৃঃ)


অপর এক হাদীসে ইরশাদ ফরমান-


لا تزال من امتي امة قائمة بامرالله لايضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتي يأتي امر الله وهم علي ذلك . متفق عليه


অর্থঃ আমার উম্মতের প্রকটি দল সব সময়েই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। কোন হেয় প্রতিপন্নাকারী কিংবা বিরুদ্ধাচারী তাদেরকে হক হতে বিচ্যুত করতে পারবে না। (মিশকাত শরীফ ৫৮৩ পৃঃ)


উল্লেখিত আয়াতদ্বয় ও হাদীস দু‘টির দ্বারা এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, কুরআনে পাকের শব্দ, অর্থ ও আমল পদ্ধতি সর্বদা স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক সংরক্ষিত ছিল, আছে ও থাকবে। সেই সূত্রে উম্মতের একটি দলকে আল্লাহ তা‘আলা সর্বদা কুরআন হাদীসের সঠিকভাবে ধারণকারী ও হকের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন।


কিন্তু উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলোর সাথে মুওদূদী সাহেবের বক্তব্য সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাছাড়া অযৌক্তিকও বটে। কারণ প্রথম শতাব্দীর পর হতে কুরআনের মৌলিক পরিভাষা সহ তিনচতুর্থাংশ শিক্ষা বরং মূল স্প্রীটই লোকন্তরে চলে গেলে উক্ত কুরআনের সর্বকালীন ও সার্বজনীন পূর্ণ হিদায়াতের কিতাব হওয়ার কি অর্থ থাকে?


তাছাড়া ইলাহ রব এ শব্দগুলোর সাথে মানুষের ঈমানের সম্পর্ক। যদি ইলাহের অর্থই অস্পষ্ট থাকে বা বিকৃত থাকে তবে মানুষ    لا اله الا اللهপড়ে ঈমান আনবে কি করে? তেমনি ভাবে ১ম শতাব্দীর পর হতে এ শব্দ চতুষ্ঠয়ের অর্থ যদি ব্যাপক ভাবে মানুষ ভুলে বসে তাহলে তেরশত বছর পর মওদূদূ সাহেবই বা এগুলোর সঠিক অর্থ উদঘাটন করে তাফসীর লিখে বসলেন কি ভাবে?


বস্তুত কুরআনের মৌলিক পরিভাষা সমূহের সম্পর্কে মওদূদী সাহেবের উক্ত বক্তব্য মেনে নিলে এবং সাহাবায়ে কিরামের যামানা হতে এ যাবত তাফসীরে কুরআনের বড় একটি ধারাকে অব্যাহত না ধরলে, কুরআন ও দ্বীন বিকৃতির দ্বারা একেবারেই উন্মুক্ত হয়ে যায়। কারণ যে কেউ পূববর্তী তাফসীর সমূহকে ভুল আখ্যা দিয়ে নিজে মনগড়া একটি তাফসীর করে সেটাকেই সঠিক বলতে সুযোগ পাবে; তখন তার ভুল ব্যাখ্যাকে ভুল বলার দলীল কোথায় পাওয়া যাবে ?


(২) মওদূদী সাহেব তানকীহাত নামক বইয়ে লিখেন-


قران اور سنت رسول علیہ الصلوۃ والسلام کی تعلی سب پر مقدم مگر تفسیر وحدیث کے پرانے ذخیروں سے نہیں ........اسلامی قانون کی تعلیم بھی ضروری ہے مگر یہاں بھی پرانی کتابیں کام نہ دینگی-


অর্থঃ কুরআন, সুন্নাহর শিক্ষাই সবার উপরে। কিন্তু তার তাফসীর ও হাদীসের পুরাতন ভান্ডার হতে নয়। ইসলামী আইনের শিক্ষাও আবশ্যক, তবে এক্ষেত্রেও পূর্বের কিতাব সমূহ কাজে আসবে না। তানকীহাত - ১৭৫


অন্যত্র লিখেনঃ


قران کےلئےکسی تفسیر کی حاجت نہیں ایک اعلی درجہ کا پروفیسر  کافی ہے، جس نے قران کا بنظر غور مطالعہ کیا ہو اور جو طرز جدید پر قران پڑھانے اور سمجھانے کی اھلیت رکھتا ہو .........الخ۔



অর্থঃ কুরআনের জন্যে কোন তাফসীরের প্রয়োজন নাই। একজন উচুঁ মানের প্রফেসরই যথেষ্ট যে গভীর দৃষ্টিতে কুরআন অধ্যয়ন করেছে এবং নতুন পদ্ধতিতে কুরআন পড়ানোর ও বুঝানো যোগ্যতা রাখে। তান্‌কীহাত ২৯১


পর্যালোচনাঃ


মাওদূদী সাহেবের মতে কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী আইন শিক্ষার জন্যে একদিকে যেমন তাফসীর ও হাদীসের পুরাতন ভান্ডারের প্রয়োজন নাই অপর দিকে এর জন্যে আলেম হওয়ার কোন জরুরী নয়, বরং গভীর দৃষ্টিতে অধ্যয়ন করলে এসবের জন্যে একজন প্রফেসরও যথেষ্ট।


অথচ সর্বজনবিদিত যে, কুরআনের প্রথম ব্যাখ্যাকার হলেন স্বয়ং রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর তাঁর ব্যাখ্যার নামই হল হাদীস। রাসূলের হাদীসের আলোকে ও কুরআন নাযিলের প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাকার হলেন জামাআতে সাহাবা, যে ব্যাখ্যার নাম হল আ-ছা-রে সাহাবা। হাদীস ও আছারে সাহাবার আলোকে কুরআনের তাফসীর ও ইসলামী আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে গেছেন, এ কাজের জন্যে প্রয়োজনীয সকল জ্ঞানে সর্বোচ্চ পারদর্শী আঈম্মায়ে কিরামগণ, যা নিশ্ছিদ্র সূত্র পরস্পরায় আজো উম্মতের নিকট হুবহু সংরক্ষিত। পরবর্তী বিদগ্ধ উলামাগণ সময় ও প্রেক্ষাপটভেদে সেই পুরাতন ভান্ডারেরই যুগপোযুগী বিশ্লেষণ করেছেন। গ্রহণযোগ্য বরাতের হাদীস ও আছারে সাহাবা এবং উৎসদ্বয়ের আলোকে কৃত তাফসীরের সাথে সাংঘর্ষিত কেনা তাফসীর যেমন তারা নিজেরা করেননি, তেমনি কেউ করে থাকলে তাকে বাতিল বলে বর্জন করেছেন। এটাই মূলতঃ সঠিক ও নিরাপদ রাস্তা, এ রাস্তায় কোন বিকল্প নাই। কারণ হাদীস ও আছারে সাহাবার ভান্ডার পুরাতন হয়ে গেছে। সেগুলোর আলোকে কৃত তাফসীরও পুরাতন। নতুন হয়ে আবির্ভুত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই, এখন যদি সে গুলো হতে বিমূখ হয়ে কোন তাফ্‌সীর, সুন্নাত বা আইন আবিষ্কার করা হয়। তাহলে সেটা হবে মনগড়া, যার পরিণতি নিশ্চিত গোমরাহী বিশ্বাস না হলে খুলে দেখুন গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী ও স্যার সৈয়দ-আহমাদ খানের তাফসীরের কিতাবগুলো।


এমন গোমরাহী হতে উম্মতকে বাঁচানোর জন্যেই আল্লাহর রাসূল অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর ভাষার বলে গেছেনঃ


من قال في القران برأيه فليتبوأ مقعده من النار .


অর্থঃ যে ব্যক্তি কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা করবে সে যেন জিন ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। -তিরমিযী ২:১২৩ ও মিশকাত শরীফ ৩৫ পৃঃ


অপর হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে –   من قال في القران برأيه فاصاب فقد اخطأ . অর্থঃ যে ব্যক্তি কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা করবে সে (ঘটনাক্রমে) সঠিক ব্যাখ্যা করলেও তা ভুল গণ্য হবে। -তিরমিযী ২:১২৩ ও মিশকাত শরীফ ৩৫ পৃঃ


মোটকথা হাদীস ও আ-ছা-রে সাহাবার সেই পুরানো ভান্ডার বাদ দিয়ে মনগড়া তাফসীর গোমরাহীর মোক্ষম হাতিয়ার; যার কারণে এর পরিনতি জাহান্নাম এবং এমন তাফসীর সবাংশেই ভুল গণ্য হবে। হাদীসের আলোকে এমন তাফসীরের মোটেও অনুমতি নাই। এক্ষেত্রে মওদূদী সাহেবের পূর্বোক্ত দুইটি বক্তব্যই সরাসরি হাদীস পরিপন্থী।


তাছাড়া মওদূদী সাহেবের বক্তব্য পরস্পরে বিরোধীও বটে। কারণ وকুরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা নামক পুস্তকের বক্তব্য অনুসারে ছাহাবায়ে কিরামের পরবর্তী যুগে কুরআনের তিন চতুর্থাংশের শিক্ষায় পর্দা পড়ে গেছে অর্থাৎ তাঁর মতে আঈম্মায়ে মুজতাহেদ্বীন, মুফাচ্ছেীরন ও মুহাদ্দেসীনদের মত যুগশ্রেষ্ঠ মহা মনীষীগণের দ্বারাও কুরআনের এক চতুর্থাংশের বেশী সঠিক শিক্ষা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। যদি তাই বাস্তব হয়ে থাকে তাহলে তেরশত বছর পর কি করে মওদূদী সাহেবের মত একজন অপূর্ণ শিক্ষিতের জন্যে তাফসীর ও কুরআনের শিক্ষা উদঘাটন এত সহজ হয়ে গেল? কিভাবে তিনি একজন প্রফেসরের জন্যে তাফসীরের সনদবিতরণ করতে সক্ষম হন? তার আবার হাদীস ও পূর্বের তাফসীরের ভান্ডারকে বাদ দিয়ে।


সারকথা তান্‌কীহাতে উদ্ধৃত মওদুদী সাহেবের কথা দু’টি শরীয়াত ও বিবেক বিরোধী। স্বয়ং তারই অপর বক্তব্যের পরিপন্থী। অথচ তিনি তার তাফসীর গ্রন্থে তানকীহাতে উদ্ধৃত বক্তব্যকেই প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। যথাঃ মওদূদী সাহেব তাঁর তাফসীরের ভূমিকার পূর্বে “প্রসঙ্গ কথায়” লিখেছেন যে, আমি “তাফহীমুল কুরআনে” কুরআনের শব্দাবলীকে উর্দূর লেবাস পরানোর পরিবর্তে এই চেষ্টাই করেছি যে, কুরআনের বাক্য সমূহ পড়ে যে অর্থ আমার বুঝে এসেছে এবং উক্ত আয়াত সম্পর্কে আমার মনে যে প্রভাব পড়েছে যথা সাধ্য সঠিক ভাবে উহাকে নিজ ভাষায় ব্যক্ত করে দেই।(তাফহীমুল কুরআন উর্দূ পৃঃ ১০ ১ম খন্ড)


কথাটির ব্যাপারে চিন্তা করে দেখুন! আয়াতের সম্পর্কে রাসূল কি বলেছেন, ছাহাবগণ কি বলেছেন, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ কি বলেছেন, এসব কিছু বাদ দিয়ে তাঁর মনে যে প্রভাব পড়েছে তা দিয়ে তিনি তাফসীর লিখে ফেললেন। এটা ভ্রান্তি না হলে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে যারা খতমে নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে, যারা আম্বিয়ায়ে কিরামের মু’জিযা সমূহকে স্বীকার করেছে, তাদেরকে কেন ভ্রান্ত বলা হবে? হাদীস ও আছারে সাহাবা এবং পুরাতন তাফসীর ভান্ডার ছাড়া মওদূদী সাহেবের তাফসীর ও কাদিয়ানীর তাফসীরের মধ্যকার পার্থকটা কি দিয়ে নির্ণয় করা হবে?


(৩) দ্বীন সম্পর্কে মওদূদী সাহেবের কয়েকটিবক্তব্য নিরুরূপ-


(ক)   اس تشریح سے یہ بات صاف ہوجاتاہے کہ دین در اصل حکومت  کا نام ہے –شریعت اس حکومت  کا قانون ہے ۔


(দ্বীনের অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ ভূমিকার পর তিনি বলেন উক্ত ব্যাখ্যার আলোকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, দ্বীন মূলতঃ রাষ্ট্রের নাম, শরীয়ত হল সে রাষ্ট্রের বিধান। খুতবাত ৩২০ পৃঃ


আরেকটি বক্তব্যঃ


 (খ)     سب سے بڑی غلطی یہی ہے کہ اپ نے نماز روزوں کے ارکان اور ان کی ظاہری صورت  ہی  کو اصل عبادت سمجہ رکہا ہے اور آپ اس خیال خام میں مبتلا ہو گئے ہیں کہ جس نے یہ ارکان پوری طرح ادا کر دیئے اس نے بس اللہ کی عبادت  کردی۔


অর্থঃ সর্বাপেক্ষা বড় ভুল এই যে, আপনি নামায রোযার আরকান ও বাহ্যিক আকৃতিকেই আসল ইবাদত মনে করেছেন।এবং আপনি এই খাম খেয়ালীপনায় লিপ্ত যে-যে ব্যক্তি এই আরকান সমূহকে পূর্ণরূপে আদায় করলে সে আল্লার ইবাদত করে নিল। খুত্‌বাত ১৯২পৃঃ


অপর একটি বক্তব্যঃ


(গ) سلام کا مقصد حقیقی محتصر الفاظ میں تو صرف اتنا کہ دیناہی کافی ہے کہ وہ مقصد انسان پر  سے انسان کی حکومت  کو مٹا کر خدائے واحد کی حکومت قائم کرنا ہے اور اس مقصد کیلئے سردھڑی کی بازی لگا دینے اور جان توڑ کوشش کرنے کا نام جہاد ہے اور نماز،


روزہ، حج، زکوۃ سب اسی کام کی تیاری کی لیئے ہیں......عبادات ایک تربیتی کورس ہیں، نماز ، روزہ اور یہ زکوۃ اور حج در اصل اسی تیاری اور  تربیت کےلئے ہیں۔


অর্থঃ ইসলামের মূল উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্ত কথায় মানুষের উপর মানুষের শাসন মিটিয়ে এক খোদার শাসন কায়েম করা। এর জন্যে মস্তক-মেরুদন্ডের বাজি লাগিয়ে আপ্রাণ চেষ্টার নাম জিহাদ। নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত এসব সে উদ্দেশ্যেরই প্রস্তুতির জন্যে ..... ইবাদাত একটি ট্রেনিং কোর্স। নামায, রোযা, যাকাত ও হজ্ব মূলতঃ তারই প্রস্তুতি ও ট্রেনিংয়ের জন্যে। খুতবাত ৩০৭ ও ৩১৫ পৃঃ


আরেকটি বক্তব্যঃ


(ঘ) حکومت کے بغیر دین بالکل ایسا ہے جیسے ایک عمارت  کا نقشہ آپ کے دماغ میں ہو مگر عمارت  زمین پر موجود نہ ہو، ایسے دماغی نقشے کے ہونے کا فائدہ ہی کیا ہے؟


অর্থঃ রাষ্ট্র ছাড়া দ্বীন অবিকল একটি বিল্ডিংয়ের কাল্পনিক চিত্র, ভূ-পৃষ্ঠে যার অস্তিত্ব নাই। এমন কাল্পনিক চিত্রের ফায়দাটাই বা কি? -খুতবাত ৩২২ পৃঃ


আরো একটি বক্তব্যঃ


(ঙ) لیکن حقیقت یہ ہے کہ اسلام کسی مذہب کا اور  مسلمان کسی قوم کا نام نہیں ہے۔ بلکہ دراصل ایک انقلابی نظریہ ومسلک ہے۔


অর্থঃ বাস্তব কথা হল ইসলাম কোন ধর্মের নাম নয়। এবং মুসলমান কোন জাতির নাম নয়। বরং মূলতঃ ইসলাম একটি বিপ্লবী চিন্তাধারা ও পদ্ধতি এবং মুসলমান সেই আন্তর্জাতিক বিপ্লবী বাহিনীর নাম। তাফহীমাত ১ম খ- ৭৭ পৃঃ


সার সংক্ষেপঃ মওদূদী সাহেবের মতে-(ক) দ্বীন মূলতঃ রাষ্ট্রের নাম।


(খ) রাষ্ট্র ছাড়া দ্বীন অস্তিত্বহীন কাল্পনিক চিত্রের ন্যয় নিরর্থক।


(গ) ইসলাম একটি বিপ্লবী চিন্তাধারার নাম। ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাতকে ইবাদত মনে করা মারাত্মক ভুল। বরং নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি জিহাদ ও রাষ্ট্র কায়িমের জন্যে ট্রেনিং কোর্স মাত্র।


পর্যালোচনাঃ


মওদূদী সাহেব দ্বীনের যে ব্যাখ্যা করেছেন তা মূলতঃ দ্বীনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। শরয়ী ব্যাখ্যা আদৌ নয়। কারণ আল্লাহ পাক স্বীয় কালামে পাকে ইরশাদ করেন- {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ } [آل عمران : 19]


অর্থঃ ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন।


সূরায়ে আলে ইমরান আয়াত-১৯। (অনুবাদ তাফহীমুল কুরআন বাংলা)


উক্ত আয়াতে স্পষ্টভাবে বুঝা গেল আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। এবার দেখুন ইসলাম কি জিনিস। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল কি বলেছেন, বুখারী মুসলিম শরীফে সর্বসম্মত সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে একদা হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় হযরত জিব্রাঈল আ. এক অপরিচিত লোকের আকৃতি ধারণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে রাসূলের হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলিয়ে বসে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। প্রথম প্রশ্নটি ছিল এরূপঃ হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে ইসলামের ব্যাখ্যা বলুন, তদুত্তরে রাসূল বললেনঃ ইসলাম হল- তুমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। এবং তুমি নামায কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে। রমযানে রোযা রাখবে ও বাইতুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ হলে হজ্ব আদায় করবে। এ উত্তর শুনে জিব্রাঈল আ. বললেন আপনি সঠিক বলেছেন। বুখারী মুসলিম সূত্রে মিশকাত শরীফ কিতাবুল ঈমানের প্রথম হাদীস। হাদীসটি হাদীসে জিব্রাঈল নামে প্রসিদ্ধ।


মোটকথা আল্লাহপাক বললেন যে, তার নিকট একমাত্র দ্বীন হচ্ছে ইসলাম আর রাসূল বললেন, আল্লাপকে একমাত্র ইলাহ ও মুহাম্মাদকে তাঁর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেওয়া, নামায পড়া, যাকাত দেওয়া, রোযা রাখা ও হজ্ব করা হচ্ছে ইসলাম, জিব্রাঈল তা সত্যায়ন কররেন, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং ওহীর বাহক জিব্রাঈলের মতে দ্বীন হচ্ছে- ঈমান, নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত। এ কারণে মুসলিম উম্মাহর আক্বীদাও তাই। অথচ মওদূদী সাহেব বললেন এগুলো দ্বীন নয়। দ্বীন হচ্ছে وরাষ্ট্র ও জিহাদ” আর রাষ্ট্র অর্জনের ট্রেনিং হল নামায রোযা, হজ্ব, যাকাত। রাষ্ট্র ছাড়া এসব ইবাদাতও নিরর্থক ও অস্তিত্ববিহীন কাল্পনিক নক্‌শা।


আল্লাহর ও তাঁর রাসূল এবং জিব্রাঈলের বর্ণনার বিপরীতে দ্বীনের এহেন ব্যাপারকে যদি অপব্যাখ্যা না বলা যায় তাহলে অপব্যাখ্যা আর কোন বস্তুকে বলবে?


বস্তুতঃ কুরআনের বহু আয়াত এবং রাসলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীসের দ্বারা একথা একদম পরিষ্কার যে দ্বীনের মূল বিষয় ঈমান, নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত, বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ তা‘আলার মূল চাওয়া এগুলোই। আরো কিছু ইবাদাত আছে তবে সেগুলো প্রাসঙ্গিক বা সম্পূরক। তাছাড়া বান্দাদের পরস্পরে  চলতে গেলে পারিবারিক বিষয়, সামাজিকতা-জাতীয়তা ও লেন-দেনের প্রসঙ্গ আসে। সেগুলোও যেন খোদার মর্জীতে হয়ে বান্দা আরামে জীবন-যাপন করতে পারে এজন্যে মুআমালাত, মুআশারাত, আখলাক ও সিয়াসাত বা হুকুমত তথা শাসন বিষয়ক বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে। আর মূল ইবাদত সহ অন্যান্য বিধি বিধান সূচারু রূপে আঞ্জাম দেওয়ার দ্বারা বান্দা হবে ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহর খলীফা তথা প্রতিনিধি। এ প্রতিনিধিত্ব যে মানবে না বা এতে যে বাধা দিবে তার বিরুদ্ধে মুসলমান জিহাদ করবে। এক কথায় ঈমান ও মৌলিক ইবাদাত তথা নামায রোযা, যাকাত, হজ্ব, এগুলোই দ্বীনের মূল ও কান্ড। আর জিহাদ সিয়াসত সহ অন্য সব বিধি-বিধান হল নিজ নিজ পজিশনভেদে শাখা-প্রশাখা, এ-কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিষ্কার ভাবে ঘোষণা করে গেছেন।


عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم (بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة والحج وصوم رمضان) رواه البخاري في صحيحه برقم:8 ,ومسلم برقم:122


অর্থঃ ইসলাম তথা দ্বীনের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপরঃ একমাত্র আল্লাহকে ইলাহ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেওয়া-নামায কায়িম করা, যাকাত দেওয়া, হজ্ব করা; ও রামাযানের রোযা রাখা। )বুখারী ও মুসলিম(


কিন্তু মওদূদী সাহেব রাসূলের এ ঘোষণার বিপরীতে হুকুমাত তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও জিহাদকে মূল দ্বীন আর নামায, রোযা, যাকাত, হজ্ব কে তার ট্রেনিং বলার মাধ্যমে শাখা-প্রশাখাকে মূল ও কান্ড, আর মূল ও কান্ডকে শাখা-প্রশাখা বানিয়ে দিলেন, যাতে রয়েছে আক্বীদার খারাবীসহ আরো বহুবিধ খারাবী, যা বিবেকবান মাত্রই বুঝতে পারছেন।


৪। জনাব মওদূদী সাহেবের একটি মৌলিক থিওরী তিনি এভাবে প্রকাশ করেনঃ


رسول خدا کے سوا کسی انسان کو معیار حق نہ بنائے ، کسی کو تنقید سے بالاتر نہ سمجھے، کسی کی ذھنی غلامی میں مبتلاء نہ ہو-


অর্থঃ রাসূলে খোদা ছাড়া অন্য কাউকে সত্যেও মাপকাঠি বানাবে না। কাউকে সমালোচনার উর্দ্ধে মনে করবে না। কারো মানুষিক গোলামীতে লিপ্ত হবে না। (দস্তুরে জামাআতে ইসলামী পৃঃ ১৪, সত্যেও আলো পৃঃ ৩০)


এই থিওরীর উপর ভিত্তি করে তিনি অন্যত্র লিখেনঃ


میں نے دین کو حال یا ماضی کے اشخاص سے سمجھنے کی بجائے ہمیشہ قران و سنت  ہی سے سمجھنے کی کوشش کی ہے -


অর্থঃ আমি অতীত বা বর্তমানে ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে দ্বীন বুঝার পরিবর্তে সর্বদা কুরআন সুন্নাহ থেকেই বুঝতে চেষ্টা করেছি। এ কারণে খোদার দ্বীন আমার ও প্রত্যেক মুমীনের নিকট কি চায় তা জানার জন্যে এটা দেখতে চেষ্টা করিনি যে অমুক-অমুক বুজুর্গ কি বলেন। বরং সর্বদা এটাই দেখতে চেষ্টা করেছি যে, কুরআন কি বলে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছেন। -রুয়েদাদে জামাআত তৃতীয় খন্ড পৃঃ ৩৭ সূত্র মওদূদী ছাহেব আওর উনকী তাহরীরাত পৃঃ ৯০ প্রকাশঃ দারুল ইশাআত -করাচী।


সারকথা মওদূদী সাহেবের মতে সত্যকে জানার ও অনুসরণের জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর আর কোন নির্ভর যোগ্য মাধ্যম নাই। এই থিওরীর অন্তরালে তিনি কুরআন ও হাদীস থেকে দ্বীনকে বুঝার ও অনুসরণের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেছেন।


এছাড়া সাহাবায়ে কিরামের জীবনে বিভিন্ন ভাবে কালিমা লেপনের জন্যে তিনি “খেলাফত ও মুলুকিয়্যাত” নামে স্বতন্ত্র কিতাবও লিখেছেন। সবগুলোরই সারকথা হল যে, সত্যকে জানা ও মানার জন্যে সাহাবাদের জামাত নির্ভরযোগ্য নয়, বরং জামাআতে সাহাবার উপর নির্ভর করা যাবে না। তাঁদের অনেকেই পাপী ছিলেন এজন্যে তাঁরা পরবর্তীদের যাচাই বাছাইয়ের ঊর্ধ্বে নন।


অথচ ইসলামে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই তার ব্যাপ্তি, এসব ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল শুধু বিধান শুনিয়ে ক্ষান্ত হননি বরং বিধান সমূহ কার্যকর করে দুনিয়ার সামনে তার আমলী নমুনা রেখে গেছেন। আর আল্লাহ ও তার রাসূলের বিধানাবলীর কার্যক্ষেত্রই ছিল যে পরিবার, যে সমাজ, যে রাষ্ট্র তার নাম জামাআতে সাহাবা। শুধু বিধান বলে গেলে কার্যক্ষেত্রে তার রূপরেখাকে বিকৃত করে ফেলত পরবর্তী যুগের বক্র স্বভাবের লোকেরা। তার থেকে হেফাজতের জন্যেই প্রয়োজন ছিল উক্ত জামাআতে। আর যেহেতু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানাবলীর প্রাক্টিক্যাল রূপই হচ্ছে সাহাবায়ে কিরামের জীবনী, তাই মূল বিধানাবলীর অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের জীবনও হবে মাপকাঠি। এটাই স্বাভাবিক|এই কারণে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে সাহাবায়ে কিরামের ঈমান, আমল ও ইলমকে অন্যদের জন্যে অনুসরণীয় হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে যথাঃ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ


فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنذم بِهِ فَقَدِ اهْذدَوا ۖ وَّإِن ذوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّـهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٣٧


অর্থঃ(সাহাবাদের লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে) তারা যদি তোমাদের মত ঈমান আনয়ন করে তাহলে হেদায়াত পাবে আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারাই হঠকারিকতায় রয়েছে। -সূরায়ে বাকারা আয়াত ১৩৭


অন্যত্র ইরশাদ করেনঃ


وَمَن يُشَاقِقِ الرَّ‌سُولَ مِن بَعْدِ مَا تبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتبِعْ غَيْرَ‌ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا توَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَت مَصِيرً‌ا ﴿١١٥


অর্থঃ আর যে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমনিদের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে আমি তাকে সেদিকেই ফিরাব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা হল নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থান। (সূরায়ে নিসা -আয়াত ১১৫)


এই আয়াতে মুমনিদের পথ বলতে প্রথমতঃ যারা উদ্দেশ্য তারা হলেন জামায়াতে সাহাবা।


অন্য আয়াতে কুরআনে পাক প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-


بَلْ هُوَ آيَات بَيِّنَات فِي صُدُورِ‌ الَّذِينَ أُوتوا الْعِلْمَ ۚ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ ﴿٤٩


অর্থঃ বরং যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদের অন্তরে ইহা তো স্পষ্ট আয়াত - সূরায়ে আনকাবূত ৪৯। এই আয়াতেও যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদের দ্বারা প্রথম উদ্দেশ্য সাহাবায়ে কিরাম।


পক্ষান্তরে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও বিভিন্ন হাদীসে সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণের তাকীদ করেছেন যথাঃ –


قال رسول اللہ صلی اللہ علیھ وسلم ستفترق امتی ثلاثا وسبعین فرقۃ کلھم فی النار الا واحدۃ ، قالوا من ھی یا رسول اللہ قال ما انا علیھ واصحابی -


অর্থঃ অতিশ্রীঘ্র আমার উম্মত তেহাত্তর ফেরকায় বিভিক্ত হয়ে পড়বে তন্মধ্যে একটি জামাআত হবে জান্নাতী আর বাকীগুলো হবে জাহান্নামী। উপস্থিত সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতী দল কারা হবে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলরেনঃ যারা আমার ও আমার সাহাবাদের তরীকার অনুসারী হবে।(তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ড পৃঃ ৯৩)


অন্য হাদীসে ইরশাদ ফরমানঃ   فعليكم بسنتي وسنت الخلفاء الراشدين


অর্থঃ(উম্মতকে লক্ষ্য করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন) তখন তোমাদের জন্যে আমার ও খোলাফায়ে রাশেদীনের তরীকা মত চলা অত্যাবশক। (আবু দাউদ শরীফ ২-৬৩৫)


এছাড়াও কুরআনের বহু আয়াত ও রাসূলের বহু হাদীস দ্বারা এ কথা সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত যে, কুরআন-হাদীস মুতাবিক ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ জরুরী। এক্ষেত্রে সাহাবাদের পথ ও মতকে বর্জন করে কুরআন হাদীসের জ্ঞানার্জন ও তদুনযায়ী আমল সম্ভব নয়। লক্ষাধিক সাহাবীর মধ্যে সবাই অনুসরণেযোগ্য। কুরআন হাদীসের কোথাও এ ক্ষেত্রে কোন সাহাবীকে বাদ দেওয়া হয় নাই। কোন সাহাবীর দ্বারা কখনো গুনাহ হয়ে গেলে তাও হয়েছে গুনাহের পরে তাওবার পদ্ধতির ক্ষেত্রে উম্মতের অনুসরণযোগ্য হওয়ার জন্যেই। দ্বিতীয়তঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু সবকিছু বাস্তব নমুনা হিসাবে দেখিয়ে গেছেন তাই ইসলামী দন্ডবিধির বাস্তব প্রয়োগবিধি শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে দু একজন সাহাবী থেকে ভুল প্রকাশ পেয়েছে। একারণেই রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেঃ


 قال رسول الله صلي الله عليه وسلم أوحي الله يا محمد ان اصحابك عندي كالنجوم بعضها اضوأ من بعض ولكل نور فمن اخذ بشي مماهم عليه من اختلافهم فهو عندي علي الهدي – رواه الدارقطني-


অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন আল্লাহ অহী পাঠিয়েছেন যে, হে মুহাম্মাদ! আপনার সাহাবীগণ আমার নিকট নক্ষত্রতুল্য, কেউ অতি উজ্জল কেউ তার চেয়ে কম, তবে সকলেরই আলো আছে। অতএব, তাদের মতবিরোধের ক্ষেত্রেও যে কোন এক পক্ষকে অনুসরণ করলেই সে অনুসারী আমার নিকট হেদায়াত প্রাপ্ত বলে গণ্য হবে।


(কেননা, তাদের বিরোধ হবে ইজতেহাদী, আর সঠিক ইজতেহাদের কোন অংশকেই নিশ্চিত ভুল বলা যাবে না) হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও এমর্মে আরো অনেক হাদীস থাকায় এবং হাদীসটি বিষয় বস্তু কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও অপরাপর হাদীস সমর্থিত হওয়ায় হাদীসটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য(অবশ্য কারো মতে কুরআন-হাদীসের সমর্থন গ্রহণযোগ্য না হয়ে নিজের মনের সমর্থন গ্রহণ যোগ্য হলে তা ভিন্ন কথা)তাফসীরে মাযহারী ২য় খন্ড পৃঃ ১১৬


মোটকথা সাহাবায়ে কিরামের সত্যের মাপকাঠি হওয়ার বিষয়টি কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, সাথে সাথে যুক্তি সংগতও। অথচ মওদূদী সাহেব তাঁর দলের জন্যে আইন প্রণয়ন করে গেলেন যে, রাসূলে খোদা ছাড়া আর কাউকে যেন সত্রের মাপকাঠি না বানানো হয়। কি দোষ করেছেন হযরত আবু বকর ও উমার রা., যাদেরকে সত্যের মাপকাঠি বানানো যাবে না।হযরত উমার বিন আব্দুল আযীযের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, মুজাদ্দিদে আলফেসানীর সংস্কার, আঈম্মায়ে মুজতাহেদীনের ইজতেহাদ, হযরত আবদুল জিলানীর তাযকিয়া ও মা’রিফাতকে অনুসরণ করে যদি কোটি কোটি মানুষ হিদায়াতের ও নাজাতের আশা করতে পারে তাহলে রাসূলে আকরামের মত পরশ পাথরের ছোয়ায় ধন্য ও তার হাতে গড়া জামাআতের জীবনী, কথা ও কাজ কেন অনুসরনযোগ্য হবে না?


বস্তুতঃ রাসূল ছিলেন দ্বীন নামক দূর্গের নির্মাতা। সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন সে দুর্গের সুদৃঢ় প্রাচীন। তাদের উপর নির্ভর না করা হলে দ্বীনের ধ্বংস অনিবার্য। ইসলামের অতীত ইতিহাসের গোমরাহ দলগুলো সর্বদা এই প্রাচীরকেই ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছে।


তাছাড়া মওদূদী সাহেব শুধু সাহাবাগণকে সত্যের মাপকাঠি স্বীকার করেননি তা নয় বরং বিভিন্ন ভাবে সাহাবায়ে কিরামের কুৎসা রটিয়েছেন। সে সূত্রে তিনি বলেনঃ بسا اوقات صحابہ پر بھی بشری کمزوریوں  کا غلبہ ہو جاتا تھا


অর্থঃ সাহাবাদের উপর প্রায়ই মানবিক দুর্বলতা প্রভাব বিস্তার করত। - তাফ্‌হীমাত ৪র্থ সংস্করণ পৃঃ ২৯৬


সূত্রঃ মওদূদী ছাহেব আওর উন্‌কী তাহরীরাত ৮৫


তাছাড়া উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের (মওদূদীর ভাষায়) বড় বড় কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে জনাব মওদূদী লিখেনঃ যে সমাজে সুদের প্রচলন থাকে সেখানে সুদ খোরীর কারণে দুই ধরনের নৈতিক রোগ দেয়া দেয়। সুদ গ্রহণ কারীর মধ্যে লোভ-লালসা, কৃপনতা ও স্বার্থান্ধতা এবং সুদ প্রদানকারীদের মধ্যে ঘৃণা-ক্রোধ, হিংসা ও বিদ্বেষ জন্মে নেয়। উহুদের পরাজয় এ দুই ধরনের রোগের কিছু না কিছু অংশ ছিল।


তাফহীমুল কুরআন বাংলা ৪র্থ পারা ২য় খন্ড ৬৫ পৃঃ আধুনিক প্রকাশনী ৩য় সংস্করণ।


চিন্তা করে দেখুন! উদ্ধৃত প্রথম বক্তব্য দ্বারা যে মানবিক দুর্বলতার কথা বলেছেন তারই সম্ভবতঃ কিছুটা ব্যাখ্যা করেছেন উহুদের ঘটনায় গিয়ে। অর্থাৎ মানবিক দুর্বলতাগুলো ছিলঃ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, কৃপণতা ও ঘৃণা ইত্যাদি। অথচ উহুদ যুদ্ধে যারা শরীক ছিলেন, তারা সকলেই ছিলেন নবীজীর প্রথম সারির ছাহাবা। আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রশংসায় কত আয়াত নাযিল করেছেন। কিন্তু মওদূদী সাহেব নির্দ্বিধায় পাইকারী হারে তাদের দোষচর্চা করে গেলেন। শুধু তাই নয় আশারায়ে মুবাশ্‌শারাহ (জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন) থেকে শুরু করে কাতেবে ওহী পর্যন্ত অনেকেই রেহাই পাননি মওদূদী সাহেবের কলমের আক্রমন থেকে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ পাবেন মওদূদী সাহেবের লিখিত খেলাফত মূলুকিয়াত ও তার পাশাপাশি জাষ্টিস তকী উসমানীর লিখা “ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুআবিয়া” এবং হযরত শামছুল হক ফরদিপুরীর লেখা “ভুল সংশোধন” পড়ে দেখলে।


এসবের দ্বারা তিনি যেমন ছাহাবাদের পবিত্র জামাআতকে উম্মতের সামনে কলঙ্কিত করতে চেয়েছেন। অপরদিকে রাসূলের হাতে গড় স্বর্ণমানবদের দল ছাহাবাকে কলঙ্কিত করে স্বয়ং রাসূলকেও চরম ব্যথ্য প্রমাণ করতে প্রয়াস পেয়েছেন। কেননা, কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের জন্যে রূহানী চিকিৎসক যদি বছরকে বছর তার সংস্পর্শে থাকা রোগীদেরকেই পূর্ণ চিকিৎসা করতে না পারেন। বরং তার সংস্পর্শীদের মাঝে “প্রায়ই সে রোগগুলো প্রভাব বিস্তার করে থাকে”। তাহলে এমন চিকিৎসককে সফল কে বলবে ?


অথচ স্বয়ং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদের সম্পর্কে কটূক্তি কিংবা সমালোচনা করতে উম্মতকে বার বার এবং কঠোর ভাষায় নিষেধ করে গেছেন।


এ ব্যাপারে কয়েকটি হাদীস নিম্নে প্রদত্ত হল-


(ক) قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لا تسبوا اصحابي فان احدكم لو انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولانصيفه-


অর্থঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেন, তোমরা আমার সাহাবাদের মন্দ বলবেনা কেননা তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড়সম স্বর্ণ সদকা করলেও তাদের একসের বা আধাসেরের সমান হবে না। বুখারী মুসলিম - সূত্রঃ


মিশকাত পৃঃ ৫৫৩


(খ) عن عبد الله بن مغفل قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم الله الله في اصحابي لا تتخذوهم غرضا من بعدي فمن احبهم فبحبي احبهم ومن ابغضهم فببغضي ابغضهم.....الخ.


অর্থঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমানঃ আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহকে ভয় কর আমার সাহাবদের বিষয়ে। তাদেরকে সমালোচনার পাত্র বানাবে না। যারা তাদেরকে ভালবাসবে আমার মুহব্বতেই তা করবে।আর যারা তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে তারা আমার সাথেই শত্রুতাহেতু তাদের শত্রু হবে.....


তিরমিযী ২-২২৫ মিশকাত - ৫৫৪


(গ)  عن بن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رأيتم الذين يسبون أصحابي فقولوا لعنة الله على شركم.


অর্থঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান, তোমরা যখন ঐ সকল লোকদেরকে দেখবে যারা আমার সাহাবাদের মন্দ বলে তখন তোমরা বলবে তোমাদের অনিষ্টের প্রতি আল্লাহর লা’নত হোক।(তিরমিযী ২-২৫৫ মিশকাত ৫৫৪)


মোটকথা সাহাবায়ে কিরাম- আল্লাহ ও তাঁর রাসূরের দৃষ্টিতে অনেক সম্মানী জামাআত। আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সমালোচনার পাত্র বানাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। বিস্তরিত জানতে হলে দেখেন মুফতী শফী রহ. প্রণীত وমাকামে সাহাবা” নামক কিতাবটি।


আর এ কারণেই আকাইদের বিখ্যাত কিতাব “মুছায়রাতে” উল্লেখ করা হয়েছে যেঃ


واعتقاد اهل السنة و الجماعة تزكية جميع الصحابة وجوبا ......الخ.


অর্থঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বীদা হল যে, সকল সাহাবীকে নির্দোষ বলা ওয়াজিব। (মুসায়ারাহ পৃঃ ১৩২ দেওবন্দ। সূত্রঃ মাকামে সাহাবা - পৃঃ ৭৯)


তেমনিভাবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া লিখেনঃ


ومن اصول اهل السنة و الجماعة سلامة قلوبهم و السنتهم لاصحاب رسول الله صلي الله عليه وسلم .


অর্থঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মৌলিক বিশ্বাস হল যে, রাসূলের সাহাবাদের ব্যাপারে নিজ অন্তর ও জিহ্বাকে পরিষ্কার রাখবে। (শরহে আক্বীদায়ে ওয়াসিত্বিয়্যাহ পৃঃ ৪০৩ সূত্র মাকামে সাহাবা পৃঃ ৭৯)


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া আরো বলেন –


لا يجوز لاحد ان يذكر شيئا من مساويهم ولا ان يطعن علي أحد منهم بعيب و لا نقص فمن فعل ذلك وجب تاديبه


অর্থঃ সাহাবাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা কারো জন্যেই জায়িয নাই। যে এমন করবে তাকে শাস্তি দেওয়া ওয়াজিব। (আস্‌সারিমূল মাস্‌লুল। সূত্রঃ মাকামে সাহাবা – ৭৭)


ইমামা নববী বলেনঃ الصحابة كلهم عدول من لابس الفتن وغيرهم باجماع من يعتد به-


অর্থঃ গ্রহণযোগ্য সকলের এ ব্যাপারে ইজ্‌মা যে সকল সাহাবী নিরপরাধী, এমনকি যারা পরস্পর বিগ্রহে পতিত হয়েছেন তাঁরাও। (তাক্বরীব সূত্রঃ মাকামে সাহাবা - পৃঃ৭৭)


ইমাম মুসলিমের উস্তাদ ইমাম আবু যরআহ বলেনঃ


 اذا رأيت الرجل ينتقص أحدا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم انه زنديق .


অর্থঃ যখন কাউকে কোন সাহাবীর দোষ-বর্ণনা করতে দেখ তাহলে জেনে নাও যে সে হল যেন্দীক্ব (র্ধমদ্রোহী)। আদ্‌দুররাতুল মুযিয়্যাহ। (সূত্রঃ মাকামে সাহাবা – ৭৯)


তেমনি ভাবে প্রসিদ্ধ আকীদার কিতাব শরহে আকীদাতুত্বাহাবিয়্যাহ। উল্লেখ আছে: .....


 ونحب اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم......ولا نذكرهم إلا بخير وحبهم دين وايمان واحسان وبغضهم كفر ونفاق وطغيان.


অর্থঃ আমরা সকল সাহাবীকে ভালবাসী .......... তাদের শুধুমাত্র ভালোর আলোচনাই করি। তাদের প্রতি ভালবাসা দ্বীন, ঈমান ও ইহসানের পরিচায়ক আর তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ কুফর, মুনাফেক্বী ও অবাধ্যতার পরিচায়ক। আকীদা নং ৯৭-


উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল যে সাহাবারে সমালোচনাকারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বহির্ভূত ও গোমরাহ দলের অন্তর্ভুক্ত।


৫। মওদূদী সাহেব যেমন সাহাবায়ে কিরামকে সত্যের মাপকাঠি মানতে নারাজ তেমনি আম্বিয়ায়ে কিরাম, সম্পূর্ণ নিষ্পাপ বলতেও নারাজ; যথা আম্বিয়াকিরাম সম্পর্কে তিনি লিখেনঃ


عصمت انبیاء علیہم الصلاۃ والسلام کی لوازم ذات سے نہیں ....... اور ایک لطیف نکتہ یہ ہے کہ اللہ تعالی نے بالارادہ ہر نبی سے کسی وقت  اپنی حفاظت اٹہا کر ایک دہ لغزیش ہو جانے دی ہیں تاکہ لوگ انبیاء کو خدا نہ سمجہیں اور جان لیں کہ یہ بہی بشر ہیں۔


অর্থঃ নিষ্পাস হওয়া আম্বিয়ায়ে কিরামের সত্ত্বার জন্যে আবশ্যক নয় বরং নবুওয়াতের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালনার্থে আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে গুণাহ হতে হেফাজতে রেখেছেন। নতুবা ক্ষণিকের জন্যে সে হিফাজত উঠিয়ে নিলে সাধারণ মানুষের মত তাদেরও ভুল ভ্রান্তি হতে পারে, আর মজার কথা যে, আল্লাহ-তা‘আলা ইচ্ছা করেই প্রত্যেক নবী থেকে কোন না কোন সময় এই হিফাজত উঠিয়ে দু-একটি গুণাহ হতে দিয়েছেন, যাতে লোকেরা তাঁদেরকে খোদা মনে না করে এবং বুঝে নেয় যে, তাঁরাও মানুষ। তাফহীমাত ২, পৃঃ ৫৭ ষষ্ঠ সংস্করণ তেমনি ভাবে তর্জুমানুল কুরআন ৫৮-এপ্রিল ১৯৭৬ সংখ্যায়  اسلام کس چیز کا علمبردار ہے শিরোনমে স্বয়ং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লিখেনঃ


وہ نہ فوق البشر ہے۔ نہ بشری کمزوریوں سے بالاتر ہے۔


অর্থঃ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না মানব উর্দ্ধের ছিলেন, না মানবিক দুর্বলতা মুক্ত ছিলেন। মোটকথা তাঁর মতে আম্বিয়া কিরাম সত্ত্বাগত দিক থেকে মা’সুম তথা নিষ্পাপ ছিলেন না। বরং প্রত্যেক নবীর দ্বারাই গুণাহ সংঘটিত হয়েছে। এমনকি স্বয়ং মুহাম্মত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মানবিক দুবলংতা মুক্ত ছিলেন না, আর আম্বিয়া কিরামের গুণাহ দেখানোর জন্যে তিনি তাফহীমুল কুরআন, তরজুমানুল ২৯ খঃ ও রাসায়িল মাসায়িল ১ম খে- হযরতে আদম, হরতে দাউদ, হযরতে ইউনুস, হযরত ইউসুফ ও হযরত মূসা আলাইহিমুসসলাম কর্তৃক গুনাহ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।


অথচ হযরত আদম আ. এর গন্ধম খাওয়ার বিষয়টি দুনিয়ায়ে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেকার ছিল। এছাড়া কোন নবী হতে ইহ জীবনে শরীয়াতের দৃষ্টিতে কোন পাপ কাজ হয়েছে এমন প্রমাণ কোথাও নাই। আর হবেই বা কি করে। কারণ কুরআনে পাকের বহু আয়াতে উম্মতকে নবী-রাসূলের নিঃশর্ত ও দ্বিধাহীন আনুগত্যের হুকুম করা হয়েছে। তাঁদের দ্বারা কখনো কখনো গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকাবস্থায় এ আনুগত্য কি করে সম্ভব?


আর খাওয়া পরা সংসার ধর্ম এগুলো হল মানবিক চাহিদা ও প্রয়োজন। মানবিক দুর্বলতা হল, হিংসা বিদ্বেষ, স্বজন প্রীতি অযথা ক্রোধ ইত্যাদি। রাসূল নিজে যদি এসব দুর্বলতা মুক্তই না হন উম্মতকে এ সব দুর্বলতা মুক্ত করবেন কি করে? নবীগণ মানুষজাতের একথা প্রমাণের জন্যে খাওয়া-পরা এজাতীয় মানবিক প্রয়োজনইতো যতেষ্ঠ, তা সত্ত্বেও তাদেরকে দিয়ে গুণাহ সংঘটিত করিয়ে ও মানবিক দুর্বলতাযুক্ত রেখে মানুষ প্রমাণের কি দরকার আছে?


বস্তুতঃ আম্বিয়াকিরামের নিষ্পাপ হওয়া স্বয়ং কুরআনের ও খোদ নবুওয়তীর দাবী, গুণাহের প্ররোচক নফ্‌স ও শয়তানের কুমন্ত্রনা হতে আল্লাহ তাদেরকেই সর্বদাই মুক্ত রেখেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এটাই বিশ্বাস করে এবং করতে বাধ্য।


৬। কুরআন সুন্নাহর অনুসরণের ক্ষেত্রে মাযহাব চতুষ্টয়ের ইমামদের তাকলীদ করা সম্পর্কে জনাব মওদূদী সাহেব লিখেনঃ


میرے نزدیک صاحب علم آدمی کیلئے تقلید  نا جائز  اور گناہ بلکہ اس سے بہی شدید تر چیز ہے۔


অর্থঃ আমার মতে একজন আলেমের জন্যে তাকলীদ নাজায়িয, গুণাহ রবং এর চেয়েও জঘন্যতম জিনিস। (রাসাইল মাসাইল ১ম খ- পৃঃ ২৪৪ সূত্র মওদূদী ছাহেব আওর উনকী তাহরীরাত পৃঃ ৯৯)


অন্যত্র লিখেনঃ


میں نہ مسلک اہل حدیث کو اسکی تمام تفصیلات کے ساتہ صحیح سمجہتا ہوں اور نہ حنفیت یا شافعیت ہی کا پابند ہوں۔


অর্থঃ আমি আহলে হাদীসের মতাদর্শকে যেমন পুরাপুরি সঠিক মনে করি না তেমনি আমি হানাফী বা শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীও নই। (রাসাইল মাসাইল ১ম খ- পৃঃ ২৩৫ -সূত্র-মওদূদী ছাহেব আওর উনকী তাহরীরাত ৯৮ )


মোট কথা মওদূদী সাহেবের মতে আলেমের জন্যে ইমামদের তাকদীদ মারাত্মক গুণাহের কাজ, আর আলেম দ্বারা তাঁর মত অপূর্ণ আলেম ও উদ্দেশ্য। তাহলে আঈম্মায়ে কিরামের পর হতে মুকাল্লিদ উলামা মাশায়েখ বুযুর্গানে দ্বীন সকলেই তাকলীদ করে। তাঁর মতে মারাত্মক গুণাহার সাব্যস্ত হয়েছেন। কত জঘন্য কথা!


এ ছিল মওদূদী সাহেবের কতিপয় ভুল চিন্তধারা। উপরে যে কয়টি ভুলের কথা আলোচনা করা হয়েছে সে গুলো হল তাঁর মূল থিওরীর অন্তর্ভুক্ত। এ সব থিওরীর আলোকেই তিনি লিখেছেন, দল পড়েছেন ও গবেষণা করেছেন। চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন এসব থিওরীর আলোকে লেখা বই, তাফসীর ও গবেষণা কি পরিমাণ গোমরাহী’ও ভুলে পরিপূর্ণ হয়েছে। বিজ্ঞ ও হক্কানী উলামায়ে কিরাম সে সব ভুলের প্রতি মওদূদী সাহেব তাঁর দলকে আকৃষ্ট করলে হয়ত বা ইনিয়ে বিনিয়ে আরো কয়েকটি গলত যুক্তি দিয়ে সে ভুলকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন বা কোন ভাবে ভুল ঢাকা সম্ভব না হলে লিখনী হতে সেই অংশটুকু গায়েব করে দিয়েছেন, কিন্তু কখনো প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করেননি। একারণে হক্কানী উলামায়েকিরাম প্রায় শুরু থেকেই মওদূদী সাবেও তাঁর চিন্তা ধারায় বিশ্বাসী জামাআতে ইসলামীকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বহির্ভূত একটি গোমরাহ দল হিসাবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এবং অন্যদেরকে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।


নিম্নে জগতবিখ্যাত কয়েকজন আলেমের অভিমত উল্লেখ করা হল।


(ক) আকাবিরে দেওবন্দের সর্বসম্মত ফাতাওয়াঃ মওদুদী সাহেব ও জামাআত ইসলামীর বই-পত্র ও রচনাবলী পড়ার দ্বারা সাধারণ মানুষ আঈম্মায়ে হিদায়াতের সাথে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে, যা তাদের গোমরাহীর কারণ। তেমনি সাহাবায়ে কিরাম ও বুযুর্গানে দ্বীনের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধায়ও বাটা পড়ে। এছাড়া মওদূদী সাহেবের বহু গবেষণা সম্পূর্ণ ভুল। সার্বিক ভাবে মওদূদী সাহেব ও তাঁর দলের চিন্তাধারা একটি নতুন ফিৎনা, যা নিশ্চিত ক্ষতিকর। এ কারণে আমরা উক্ত চিন্তাধারা নির্ভর আন্দোলনকে গলদ ও মুসলিম উম্মাহর জন্যে ক্ষতিকর মনে করি। এ দলের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই।


দস্তখত কারীঃ হযরত মুফতী কিফায়াতুল্লাহ রঃ। হযরত হুসাইন আহমাদ মাদানী রঃ। হযরত কারী মুহাম্মাদ তৈয়্যেব রঃ (প্রিন্সিপ্যাল দারুল উলূম দেওবন্দ শাইখুল হাদীস হযরত যাকারিয়া রঃ হযরত মুফতী সাইদ আহমাদ মাঃ জিঃ মুফতীয়ে দেওবন্দ প্রমুখ। মাসিক দারুল উলূম যী-কাহাদ ১৩৭০ সংখ্যা। (দৈনিক আল জমিয়ত দিল্লী ৩রা আগষ্ট ১৯৫১ খৃঃ -সূত্রঃ মওদূদী ছাহেব আওর উনকী তাহরীরাত পৃঃ ১৯)


(খ) মুফতীয়ে আযম মুফতী মুহাম্মদ শফী রঃ এর ফাতওয়াঃ আমার মতে মওদূদী সাহেবের মৌলিক ভুল এই যে, তিনি আক্বাইদ ও আহকামের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইজতেহাদের অনুসরণ করেন, অথচ তাঁর মধ্যে মুজতাহিদ হওযার শর্তাবলী অনুপস্থিত। এই মৌলিক ভুলের কারণে তাঁর রচনাবলীতে বহু কথা ভুল ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিপন্থী (আরো একটু আগে গিয়ে বলেন) মওদূদী সাহেবের রচনাবলীই জামাআতে ইসলামীর চিন্তাচেতনার মূল পুঁজি। জামাআতের পক্ষ থেকে মওদূদী সাহেবের ভুল ভ্রান্তির সাধারণ পক্ষ পাতিত্ত্ব একথাই প্রমাণ করে যে, মওদূদী চিন্তাধারা ও রচনাবলীর সাথে তারা একমত। কেউ একমত না হলে তা নিতান্তাই ব্যতিক্রম। (জাওয়াহিরুল ফিকহ-১ম খ- পৃঃ ১৭২)


(গ) গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ হাদীস গ্রন্থ ই’লাউসসুনানের সংকলক ও ঢাকা আলিয়ার প্রাক্তন হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওঃ যাফর আহমাদ উছমানীর অভিমতঃ মওদূদী সাহেব বাহ্যত মুনকিরে হাদীস। ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত নয়, হবে গোমরাহ ও বেদআতী। এমন লোক হতে মুসলমানদের দূরে থাকা চাই। তাঁর কথায় মোটেও আস্থা না রাখা উচিত। এবং দ্বীন সম্পর্কে তাকে চরম মূর্খ মনে করা বাঞ্ছনীয়। (সূত্রঃ মওদূদী ছাহেব আওর উন্‌কী তাহরীরাত পৃঃ ২৫)


(ঘ) তাফসীরে হক্কানীর লেখক পেশোয়ার দারুল উলূম হক্কানীয়ার প্রতিষ্ঠাতা, শাইখুল হাদীস আব্দুল হক্ব রঃ এর অভিমতঃ মওদূদী সাহেবের আক্বাইদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিপন্থী ও বিভ্রান্তিমূলক, মুসলমানগণ যেন এই ফিৎনা হতে বেঁচে থাকতে চেষ্টা করেন।


সূত্রঃ মওদূদী সাহেব আওর উনকী তাহরীয়াত পৃঃ ২২


এছাড়া জনাব মওদূদী সাহেবের উত্থানের একেবারে প্রথম পর্যায়ে তার লেখা তরজুমানের একটি সংখ্যা হযরত হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী তানভীর সামনে পেশ করা হলে মাত্র কয়েকটি লাইন পড়েই হযরত থানভী ইরশাদ করলেনঃ


باتوں کو نجاست میں ملاکر کہتاہے، اہل باطل کی باتیں ایسی ہی ہواکرتی ہیں ۔


অর্থঃ এই লোকের বক্তব্যে নাপাকীর সংমিশ্রণ রয়েছে। বাতিল পন্থীদের কথা এমনই হয়ে থাকে। (তরজুমানুল ইসলাম লাহোর ৩০ শে ডিসেম্বর ১৯৫৭ খৃঃ)


তেমনিভাবে আশরাফুস্‌সাওয়ানেহ বাংলা অনুবাদ আশরাফ চরিত ৮৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে মাওঃ মঞ্জুর নো’মানী সাহেব জামাআতের সাথে নিজ সম্পৃক্ততার সময়ে হযরত থানভীর সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইলে, হযরত বলেন আমার দিল এই আন্দোলনকে কবুল করে না।


মাত্র কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীনের অভিমত এখানে উল্লেখ করা হল, তাছাড়া উপমহাদেশের অতীত বর্তমানের সকল হক্কানী আলেম গণের সর্বসম্মত মত হল যে, মওদূদী সাহেবের চিন্তাধারা ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত জামাআতে ইসলামী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বহির্ভূত। এই হিসেবে শরীয়াতের দৃষ্টিতে তারা ফাসিক ও আকীদাগত ভাবে বিদ্‌আতী।


আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সিরাতে মুস্তাকীমের উপর কায়িম থাকার তাওফীক দান করুন, আমীন।


২নং প্রশ্নের জবাবঃ মওদূদী সাহেবের লিখিত বই পুস্তকে এমন অনেক আলোচনা রয়েছে, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদার পরিপন্থী। ইল্‌মে কালাম, ইল্‌মে ফিক্‌হ ও চিন্তা ধারার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রমর্ধী মত রয়েছে। তিনি সালফে সালেহীনের কারো অনুসারী নন। তার লিখিত কিতাবাদীতে মু’তাযিলা, খাওয়ারেজ, লা-মাযহাবী ও অন্যান্য বাতিল সম্প্রদায়ের কথাবার্তা পাওয়া যায়। তিনি দ্বীন-ইসলাম, ঈমান, তাওহীদ, রিসালত, তাকওয়া, ইবাদত ইত্যাদির বিশ্লেষণ করেছেন হাদীস ও আ-ছা-রে সাহাবা অনুসৃত আকাবিরে উম্মতের পথ ত্যাগ করে। অপরদিকে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজ হাতে গড়া ও নুযুলে কুরআনের প্রত্যক্ষদর্শী জামাআতে সাহাবার অনুসরণে প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী উলামায়ে উম্মাতের সূত্র পরম্পরায় দ্বীন, ইসলাম ও আনুসাঙ্গিক সকল বিষয়ের নির্ভুল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে মওদূদী সাহেব ভুল ও বিকৃতি আখ্যা দিতে চেষ্টা করেছেন। এবং এসব হযম করাতে চেয়েছেন খুব চতুরতার সাথে যা একজন মুহাক্কিক আলেম ছাড়া ধরা মুশকিল।


তাই সাধারণ মানুষের জন্যে প্রথম মওদূদী সাহেবের রচনাবলী সংক্রান্ত হক্কানী উলামাদের লিখিত বই-পুস্তক পড়ে নেওয়া জরুরী। তা না করে প্রথমেই মওদূদী সাহেবের বই-পত্র, তাফসীর, ইত্যাদি পড়তে গেলে বিভ্রান্তি ও গোমরাহী অবধারিত।নিজের ঈমান-আমলের সংরক্ষণের স্বার্থেই এমন কাজ হতে বিরত থাকা জরুরী। এ ব্যাপারে যুগ শ্রেষ্ঠ কয়েকজন আলেমের অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হল।


১. শাইখুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ) এর অভিমতঃ মওদূদী সাহেবের রচনাবলী ও কিতাবাদী দ্বীনের আঙ্গিকে এমন বেদ্বীনী ও অপব্যাখ্যা সম্বলিত যে, কম ইল্‌ম সাধারণ মানুষ তা ধরতে পারে না। তাই সাধারণ শ্রেণী তা পড়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনীত ইসলাম যার উপর সাড়ে তেরশত বৎসর উম্মাত আমল করে আসছে তা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলে। (মওদূদীসাহেব আওর উনকী তাহরীরাত পৃঃ ১৫)


২. বিদগ্ধ মুহাদ্দিস, করাচী নিউটাউন মাদ্‌রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইউসূফ বিন্নুরী (রঃ) এর অভিমতঃ মওদূদী সাহেবের বই পুস্তক, রচনাবলীতে এমন মারাত্মক বিষয় বস্তু ও উক্তি সমূহ রয়েছে যেগুলো দ্বারা নিয়মিত দ্বীনী ইল্‌ম অর্জনে ব্যর্থ নতুন সমাজ শুধু গোমরাহী নয়, স্পষ্ট কুফরীতেও লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। (মওদূদী ছাহেব আওর উনকী তাহরীরাত- পৃঃ ১১)


৩. দারুল উলূম দেওবন্দের প্রধান মুফ্‌তী হযরত মাওঃ মাহমূদ হাসান গাংগুহী (রহঃ) এর ফত্‌ওয়াঃ জনাব মওদূদী সাহেব যে সমস্ত বই পুস্তক লিখে প্রচার-প্রসার করেছেন, সে সমস্ত বই পুস্তকে অনেক বিষয় এমন ও রয়েছে যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাতদর্শ পরিপন্থী। তিনি ইল্‌মে ফিক্‌হ এর ক্ষেত্রে ভিন্ন মত রাখেন। আয়িম্মায়ে সলিফের কারো অনুসারী নন। তাঁর লিখিত বই-পুস্তকে মু’তাযিলা, খাওয়ারেজ ইত্যাদি সম্প্রদায়ের কথাবার্তা পাওয়া যায়।


কাজেই তার কিতাবাদী অধ্যায়ন করা দ্বীনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর। ... শুধু ক্ষতিকরই নয় বরং ধ্বংসাত্মকও বটে। এবং সরাসরি গোমরাহীর মাধ্যম। এজন্যই জনাসাধারণকে তার কিতাবাদী পড়া বা অধ্যয়ন থেকে বিরত রাখা হয়।আর এসমস্ত কিতাবাদী যখন লাইব্রেরীতে থাকবে তখন অধ্যয়নে আসবেই। আর লাইব্রেরীতে না থাকলে অধ্যয়নেও আসবে না। (সুতরাং লাইব্রেরীতেও এসমস্ত কিতাবাদী না থাকা চাই)(ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ১/২৪৭)


৩নং প্রশ্নের জবাবঃ ১ম প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মওদূদী সাহেবের চিন্তাধারা ও আকীদা অনেকাংশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিপন্থী। তন্মধ্যে অন্যতম হল তিনি সাহাবায়ে কিরামের দোষচর্চাকারী। তাঁর দলকেও সে কাজে তিনি উৎসাহিত করেছেন এবং বাস্তবে জামায়াতে ইসলামী তার চিন্তাধারার সাথে কার্যতঃ একমত, বিশেষ করে সাহাবাদের দোষচর্চায় তারা মওদূদী সাহেবের পদাংক অনুসারী।


তাই মওদূদী সাহেবের চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা শরীআতের দৃষ্টিতে ফাসিক। আর ফাসিকের ইমামতী মাকরূহে তাহরীমী। তেমনি কোন ফাসিককে মুআয্‌যিন বানানোও মাকরূহে তাহরীমী।


প্রমাণঃ (১) উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুফ্‌তী জনাব মুফ্‌তী মুহাম্মদ শফী (রঃ) স্বীয় গ্রন্থ জাওয়াহিরুল ফিক্‌হে লিখেন .... নামায সম্বন্ধে শরী‘আতের সিদ্ধান্ত হল এই যে, ইমাম এমন ব্যক্তিকে বানানো উচিত যিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী। সুতরাং যারা মওদূদী চিন্তা ধারায় একমত তাদেরকে স্বেচ্ছায় ইমাম বানানো জায়িয নাই। হ্যাঁ, কেহ তাদের পিছনে নামায পড়ে নিলে নামায হয়ে যাবে। (জাওয়াহিরুলফিক্‌হ ১/১৭২)


(২) মুজাহিদে আযম, আল্লামা হযরত মাওঃ শামছুল হক ফরীদপুরী (রহঃ) লিখেন, যাহারা সাহাবায়ে কিরামদের দোষচর্চায় লিপ্ত তাহারা যে কেহই হউন না কেন, তাহাদিগকে ইমাম বানাইয়া পিছনে নামায পড়া কিছুতেই জায়িয হইবে না। কারণ যেহেতু তাহারা সাহাবায়ে কিরামের দোষচর্চার কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত হইতে খারেজ হইয়া গিয়াছে। (ভুল সংশোধণ পৃঃ ১৪২)


(৩) প্রসিদ্ধ ফাতাওযার কিতাব আহসানুলফাতাওয়ার লেখক জনাব মুফ্‌তী রশীদ আহমদ (রহঃ) লিখেনঃ মওদূদী চিন্তাধারায় একমত এমন ব্যক্তির ইমামতী মাকরূহে তাহরীমী।(আহসানুল ফাতাওয়া ৩/২৯১)