elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর লিখিত সকল কিতাব পাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

ভন্ডপীরের আলামত

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

আমি এক পীর সাহেবের দরবারে উপস্থিত হয়ে নিম্নে বর্ণিত আলামত সমূহ দেখতে পাইঃ

১. দেয়াল ঘেরা বাড়ির একটি কক্ষে কথিত পীর সাহেব উপবিষ্ট । কক্ষটির মেঝে বাড়ির স্বাভাবিক আঙ্গিনা থেকে আনুমানিক ৪ ফুট উঁচু । কতিপয় ভক্তকে দেখতে পেলাম কক্ষটির কাছে আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে কক্ষটির মেঝের একপ্রান্তে দু’হাত বিছিয়ে দু’হাতের মাঝে মেঝেতে কপাল ঠেকিয়ে সিজদা করছে ।

২. অনেককে দেখতে পেলাম- পীর সাহেবের দরবার থেকে ফেরার সময় দু’হাত জোড় করে ঐ কক্ষটি সামনে রেখে (না ঘুরে আস্তে আস্তে, পিছিয়ে) আসছে । এভাবে পিছায়ে আনুমানিক ২০ গজ আসার পর মেইন রোডে উঠে স্বাভাবিক ভাবে হাঁটছে ।

৩. দরবারে যাওয়ার পর দূরে ঐ রাস্তার পাশে কোথাও জুতা খুলে রেখে খালি পায়ে যাচ্ছে ।

৪. পুরুষ ও মহিলা একই সাথে একই আঙ্গিনায় উপবিষ্ট । তবে মহিলা একদিকে, পুরুষ অপর দিকে । মাঝে পর্দার কোন ব্যবস্থা নেই । মহিলারা স্বাভাবিক পোষাক পরিহিতা । কাহারো গায়ে বোরখা নেই । অনেকের গায়ে চাদর পর্যন্ত নেই ।

জানতে পারলাম এখানে কোন নামাজের জামা‘আত হয় না । প্রতি শুক্রবার বাদ মাগরিব মাহফিল হয় । পীর সাহেব ওয়ায-নসীহত করেন । দু‘আ-কালাম পাঠ ও সওয়াব রিসানী হয় ।

উক্ত পীরের দরবারে যাওয়া বা তার নিকট বাই‘আত হওয়া জায়িয কি-না ? যদি কেউ মনে করে উপরোল্লেখিত বিষয় সমূহে শরীক না হয়ে শুধু ওয়ায নসীহত শুনবে, দু‘আয় শরীক হবে ও শরীয়ত সম্মত সবক গ্রহণ করবে, তবে তার ঈমান আকীদার কোন প্রকার ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি-না ?

 


জবাবঃ


আপনার বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত পীরের যে সকল কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সবই শরীয়ত বিবর্জিত নাজায়িয ও হারাম কাজ ।এ সকল কর্মকান্ড তার গোচরে হওয়া সত্ত্বেও সে কোন বাঁধা প্রদান না করার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে উক্ত পীর সম্পূর্ণ ভন্ড, বিদ‘আতী ও গোমরাহ । সুতরাং তার দরবারে যাওয়া বা তার নিকট বাই‘আত হওয়া জায়িয হবে না । তার নিকট শুধু ওয়ায-নসীহত শুনা ও দু‘আর জন্য শরীক হওয়াও শরী‘আত সম্মত হবে না । বরং ঈমান-আকীদা যতটুকু আছে তাও নষ্ট হওয়ার আশংকা আছে । পীরের নিকট বাই‘আত হওয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইসলাহ্ । উক্ত পীরের নিকট কোন প্রকার ইসলাহের আশা করা যায় না । কারণ শরী‘আতের দৃষ্টিতে সে হক্কানী পীর নয় । বরং ভন্ড ও ভ্রষ্ট । হক্কানী পীর হওয়ার জন্য হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. দশটি শর্ত উল্লেখ করেছেন- যার বিবরণ ‘কসদুসসাবীল’ নামক কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।


ঐ সমস্ত শর্তগুলো পাওয়া গেলে তার নিকট বাই‘আত হওয়া জায়িয আছে । আপনার বর্ণিত পীরের দরবারে যে সিজদা করা হয়, সেটি যদি তার সম্মানার্থে হয় তাহলে হবে হারাম । আর যদি ইবাদতের নিয়তে হয় তাহলে সেটি হবে শিরকী ও কুফরী কাজ । আর তিনি যে বিনা পর্দায় মেয়েদেরকে মুরীদ করেন এবং নারী পুরুষ তার দরবারে একই সাথে উঠাবসা করে এসবই ফাসেকী কাজের অন্তর্ভুক্ত ।


[প্রমাণঃ কিফায়াতুল মুফতী, ১:২২৩ # জাওয়াহিরুল ফিকাহ ৪:২৬৪ # ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, ১: ১৩৩ # আযীযুল ফাতাওয়া, ১৪৫]


والتواضع لغير الله حرام كذا في الملتقط.     (الفتاوى العالمغيرية:5/368)