elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

তাকদীর কি নির্ধারিত

তারিখ : ০১ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

ক. দুনিয়ার ব্যাপারে তাকদীর কি নির্ধারিত? নাকি চেষ্টা মেহনতের দ্বারা তাকদীর নির্ধারিত হয়? অর্থাৎ আমি যদি কোনো কাজের চেষ্টা মেহনত করি তাহলে কি চেষ্টা মেহনতের পার্থক্য অনুযায়ী তাকদীর র্নিধারিত হবে? নাকি পূর্বে যা নির্ধারিত রয়েছে তাই হবে, চাই যতই মেহনত করা হোকনা কেন?

খ. আখেরাতের ব্যাপারে তাকদীর কি নির্ধারিত? নাকি চেষ্টা মেহনতের দ্বারা আখেরাতের ব্যাপারে তাকদীর নির্ধারিত হয়?

গ. দু‘আর দ্বারা তাকদীর পরিবর্তন হয় কিনা?

ঘ. ‘পুশীদাহ রায’ কিতাবটি পড়া যাবে কিনা?


(ক) ও (খ) মানুষ সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে এবং তাদের আমল সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত রয়েছেন যে, কে ভাল আমল করবে আর কে মন্দ আমল করবে, কেননা তিনি ‘আলিমুল গাইব এবং তার ভালো-মন্দ আমল হিসেবে আল্লাহ তা‘আলা আদি থেকেই তার কর্মফল নির্ধারণ করে রেখেছেন, অর্থাৎ তিনি জানেন যে, তার অমুক বান্দা ভালো কাজের জন্য এতটুকুই চেষ্টা করবে, সুতরাং তাঁর চেষ্টা অনুপাতে যে পরিমাণ তার প্রাপ্য ততটুকুই আল্লাহ তা‘আলা লিখে রেখেছেন এবং দুনিয়াতে তাকে ইচ্ছার অধিকারী করে ছেড়ে দিয়েছেন, স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে ভালোপথে চললে এবং সহীহভাবে চেষ্টা মেহনত করলে দুনিয়াবী বা পরকালীন যে সকল কল্যাণ ও যে পরিমাণ কল্যাণ আল্লাহ তা‘আলা লিখে রেখেছেন, সে পরিমাণই পাবে। বিপরীত তথা অন্যায় পথে চললে তার ভাগ্যে আল্লাহ তা‘আলা যা লিখে রেখেছেন তাই সে প্রাপ্য হিসেবে পাবে।


মোটকথাঃ ‘আলিমুল গাইব আল্লাহ তা‘আলার ইলম অনুযায়ী আমাদের কর্ম ও কর্মফল লিখা আছে আর এটাই তাকদীর, আমাদের কর্ম ও কর্মফলের সকল পরিবর্তন-পরিবর্ধন সবই আল্লাহ তা‘আলার ইলমে রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলার সেই ইলমে নতুন করে কোন পরিবর্তন আসবে না, এটাই তাকদীর অপরিবর্তিত হওয়ার অর্থ ।


(গ) হ্যাঁ, দু‘আর দ্বারা ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে। কেননা তাকদীর দুই প্রকার। যথাঃ


১. মুবরাম তথা অপরিবর্তনশীল।


২. মু‘আল্লাক তথা আল্লাহ তা‘আলা পূর্ব থেকে এভাবেই লিখে রেখেছেন যে, সে আল্লাহ তা‘আলার কাছে উদাহরণ স্বরূপ প্রার্থনা করলে এতটুকু পাবে আর না করলে এতটুকু পাবে।


তবে তাকদীর নিয়ে ঘাটাঘাটি করা উচিত নয়, কারণ তাকদীরটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তা‘আলার বিষয়। তিনি দুনিয়ার সকলের সবকিছু লিখে রেখেছেন এবং এটার উপর আমাদের ঈমান আনতে বলেছেন, সুতরাং আমাদের বিশ্বাস করা জরুরী। তবে আমাদের দায়িত্ব তাকদীরে কী আছে চিন্তা না করে নিজের ইচ্ছা শক্তি ব্যয় করা ও আল্লাহ-রাসূলের আনুগত্য করে যাওয়া এটাই বান্দার দায়িত্ব, তাহলে পরকালে দেখা যাবে তার তাকদীরে জান্নাত লেখা ছিল।


 (ঘ) ‘পুশীদাহ রায’ কিতাবটি পড়া যাবে কি যাবে না তা আপনার অবস্থার উপর নির্ভর করবে। কোন আল্লাহওয়ালার সাথে পরামর্শ করে নিজের অবস্থা জানিয়ে পড়ার হুকুম জেনে নিবেন। আপনার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই, বিধায় হুকুম বলা গেল না ।


 لقوله تعالى: وكان أمر الله قدرا مقدورا. الحزاب-৩৮


وعن عبد الله بن عمر رضـ عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: قدر الله مقادير الخلق قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة وكان عرشه على الماء. أخرجه مسلم-برقمـ ২৬৫৩


وعن ثوبان عن النبى صلى الله عليه وسلم لا يرد القدر الا الدعاء ولا يزيد فى العمر الا البر وإن الرجل ليحرم الرز ق بالذنب يصيبه. أخرجه أحمد-৫/২৮০


ثم أكد المصنف قوله خلق الخلق بعلمه وقدر لهم اقدارا وضرب لهم أجالا ثم قال: وعلم ما هم علملون سبق علمه بأعماهم المؤمن والكافر والمطيع والعاصى قبل أن يخلقهم وكتب ذلك وقضاه وقدره فى أم الكتاب وقال عليه السلام و يؤمر بأربع كلمات بكتب رزقه وأجله وعمله, ولايزيد فى العمر الا البر ليس معناه أن هذا سبق فى علمه وكتابه أن عمره ستون سنة, ثم يزيد فى عمره بالبر بل معناو الذى وصل رحمه زم الله فى فمره جزاء له قد سيق فى علمه وفى كتابه أنه يطول عمره بهذا سبب وكل الأمور جارية على ألأسباب والمسببات ومندرجة فى قدر الله التام. جامع الدروس-صـ২৭২


التقدير قسمان: المعلق والمبرم, وكل منهما مثبت فى اللوح غير قابل للمحو, نعم ألمعلق فى الحقيقة مبرم بالنسبة إلى علمه تعالى. مرقاة المفاتيح -১/১২২


(প্রমাণ: সূরা হাজ্জ: ৫, সূরা আনআম: ৬০, আল-আহযাব: ৩৮, সহীহ মুসলিম হা.নং-২৬৫৩, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস নং-১২২, মুসনাদে আহমাদ: ৫/২৮০, আক্বীদাতুততহাবী পৃ.২৬৩, জামে উদ্দুরুস পৃ.২৬৪,২৭২, মেরকাতুল মাফাতীহ: ১/১২২)