elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর লিখিত সকল কিতাব পাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

জনৈক ইমাম সাহেবের ব্যাপারে কয়েকটি প্রশ্ন

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটে ঔষধের ফার্মেসী খুলে সেখানে হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, তিনি সনদপ্রাপ্ত ও সরকার স্বীকৃত ডাক্তার নন। উক্ত ফার্মেসীতে বেপর্দা মহিলারা এসে তার নিকট থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। প্রায়ই দেখা যায়, ইমাম সাহেব জামা‘আত আরম্ভ হওয়ার তিন চার মিনিট পূর্বে এসে তাড়াহুরা করে ইস্তিঞ্জা-উযু সমাপ্ত করে ইমামতী শুরু করেন। এমতাবস্থায় সচেতন মুসল্লীবৃন্দের পক্ষ হতে গোপনে এ ব্যাপারে তাকে সতর্ক করা হলে তিনি দারুন রাগান্বিত হন। বলেন- চিকিৎসার জন্য মেয়েলোক দেখা সম্পূর্ণ জায়িয। এমনকি তাদের গুপ্তাঙ্গও দেখা জায়িয।” তিনি আরো বলেন, অনেক মহিলারা মাথায় কাপড় পর্যন্ত রাখত না। অথচ আমার এখানে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আসার পর তারা মাথায় কাপড় দেয়। এটাই বা কম কি ? শুধু তাই নয়; বরং সংশ্লিষ্ট মুসল্লীগণকে তিনি ফিতনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন-আল ফিতনাতু আশাদ্দু মিনাল কাতলি।

দুই তিন মিনিটে ইস্তিঞ্জা ও উযু সমাপ্তির ব্যাপারে তিনি বলেন-প্রমেহ রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য এক্ষেত্রে বেশী সময়ের প্রয়োজন। আর আমার প্রমেহ রোগ নেই। এছাড়া তিনি মুসল্লীগণের যোগ্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে বলেন- ইমাম সাহেবের চেয়ে আপনারা বেশী জানেন না। সুতরাং ইমাম সাহেবের ত্রুটি ধরতে চেষ্টা করবেন না। এ বিষয়ে আমার জিজ্ঞাসাঃ

(ক) পর্যাপ্ত মহিলা ডাক্তার বিদ্যমান থাকা অবস্থায় উক্ত ইমাম সাহেবের এভাবে বেপর্দা মহিলাদেরকে চিকিৎসা প্রদান করা জায়িয আছে কি ?

(খ) চিকিৎসা গ্রহণের নিমিত্তে আগত বেপর্দা মহিলাদেরকে হিদায়েতের জন্য কিছু উপদেশ দিলে মহিলাদের সাথে উক্ত ইমাম সাহেবের পর্দা করার বিধান শিথিল হবে কি-না ?

(গ) ডাক্তারী পাশ না করে ডাক্তারী করা জায়িয কি-না?

(ঘ) ২/৩ মিনিটে ইস্তিঞ্জা ও উযু শেষ করা সম্পর্কিত ইমাম সাহেবের পক্ষ হতে প্রদত্ত উত্তর গ্রহণযোগ্য কি-না ? প্রকৃতপক্ষে একজন সুস্থ মানুষের ইস্তিঞ্জা-উযুর জন্য কত মিনিট সময়ের প্রয়োজন ?

(ঙ) উক্ত ইমাম সাহেব যে পর্যায়ের ডাক্তার, এমন ডাক্তার কর্তৃক প্রয়োজনে মহিলাদের গুপ্তাঙ্গ দেখা জায়িয কি-না ?

(চ) বর্ণিত সুরতে সচেতন মুসল্লীগণ ফিতনাকারী কি-না ?

(ছ) উক্ত ইমাম সম্পর্কে মুসল্লীদের করণীয় কি ?

 


জবাবঃ


(ক) বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত ইমাম সাহেব ফাসিক। তার পেছনে নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী। তার জন্য ইমামতী করাও মাকরূহে তাহরীমী। সুতরাং উক্ত ব্যক্তির তাওবা করে সংশোধন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকে ইমাম হিসেবে বহাল রাখা জায়িয হবে না। সেক্ষেত্রে উক্ত ইমাম নিজেকে সংশোধন করতে রাজী না হলে তাকে বহিষ্কার করে নতুন একজন দীনদার, মুত্তাকী, পরহেযগার ও হকপন্থী আলিমকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ করা অপরিহার্য। কেননা, শরী‘আতের দৃষ্টিতে বেগানা মহিলাদের সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা-বার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ করা হারাম। তবে বিজ্ঞ ডাক্তারদের জন্য কেবলমাত্র রোগাক্রান্ত জায়গাটুকু দেখা জায়িয। এছাড়া অন্য কোনভাবে শরী‘আতের সীমালংঘন করা হারাম।


(খ) আর উক্ত ইমাম সাহেব যেহেতু কোন বিজ্ঞ ডাক্তার নন এবং এলাকাতেও প্রয়োজনীয় মহিলা ডাক্তার বিদ্যমান রয়েছে সুতরাং উক্ত ইমামের জন্য পর্দার বিধান শিথিল করার প্রশ্নই আসে না।


(গ) ডাক্তারী পাশ না করে ডাক্তারী করা মোটেও উচিত নয়। কেননা তার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রোগীর জীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


(ঘ) ২/৩ মিনিটে ইস্তিঞ্জা ও উযু শেষ করা সম্ভব। কিন্তু এমন তাড়হুড়া করা উচিত নয়। কেননা, এর দ্বারা প্রস্রাবের ফোটা ভিতরে থেকে যাওয়ার ফলে উযু ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


(ঙ) না, এমন পর্যায়ের ডাক্তারের জন্য মহিলাদের গুপ্তাঙ্গ দেখা জায়িয নয়।


(চ) বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু উক্ত ইমাম প্রকৃতপক্ষেই দোষী। সুতরাং মুসল্লীগণ ফিতনাকারী সাব্যস্ত হবে না। কেননা, ফিতনার সীমা হল শর‘ই কোন কারণ ব্যতীত অহেতুক ইমামের উপর মিথ্যা তুহমত আরোপ করা বা ইমামের উপর রাগ করা। তেমনিভাবে ইমাম নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তাকে হটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া। আর এখানে এগুলোর কোনটিই পাওয়া যাচ্ছে না।


(ছ) যদি ঝগড়া-বিবাদ ব্যতীত উক্ত ইমামকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা সম্ভব না হয়, তাহলে উক্ত ইমামের পিছনেই নামায পড়ে নিবে। গুনাহের দায়-দায়িত্ব ইমাম সাহেব ও তার সহযোগীদের উপর বর্তাবে। তবে তাকে সংশোধন করার বা সহীহ দীনদার ইমামের ফিকির চালিয়ে যাবে।