elektronik sigara

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

রজব মাস শুরু হলেই প্রিয় নবী এই দু‘আ খুব বেশী করে পড়তেন: اَللّهُمَّ بَارِكْ لَنَا  فِيْ  رَجَبَ  وَشَعْبَانَ  وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে চাইলে এ্যাপের “সর্বশেষ সংবাদ” এ ভিজিট করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর লিখিত সকল কিতাব পাওয়ার জন্য এ্যাপের “সর্বশেষ সংবাদ” থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাব অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে চাইলে ভিজিট করুনঃ www.maktabatunnoor.com

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

খুৎবার পূর্বে মিম্বরে বসে বয়ান করা

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

“দাওয়াতুল হক্ব”- এর এক মজলিসে শুনতে পেলাম যে, “জুম‘আর খুৎবার পূর্বে মিম্বারে বয়ান করার যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু রয়েছে তা সুন্নাত পরিপন্থী। কারন, এর দ্বারা জুম‘আর গুরুত্ব হ্রাস পায়।” অতঃপর সে অনুযায়ী আমল ও আরম্ভ করা হয় অর্থাৎ, জুম‘আর খুৎবার পূর্বের বয়ানের জন্য মিম্বারের পার্শ্বে একটি চেয়ার রাখা হয় এবং খতীব সাহেব তাতে বসেই বয়ান করেন। কিন্তু এতে বিভিন্ন রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে; বিধায় যথোপযুক্ত প্রমাণসহ বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন বলে আশা করি।


জবাবঃ


মসজিদে চেয়ার এনে তাতে বসে ওয়ায নসীহত করা সম্পূর্ণ জায়িয। আর জুম‘আর ফরয নামাযের পূর্বে বা পরে মিম্বরে বসে ওয়ায নসীহত না করে চেয়ারে বসে করাটাই উত্তম এবং এটাই সুন্নাত। উল্লেখ্য যে, মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও ওয়াজ নসীহত করেছেন। যেমন মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত আবু রিফা‘আহ রাযি. বর্ণনা করেন যে, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যে, তখন তিনি তখন খুৎবা দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এক অপরিচিত মুসাফির ব্যক্তি এসেছে। সে দ্বীন সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ বিধায় এ সম্পর্কে জানতে চায়। হযরত আবু রিফা‘আহ রাযি. বর্ণনা করেন যে, এরপর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দেয়া স্থগিত রেখে আমার ‍দিকে অগ্রসর হলেন এবং একেবারে আমার নিকটে চলে এলেন। এরপর সেখানে চেয়ার আনা হলো। তিনি (সাহাবী রা.) বলেন, আমার মনে হয় চেয়ারের পায়াগুলো লোহার ছিল। তিনি উক্ত চেয়ারে বসে আমাকে সেই জিনিসগুলো শিক্ষা দিলেন, যেগুলো তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলেন স্বয়ং মহান রাব্বুল আলমীন। অতঃপর তিনি খুৎবা ছাড়া ওয়ায-নসীহত করার জন্য মসজিদে চেয়ার ব্যবহার করেছেন এবং মিম্বরে বসে ওয়ায করেননি; সুতারাং এটা সুন্নাত।


বর্তমানে আমাদের সমাজে মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে ওয়ায নসীহত করাকে যেমনভাবে নাজায়িয বা খারাপ মনে করে, বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, এরূপ প্রশ্ন এর আগেও কিছু লোক কেরেছিল। যেমন, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়ায় এ ধরণের প্রশ্ন রয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, উক্ত হাদীস ইমাম বুখারী রহ. তার কিতাব “আদাবুল মুফরাদ” এর মধ্যে এনেছেন। সুতরাং যে ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীস রয়েছে সে ব্যাপারে অযথা প্রশ্ন করা অজ্ঞতা ও মূর্খতা বৈ কিছুই নয়। (ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ২/৩১৭)


قال ابو رفاعة انتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يخطب قال فقلت يا رسول الله رجل غريب جاء يسئل عن دينه لا يدري مادينه قال فاقبل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك الخطبة حتى انتهى الي فأتي بكرسي حسبت قوائمه حديدا, قال فقعد عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل يعلمني مما علمه الله ثم اتى خطبة فاتم اخرها .  (رواه مسلم:1/287)


তাছাড়া আগলাতুল অওয়ামের ৭৩ নং পৃষ্ঠায় রয়েছে যে, নামাযের পরেও যদি খুৎবার অর্থ শুনানো হয়, তাহলেও মিম্বর থেকে সরে যাওয়া উত্তম। কারণ, যাতে খুৎবা পড়ার সাদৃশ্য থেকে দূরে থাকে। অথচ জুম‘আর খুৎবা পড়া হয় নামাযের পূর্বে। নামাযের পরে পড়া হয় না। আর নামাযের পরে কোন ওয়ায-নসীহত করলেও তখন মিম্বর থেকে সরে যাওয়া উত্তম। যাতে করে খুৎবার সাদৃশ্য না হয়ে যায়। তাহলে নামাযের পূর্বে ওয়ায-নসীহত করার সময়তো মিম্বার থেকে সরে যাওয়া শুধু উত্তমই নয়; বরং জরুরী বুঝা যায়। কারণ, ঐ সময়তো খুৎবা পড়ারই সময়। তাই ঐ সময়ে, মিম্বরে বসে ওযায-নসীহত করলে পূর্ণ খুৎবা পাঠের সাদৃশ্য হয়ে যায়। তাই চেয়ারে বসে বা মিম্বর ছেড়ে দাঁড়িয়ে ওয়ায-নসীহত করা চাই। আর এটাই উত্তম ও সুন্নাত।        (প্রমাণ: মুসলিম শরীফ: ১/২৮৭, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ২/৩১৭, আগলাতুল আওয়াম:৭৩)


এ কারণে হযরত উমর ফারুক রাযি. এর যামানায় তার নির্দেশে যখন খুৎবার পূর্বে ভিন্নভাবে বয়ানের নিয়ম চালু হয়, তখন খুৎবার পূর্বে হযরত আবু হুরাইরা ও তামীমে দারী রাযি. বয়ান করতেন। অবশ্য উভয়ই মিম্বার থেকে দূরে থেকে বয়ান করতেন। তাদের কেউ উক্ত বয়ান মিম্বারে বসে করতেন না। তারপর যখন হযরত উমর ফারুক রাযি. জুম‘আর খুৎবা দেয়ার জন্য উপস্থিত হতেন, তখন তারা বয়ান বন্ধ করে দিতেন।


উল্লেখ্য মিম্বারে বসে বয়ন না করার যে হুকুম বর্ণনা করা হলো, তা শুধু জুম‘আর সময়ের ব্যাপারে খাস। জুম‘আ ব্যতীত অন্য যে কোন সময় মিম্বারে বসে বয়ান করা যায়, এতে কোন অসুবিধা নাই। (প্রমাণঃ প্রাগুক্ত)