elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

এক ভন্ড পীরের উদ্ভট বিশ্বাসের জবাব

তারিখ : ১৪ - ফেব্রুয়ারী - ২০১৮  

জিজ্ঞাসাঃ

আমাদের এলাকায় এক লোক আছে তাকে সবাই ভান্ডারীর নেতা ডাকে। ঐ লোক নামায পড়ে না। নিম্নলিখিত কথা বলে।

১। আামাদের নবী কিতাবী নবী না।

২। যিকির দ্বারা কলব জারী করলে নামায পড়া লাগে না।

৩। দুরূদ ও যিকির দ্বারা রহমত হাসেল করতে পারলে ঐটাই নামায।

৪। নামায যিকির দুরূদ সবই ফরয।

৫। কা‘বা হল ৫টি (১) সেজদাই কা‘বা (২) হাক্বি কা‘বা (৩) কলবী কা‘বা (৪) প্রেম কা‘বা (৫) কা‘বায়ে কাওসাইন। দয়া করে তার কথাগুলির শর‘ঈ সমাধান অতি সত্তর দিতে মর্জি হয়।

 


জবাবঃ


(১) “আামাদের নবী কিতাবী নবী না” এই কথার অর্থ যদি এই হয় যে, আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উপরে কোন কিতাব নাযিল হয় নাই।(নাঊযুবিল্লাহ) অথবা যা নাযিল হয়েছে তা কিতাব নয়। এরূপ কথা যে বলবে বা বিশ্বাস করবে সে কুরআনের অসংখ্য আয়াতকে অস্বীকারকারী হবে। আর কুরআনের যে কোন একটি আয়াত কেউ অস্বীকার করলে সে কাফির হয়ে যায়। আর যে একাধিক আয়াত অস্বীকার করে তার অবস্থাতো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উপর কুরআন নাযিল করা হয়েছে এ সম্পর্কে কুরআনের কয়েকটি আয়াত রয়েছে। মহান রাব্বুল ‘আলামীন ইরশাদ করেনঃ…...............


অর্থঃ আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ে বিশ্বাস করে আল্লাহ তাদের মন্দ কর্ম সমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দেন। [সূরা মুহাম্মদঃ ২]


অন্যত্র মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন- ……………


অর্থঃ পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তার বান্দা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ফুরকান তথা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হন। [সূরা ফুরকান আয়াতঃ ১]


অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ……… অর্থঃ এ কিতাবের অবতরণ বিশ্ব পালনকর্তার নিকট থেকে। এতে কোন সন্দেহ নেই। তারা কি বলে এটা মিথ্যা রচনা করেছে ? বরং এটা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে সত্য। যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোন সতর্কবাণী আসেনি। সম্ভবতঃ এরা সুপথ প্রাপ্ত হবে। [সূরা সিজদাহঃ ১-২]


(২) “যিকির দ্বারা কলব জারী করলে নামায পড়া লাগে না” এটাও একটা কুফরী কথা। কারণ, প্রত্যেক মুসলিম সাবালক নারী-পুরুষের উপর নামায ফরয। সুতরাং তা অস্বীকার করা কুফরী। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। সুতরাং ঐ ভান্ডারীর কাছে আমাদের প্রশ্ন যে, তাদের কলব কি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কলবের চেয়ে বেশী জারী হয়ে গেল ? রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এক ওয়াক্ত নামাযও বাদ দেন নাই। এমনকি অসুস্থ অবস্থায় হযরত আলী ও হযরত আব্বাস রা.-এর কাঁধের উপর ভর করে মসজিদে গমন করেছেন। হযরত আয়িশা সিদ্দীকা রা. বর্ণনা করেন ইন্তেকালের চারদিন পূর্বে বৃহস্পতিবার যখন যোহরের নামাযের সময় ঘনিয়ে আসল তখন তিনি কিছুটা স্বস্তি বোধ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তোমরা পানি ভরা সাত মশক আমার মাথার উপর ঢাল। হযরত আয়িশা রা. বলেন আমরা পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। তিনি তখন হাতের ইশারায় ক্ষান্ত করতে নির্দেশ দিলেন। তখন আমরা পানি ঢালা বন্ধ করলাম। অতঃপর তিনি হযরত আলী ও হযরত আব্বাস রা.- এর কাঁধের উপর ভর করে মসজিদে গেলেন। তখন তিনি পায়ের উপর ভর করতে পারছিলেন না। মাটির উপর তার পদদ্বয় হেঁচড়ে যাচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হওয়া সত্ত্বেও তার দিল বা কলব জারী হলো না ? তিনি ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত নামায পড়লেন। আর এই ভান্ডারী সাহেবের এবং তাঁর অনুসারীদের কলব এতই উন্নত যে, তাদের কলব জারী হয়ে গেছে। এখন তাদের নামায লাগে না। তাদের এ ধরনের কথাই তাদের গোমরাহ হওয়ার বড় দলীল। [প্রমাণঃ বুখারী শরীফ ২ : ৬৩৯]


(৩) দুরূদ আর যিকির পৃথক দু’টি ইবাদত। এ দুটির দ্বারা রহমতও হাসিল হয় বটে, কিন্তু এ দুটি দ্বারা রহমত হাসিল করতে পারলে নামায হয়ে যাবে, এটা নিঃসন্দেহে কুফরী কথা। বরং “নামায”, দুরূদ ও যিকিরের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বতন্ত্র ফরয। যার ধরণ এবং বিস্তারিত হুকুম আহকাম আল্লাহ স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দিয়ে কার্যতঃ বাতলে দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলিমুল গায়িব। তিনি জানতেন যে, এমন কিছু ভন্ডের আবির্ভাব ঘটবে। যারা নামাযকে বিকৃত করে ফেলবে। তাই নামায ফরয হওয়ার পর হযরত জিব্রাইল আ. কে নামাযের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। ২ দিনে ১০ ওয়াক্ত নামায হযরত জিব্রাঈল আ. রাসূলকে দেখিয়েছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ে সাহাবাদেরকে ‍দেখিয়ে বলেছেন, তোমরা এরূপভাবে নামায পড় যেরূপভাবে আমাকে নামায পড়তে দেখ। তাই তো এক সাহাবী নামাযের মধ্যে রুকূ-সিজদা একটু তাড়াতাড়ি করেছিলেন বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন- তুমি আবার নামায পড়। কেননা তুমি নামাযই পড় নাই। রুকূ-সিজদায় সামান্য ত্রুটি হলে যখন নামায হয় না তাহলে শুধুমাত্র দুরূদ আর যিকিরের দ্বারা নামায হয় কিভাবে ? এই সমস্ত ভন্ডদের উপর কি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর চেয়ে বেশী রহমত নাযিল হয় ? যিকির ও দুরূদের দ্বারা রহমত হাসিল করাই নামায। এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবা কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন ও বুযুর্গানে দীন কেউ বুঝলেন না। শুধুমাত্র এই সমস্ত ভন্ডরাই বুঝল ?   [প্রমাণঃ মিশকাত শরীফ ১ : ৫৯, ৭৫]


(৪) হ্যা, নামায যিকির-দুরূদ সবগুলো ফরয। তন্মধ্যে নামায এমন ফরয যার মধ্যে ‍যিকির-দুরূদও রয়েছে। নামায পড়লে যিকির-দুরূদের ফরযও আদায় হয়ে যাবে। এরপর পৃথকভাবে যিকির ও দুরূদের আমল সাওয়াবের কাজ বটে তবে ফরয নয়। আর নামায না পড়ে শুধু দুরূদ ও ‍যিকির করতে থাকলে নামাযের ফরয আদায় হবে না। বরং নামায তরক করে যিকির করতে তাকলে উল্টা গুনাহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- অর্থাৎ, যে নামায তরক করল সে কুফরী করল।


(৫) “কা‘বা ৫টি” কথাটি নিরেট মূর্খতা প্রসূত। যার প্রামাণ ……… কে ……..  কা‘বায়ে কাওছাইন বলা। শরী‘আতে এমন বেহুদা কথার কোন ভিত্তি নেই। [প্রমাণঃ সূরা বাকারা ৪৩, ১১০,২৯৯ # সূরা আল ইমরান ৪১ # মিশকাত ১ : ৫৮ # শামী ১ : ৫১৮]