elektronik sigara

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাব অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে চাইলে ভিজিট করুনঃ www.maktabatunnoor.com

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

কুরআন-সুন্নাহ ও তা থেকে আহরিত সকল বিধি-বিধান মেনে চলার মধ্যেই মুসলমানদের দো’জাহানের শান্তি ও কামিয়াবী নিহিত। তবে কুরআন-সুন্নাহর কিছু বিধান সাধারণ শিক্ষিত ব্যক্তিও বুঝতে সক্ষম; আর কিছু বিধান সংক্ষিপ্ততা ও সূক্ষ্মতার কারণে সবাই বুঝতে সক্ষম নয়। আবার কিছু বিধান বাহ্যিকভাবে বিরোধপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত, সূক্ষ্ম ও বাহ্য বিরোধপূর্ণ বিধানসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের সামনে দু’টি পথ খোলা আছে। হয়তো নিজেদের জ্ঞান-বুদ্ধি ও বুঝ মত সমাধান বের করে সে অনুযায়ী আমল করব, অথবা উম্মাহর স্বীকৃত সর্বোত্তম যুগের ইমামগণের দেয়া সমাধান মেনে চলব। ইনসাফ ও বাস্তবতার বিচারে প্রথমটি আশঙ্কাপূর্ণ ও ভয়ানক, আর দ্বিতীয়টি সতর্কতাপূর্ণ ও নিরাপদ। এ জন্যই গোটা মুসলিম উম্মাহ হাজার বছর ধরে সর্বোত্তম যুগের সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেঈদের ব্যাখ্যার আলোকে কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করে আসছে। তাদের ব্যাখ্যা ও মতামতগুলোই আল্লাহ তা‘আলার ফয়সালায় পরবর্তীকালে চার মাযহাবের আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে। যেগুলো ‘হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব’ নামে পরিচিত।

সুতরাং মাযহাব কোনো নতুন জিনিস নয়। খাইরুল কুরূনের পর থেকে সকল মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও ফকীহ কোনো না কোনো ইমামের ব্যাখ্যার আলোকে কুরআন-সুন্নাহ মেনে আসছেন। তাঁরা সবাই কোনো না কোনো মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। বড় বড় কলেবরে রচিত যুগের ক্রমধারা অনুযায়ী এ যাবতকালের সকল মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের মাযহাব ভিত্তিক জীবনীগুলোই এর প্রমাণ। এখানে মৃত্যু-সনসহ শাস্ত্রজ্ঞ উলামায়ে কিরামের মাযহাব ভিত্তিক একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেয়া হলো।

কুতুবে সিত্তাহ-এর লেখকগণ যে মাযহাবের অনুসারী ছিলেনঃ

১. ইমাম বুখারী রহ. এর মৃত্যু ২৫৬ হি., মাযহাব শাফেয়ী, কিতাব সহীহ বুখারী।

২. ইমাম মুসলিম রহ. এর মৃত্যু ২৬১ হি., মাযহাব শাফেয়ী, কিতাব সহীহ মুসলিম।

৩. ইমাম আবূ দাউদ রহ. এর মৃত্যু ২৭৫ হি., মাযহাব হাম্বলী, কিতাব সুনানে আবূ দাউদ।

৪. ইমাম নাসায়ী রহ. এর মৃত্যু ৩০৩ হি., মাযহাব হাম্বলী, কিতাব সুনানে নাসায়ী।

৫. ইমাম তিরমিযী রহ. এর মৃত্যু ২৭৯ হি., মাযহাব শাফেয়ী, কিতাব জামে’ তিরমিযী।

৬. ইমাম ইবনে মাজাহ রহ. এর মৃত্যু ২৭৫ হি., মাযহাব শাফেয়ী, কিতাব সুনানে ইবনে মাজাহ।

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. আবূ বকর আহমদ বিন আলী আল জাস্সাস রহ. মৃত্যু ৩৭০ হি. কিতাবের নাম আহকামুল কুরআন।

২. নসর ইবনে মুহাম্মাদ রহ. মৃত্যু ৩৭৩ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে সমরকন্দী।

৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ রহ. মৃত্যু ৭০১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে নাসাফী।

৪. মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুস্তফা রহ. মৃত্যু ৯৫২ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে আবিস সাঊদ।

৫. কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী রহ. মৃত্যু ১২২৫ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে মাযহারী।

৬. ইসমাঈল হক্কী রহ. মৃত্যু ১১২৭ হি. কিতাবের নাম রুহুল বয়ান।

৭. শিহাবুদ্দীন মাহমূদ আলূসী রহ. মৃত্যু ১২০৭ হি. কিতাবের নাম রুহুল মাআনী।

৮. আশরাফ আলী থানবী রহ. মৃত্যু ১৩৬২ হি. কিতাবের নাম বয়ানুল কুরআন।

৯. মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. মৃত্যু ১৩৯৬ হি. কিতাবের নাম মাআরিফুল কুরআন।

১০. মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী রহ. মৃত্যু ১৩৯৪ হি. কিতাবের নাম মাআরিফুল কুরআন।

মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন্দালূসী রহ. মৃত্যু ৫৪৩ হি. কিতাবের নাম আহকামুল কুরআন।

২. আব্দুল হক ইবনে গালেব রহ. মৃত্যু ৫৪৬ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ।

৩. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আস সাআলাবী রহ. মৃত্যু ৮৭৬ হি. কিতাবের নাম আল জাওয়াহিরুল হিসান।

৪. মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল কুরতুবী রহ. মৃত্যু ৬৭১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে কুরতুবী।

৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আন্দালূসী রহ. মৃত্যু ৭৪৫ হি. কিতাবের নাম আল বাহরুল মুহীত্ব।

৬. আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দীন রহ. মৃত্যু ৭৫৪ হি. কিতাবের নাম আদ দুররুল মাসনুন।

৭. ইবনু উরফাহ রহ. মৃত্যু ৮০৩ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ইবনে উরফাহ।

শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. আলী ইবনে মুহাম্মাদ আত-ত্ববারী রহ. মৃত্যু ৩১০ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ত্ববারী।

২. হুসাইন ইবনে মাসঊদ আল বাগাবী রহ. মৃত্যু ৫১৬ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে বাগাবী।

৩. মুহাম্মাদ ইবনে উমর আর রাযী রহ. মৃত্যু ৬০৬ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে কাবীর।

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে বাইযাবী রহ. মৃত্যু ৬৮৫ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে বাইযাবী।

৫. আব্দুল্লাহ ইবনে খাযেন রহ. মৃত্যু ৭৪১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে খাযেন।

৬. ইসমাঈল ইবনে আমর দিমাশকী রহ. মৃত্যু ৭৭৪ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ইবনে কাসীর।

৭. জালালুদ্দীন মুহাল্লী রহ. মৃত্যু ৮৬৪ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে জালালাইন।

৮. জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. মৃত্যু ৯১১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে জালালাইন।

৯. মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ শিরবীনী রহ. মৃত্যু ৯৭৭ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে খতীব।

হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. ইবনে আদেল আবী হাফস রহ. মৃত্যু ৮৮০ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে লুবাব।

২. ইবনে রজব রহ. মৃত্যু ৭৯৫ হি. কিতাবের নাম তাহকীকু তাফসীরিল ফাতেহা।

৩. ইবনুল কায়্যিম আল জাওযিয়া রহ. মৃত্যু ৭৫১ হি. কিতাবের নাম আত তাফসীরুল কায়্যিম।

 

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. মৃত্যু ১৮২ হি. কিতাবের নাম কিতাবুল আসার।

২. ইমাম মুহাম্মাদ রহ. মৃত্যু ১৮৯ হি. কিতাবের নাম মুয়াত্তা।

৩. ইমাম ত্বহাবী রহ. মৃত্যু ৩১১ হি. কিতাবের নাম ত্বহাবী শরীফ।

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. মৃত্যু ১৮১ হি. কিতাবের নাম কিতাবুল জিহাদ।

৫. আবূ ইয়া’লা আল মূসিলী রহ. মৃত্যু ৩০৭ হি. কিতাবের নাম মুসনাদে আবূ ইয়া’লা।

৬. আলাউদ্দীন মুগলতায়ী রহ. মৃত্যু ৭৬২ হি. কিতাবের নাম ইকমালু তাহযীবিল কামাল।

৭. আলাউদ্দীন ইবনুত তুরকুমানী রহ. মৃত্যু ৭৪৫ হি. কিতাবের নাম আল জাওহারুননাকী।

৮. বদরুদ্দীন আল আইনী রহ. মৃত্যু ৮৫৫ হি. কিতাবের নাম উমদাতুল ক্বারী।

৯. মুল্লা আলী কারী রহ. মৃত্যু ১০১৪ হি. কিতাবের নাম মিরক্বাত।

১০. ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহ. মৃত্যু ২৩৩ হি. কিতাবের নাম তারীখে ইবনে মাঈন।

১১. ইউসুফ যাইলাঈ রহ. মৃত্যু ৭৬২ হি. কিতাবের নাম নাসবুর রায়া।

 

মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. ইবনে আব্দিল বার মালেকী রহ. মৃত্যু ৪৬৩ হি. কিতাবের নাম আত তামহীদ।

২. আবূ বকর ইবনুল আরাবী রহ. মৃত্যু ৫৪৩ হি. কিতাবের নাম আরিযাতুল আহওয়াযি।

৩. আবূ আব্দিল্লাহ আয যুরকানী রহ. মৃত্যু ১১২২ হি. কিতাবের নাম শরহুয যুরকানী।

শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. ইবনে হিব্বান রহ. মৃত্যু ৩৫৪ হি. কিতাবের নাম সহীহ ইবনে হিব্বান।

২. ইবনে খুযাইমা রহ. মৃত্যু ৩১১ হি. কিতাবের নাম সহীহ ইবনে খুযাইমা।

৩. আবূ দাউদ আত ত্বয়ালিসী রহ. মৃত্যু ২০৪ হি. কিতাবের নাম মুসনাদে ত্বয়ালিসী।

৪. আলী ইবনে উমর আদ দারাকুতনী রহ. মৃত্যু ৩৮৫ হি. কিতাবের নাম সুনানে দারাকুতনী।

৫. আবূ বকর আল বাএটাকী রহ. মৃত্যু ৪৫৮ হি. কিতাবের নাম সুনানে বাএটাকী।

৬. হাকেম আবূ আব্দিল্লাহ রহ. মৃত্যু ৪০৫ হি. কিতাবের নাম মুসতাদরাকে হাকেম।

৭. ইবনুল আসীর রহ. মৃত্যু ৬০৬ হি. কিতাবের নাম আল কামেল ফিত তারীখ।

৮. মুহিউদ্দীন আন নববী রহ. মৃত্যু ৬৭৬ হি. কিতাবের নাম রিয়াযুস সালিহীন।

১০. আবুল হাজ্জাজ আল মিযযী রহ. মৃত্যু ৭৪২ হি. কিতাবের নাম তাহযীবুল কামাল।

১০. শামসুদ্দীন আয যাহাবী রহ. মৃত্যু ৭৪৮ হি. কিতাবের নাম তাযকিরাতুল হুফফায।

১১. হাফেয ইবনে হাজার রহ. মৃত্যু ৮৫২ হি. কিতাবের নাম ফাতহুল বারী।

১২. হাফেয শাসুদ্দীন আস সাখাবী রহ. মৃত্যু ৯০২ হি. কিতাবের নাম ফাতহুল মুগীছ।

১৩. ইবনে আসাকির রহ. মৃত্যু ৫৭১ হি. কিতাবের নাম তারীখে দিমাশক।

১৪. আবূ বকর আল বাগদাদী (খতীব) রহ. মৃত্যু ৪৬৩ হি. কিতাবের নাম তারীখে বাগদাদ।

হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. আবূ আব্দির রহমান আদ দারেমী রহ. মৃত্যু ২৫৫ হি. কিতাবের নাম সুনানে দারেমী।

২. ইবনু রজব রহ. মৃত্যু ৭৯৫ হি. কিতাবের নাম শরহু ইলালিত তিরমিযী।

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. আবূ বকর আস সারাখসী রহ. মৃত্যু ৪৯০ হি. কিতাবের নাম আল মাবসূত।

২. আবুল হাসান কুদূরী রহ. মৃত্যু ৪২৮ হি. কিতাবের নাম মুখতাসারুল কুদূরী।

৩. কামাল ইবনুল হুমাম রহ. মৃত্যু ৮৬১ হি. কিতাবের নাম ফাতহুল ক্বাদীর।

৪. ইবনে নুজাইম রহ. মৃত্যু ৯৭০ হি. কিতাবের নাম আল বাহরুর রাইক্ব।

৫. আলাউদ্দীন আল কাসানী রহ. মৃত্যু ৫৮৭ হি. কিতাবের নাম বাদাইউস্ সানায়ে।

৬. ইবনে আবেদীন রহ. মৃত্যু ১২৫২ হি. কিতাবের নাম ফাতাওয়ায়ে শামী।

৭. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ শাইখী যাদাহ রহ. মৃত্যু ১০৭৮ হি. কিতাবের নাম মাজমাউল আনহুর।

৮. আলাউদ্দীন আল হাসকাফী রহ. মৃত্যু ১০৮৮ হি. কিতাবের নাম আদ্ দুররুল মুখতার।

মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. শিহাবুদ্দীন আল কারাফী রহ. মৃত্যু ৬৮৪ হি. কিতাবের নাম আল ইহকাম।

২. ইবনে রুশদ রহ. মৃত্যু ৫৯৫ হি. কিতাবের নাম বিদায়াতুল মুজতাহিদ।

৩. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আর রুআইনী রহ. মৃত্যু ৯৫৪ হি. কিতাবের নাম মাওয়াহিবুল জালীল।

৪. খলীল ইবনে ইসহাক আল জুনদী রহ. মৃত্যু ৭৬৭ হি. কিতাবের নাম মুখতাসারুল আলামাহ।

৫. ইবনুল হাজ্জ রহ. মৃত্যু ৭৩৭ হি. কিতাবের নাম আল মাদখাল।

৬. মুহাম্মাদ আদ দুসূকী রহ. মৃত্যু ১২৩০ হি. কিতাবের নাম হাশিয়াতুদ দুসূকী।

শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. আবূ ইসহাক আশ শিরাজী রহ. মৃত্যু ৪৭৬ হি. কিতাবের নাম আত্ তাবসিরাহ।

২. আবুল হাসান আল মাওয়ারদী রহ. মৃত্যু ৪৫০ হি. কিতাবের নাম আল হাবিউল কাবীর।

৩. ইবনুল মুলাক্কিন রহ. মৃত্যু ৮০৪ হি. কিতাবের নাম আল বদরুল মুনীর।

৪. ইমাম গাজালী রহ. মৃত্যু ৫০৫ হি. কিতাবের নাম আল ওয়াসীত ফিল মাযহাব।

৫. ইমামুল হারামাইন আব্দুল মালেক রহ. মৃত্যু ৪৭৮ হি. কিতাবের নাম আল বুরহান ফী উসূলিল ফিকহ।

৬. শামসুদ্দীন আর রমলী রহ. মৃত্যু ১০০৪ হি. কিতাবের নাম নিহায়াতুল মুহতাজ।

হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহঃ

১. ইবনে কুদামা রহ. মৃত্যু ৬২০ হি. কিতাবের নাম আল মুগনী।

২. ইবনে মুফলিহ রহ. মৃত্যু ৭৬৩ হি. কিতাবের নাম আল আদাবুশ শারইয়্যাহ।

৩. আব্দুর রহমান বিন ইবরাহীম আল মাকদেসী রহ. মৃত্যু ৬২৪ হি. কিতাবের নাম আল-উদ্দাহ শারহুল উমদাহ।

৪. ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ রহ. মৃত্যু ১৩৫৩ হি. কিতাবের নাম মানারুস সাবীল।

৫. ইবনে কুতাইবা রহ. মৃত্যু ১০৩৩ হি. কিতাবের নাম তাবীলু মুখতালিফুল হাদীস।

৬. ইবনে তাইমিয়াহ রহ. মৃত্যু ৭২৮ হি. কিতাবের নাম মিনহাজুস সুন্নাহ।

মুসলিম উম্মাহর এ সকল প্রসিদ্ধ মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের মাধ্যমেই আমরা লাভ করেছি তাফসীর, উসূলে তাফসীর, হাদীস, উসূলে হাদীস, ফিকহ, উসূলে ফিকহসহ সকল প্রকার ইলমের ভান্ডার। তাদের কাছে উম্মত সর্বোতভাবে ঋণী এবং যাদের ইলম থেকে এক মুহূর্তের জন্য বিমুখ হওয়ার কল্পনা করাও উম্মতের জন্য অসম্ভব। বলা বাহুল্য, তাঁরা সকলেই ছিলেন কোনো না কোনো মাযহাবের অনুসারী। এখন এ সকল ব্যক্তিবর্গ যদি শুধুমাত্র মাযহাব মানার কারণে কিছু লা-মাযহাবী বন্ধুর দাবি অনুযায়ী মুশরিক হয়ে থাকেন; তাহলে তারা কীভাবে এ সকল মুশরিকদের (নাউযুবিল্লাহ) কিতাব থেকে তাফসীর, হাদীস ও ফিকহসহ অন্যান্য ইলম গ্রহণ করছেন? আসলে ‘মাযহাব মানলে মুশরিক হয়ে যায়’ এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। বরং খাইরুল কুরূন থেকে এ যাবতকাল মুসলিম উম্মাহ কোনো না কোনো মাযহাবের অনুসরণ করে আসছে।

অতএব যারা কয়েকটি হাদীসের অনুবাদ পড়েই মুজতাহিদ-ইমাম বনে যাচ্ছেন, তাদেরকে তাদেরই একজন ইমাম মাওলানা মুহাম্মাদ হুসাইন বাটালবীর বিশ বছরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া ভাল মনে হচ্ছে। তিনি তার ‘ইশাআতুস সুন্নাহ’তে বলেছেন, ‘আমার বিশ বছরের অভিজ্ঞতা হলো যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া স্বাধীন মুজতাহিদ বনে যায়, অর্থাৎ মাযহাব ত্যাগ করে; শেষ পর্যন্ত সে দীন থেকেই বের হয়ে যায়।’

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সিরাতে মুস্তাকীমের উপর চলার ও অটল থাকার তাউফীক দান করুন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।