elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

যিলক্বদ মাসে কোন ইবাদত আল্লাহ রাখেন নি। নামাযের প্রস্তুতি যেমন উযু ঠিক তেমনি যিলহাজ্জের প্রস্তুতি হলো যিলক্বদ। এই মাস ইবাদাত শিখার জন্য রাখা হয়েছে। উলামাদের নিকট থেকে জিলহাজ্জ মাসের করণীয় বিষয়গুলো কিভাবে করতে হবে তা শিখতে হবে। এবং যিলহাজ্জ মাসের যে ইবাদত রয়েছে তার কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে তা জেনে তা থেকে নসীহত হাসিল করতে হবে। যেমনঃ বাইতুল্লাহ কিভাবে পূনঃনির্মান হলো তার ঘটনা পুরোটা সামনে আসবে। তারপর হজ্জের ঘটনা, কুরবানীর ঘটনা ইত্যাদি। ইতিহাস জানতে আমরা যে সকল কিতাব পড়বো তা কোন ভালো আলেম থেকে পরামর্শ করে কিতাব সম্পর্কে জেনে নিবো। নিম্নে হাজ্জ এবং কুরবানীর ঘটনা সংক্ষিপ্ত আকারে এবং তা থেকে শিক্ষনীয় বিষয়গুলো দেয়া হলোঃ

হজ্জ এবং কুরবানীর ঘটনা

প্রিয় জন্মভূমি, পিতা-মাতা, আত্মীয় পরিজন ও হিতাকাঙ্খী বন্ধু-বান্ধব সহ নিজের সব কিছু পরিত্যাগ করে ছিয়াশি বৎসরের বৃদ্ধ বয়সে কেনানে তিনি অনেকটা আপনজনহীন জীবন-যাপন করছিলেন। আর এতোকাল পর্যন্ত তাঁর ঔরসে কোন সন্তান জন্মে ছিল না। এজন্য তখন তিনি আল্লাহ পাকের নিকট সন্তান কামনা করে দু’আ করলেন। তাঁর মুনাজাত কবুল হলো। আল্লাহ তা’আলা তাঁকে এক ধৈর্যশীল সুসন্তানের শুভ সংবাদ দিলেন। সে অনুযায়ী কিছুদিন পর হযরত হাজেরার রা. গর্ভে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হল। তার নাম রাখা হল-ইসমাঈল।

কেনানে অবস্থানকালে হযরত ইসমাঈল যখন দুগ্ধ পোষ্য শিশু, তখন আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে হযরত ইবরাহীমের আ. প্রতি নির্দেশ এলো-বিবি হাজেরা রা. সহ কলিজার টুকরো একমাত্র ছেলে সন্তান হযরত ইসমাঈল আ. কে আরবের মরু প্রান্তরে নির্বাসনে রেখে আসতে। এ মহা পরীক্ষার মুখে সামান্যতম বিচলিত না হয়ে নির্দ্বিধায় তিনি স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে মক্কার সেই জন-মানবহীন মরু ভূমিতে সামান্য কিছু খেজুর আর অল্প পরিমাণ পানি দিয়ে রেখে এলেন। কিছু দিনের মধ্যে। সেই সামান্য খেজুর ও পানিটুকু শেষ হয়ে গেলে। পানির পিপাসায় কাতর-তৃষ্ণার্ত ছেলের করুণ অবস্থা দেখে হযরত হাজেরা রা. পানির সন্ধানে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। সাফা-মারওয়া তার সেই দৌঁড়াদৌড়ি আল্লাহ তা’আলার নিকট এতই পছন্দনীয় হয়েছিল যে, কিয়ামত পর্যন্ত সেটাকে হজ্বের আহ্‌কামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সেই ইতিহাস চির অম্লান করে রেখেছেন। আর হযরত হাজেরা রা. পানি না পেয়ে ফিরে এসে অতীব বিস্ময়ে দেখতে পেলেন- হযরত ইসমাঈলের আ. পায়ের গোড়ালির নিকট হতে মাটি ফেটে পানি উথলিয়ে উঠছে। জিব্রাইল আ. তার বাজু দিয়ে আঘাত করেছিলেন। ঐ আঘাতে তার পায়ের থেকে পানির ফোয়ারা বের হয়ে এই জমজম কুপের আবিষ্কার হয়েছে। এই পানিকেই যমযমের পানি বলে। যমযমের পানি হাউসে কাউসার পানি থেকে বেশী বরকতময়। এই জন্য মেরাজে নেয়ার আগে রাসূল সা. এর সিনা চাক করার সময় জিব্রাইল আ. জান্নাত থেকে সব জিনিসই এনে ছিলেন কিন্তু পানি আনেন নি। যমযমের পানি ব্যবহার করে ছিলেন। এই পানি যেকোন বান্দা যে কোন নিয়তে পান করবে আল্লাহ তা পূরণ করবেন। এই পানিতে পানি ও আছে খানাও আছে। এই পানিতে যত পানি মিশানো হোক তার বরকত কমবে না। এই পানি কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। এর লেবেল কখনো কমবে না। তা-ই আজ যমযম কূপ নামে অভিহিত। হযরত ইবরাহীম আ. এর স্ত্রী পুত্র আরবের সেই মক্কা-মরু নির্জন অঞ্চলে থাকতেন। আর হযরত ইবরাহীম আ. থাকতেন সিরিয়ার কেনানেই। মাঝে মাঝে মক্কায় এসে তিনি তাঁদেরকে দেখে যেতেন।

একবারের ঘটনা, হযরত ইবরাহীম আ. মক্কা এলেন। তখন ইসমাঈল আ. সবেমাত্র কৈশোর পেরিয়ে তের বৎসর বয়সে পিতার সঙ্গে এদিক সেদিক আসা-যাওয়া এবং পিতার বিভিন্ন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাঁকে সহায়তা করার মত বয়সে উপনীত হয়েছেন, বা মতান্তরে তিনি তের বৎসরের হয়ে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে শিখেছেন, তখন হযরত ইবরাহীম আ. একদিন স্বপ্নে দেখলেন যে, হযরত ইসমাঈলকে আ. স্ব হস্তে যবেহ করছেন। সকালে ঘুম হতে উঠে সারা দিন তিনি এ চিন্তায়ই মগ্ন রইলেন যে, এ স্বপ্ন সত্যি সত্যিই আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে দেখানো হয়েছে, নাকি শয়তান আমাকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাঝেই তিনি রাতে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ রাতেও আবার একই স্বপ্ন দেখলেন। কারো কারো মতে তৃতীয় রাতেও আবার একই স্বপ্ন দেখলেন। পরপর দুই বা তিন রাতে একই স্বপ্ন দেখার পর এবার তিনি নিশ্চিত হলেন যে, এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হতেই। আর নবীদের স্বপ্ন যেহেতু ওহী তথা আল্লাহ তা’আলার আদেশরূপে গণ্য হয়ে থাকে, সেহেতু এ স্বপ্নের মর্মার্থ এটাই ছিল যে, “হে ইবরাহীম! তুমি তোমার প্রাণপ্রিয় পুত্রকে কুরবানী (যবেহ) করে আমার নামে উৎসর্গ করে দাও।” সে মুতাবেক হযরত ইবরাহীম আ. আল্লাহর আদেশ পালনে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে খোদার আদেশ পালনের ব্যাপারে তাঁর সন্তানের মনোভাব জানবার জন্য স্বপ্নের কথা উল্লেখ করত: তাঁর অভিমত চাইলেন। হযরত ইসমাঈল আ. কে আল্লাহ তা’আলা এ ছোট বয়সেই যে ইল্‌ম ও বুঝশক্তি দিয়েছিলেন, তার গুণে স্বপ্ন শোনা মাত্রই তিনি বুঝে ফেললেন- এ তো আল্লাহর হুকুম। যেহেতু নবীর স্বপ্ন ওহী হয়ে থাকে। তাই কোন প্রকার দ্বিধা না করে তৎক্ষনাত তিনি আল্লাহর হুকুম বুঝতে পেরে আল্লাহর নামে জীবন উৎসর্গ করে দেয়ার আবেগ ও আগ্রহ প্রকাশ করে বললেনঃ “হে আব্বাজান, আল্লাহ পাক আপনাকে যে নির্দেশ দিচ্ছেন, তা আপনি যথাযথ পূর্ণ করুন। এ ব্যাপারে আপনি কোন প্রকার দ্বিধা করবেন না। আর আমার জন্যও কোন রকম চিন্তা করবেন না। আমি কথা দিচ্ছি- সেই কঠিন মুহূর্তেও আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ ধৈর্যশীল পাবেন।’

সুযোগ্য পুত্রের মুখে এমন বুদ্ধিদীপ্ত আত্মোসর্গের স্পৃহা ও অকৃত্রিম আকাঙ্ক্ষা পরিস্ফুটিত হচ্ছিল। ইবরাহীম আ.আশ্বস্থ হলেন এবং খুশীতে তাঁর মন ভরে উঠলো।

এখানে কতগুলো লক্ষণীয় ও শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, প্রথমত হযরত ইবরাহীম আ. কে ফেরেশতার মাধ্যমে সরাসরি হুকুম না করে স্বপ্নে দেখিয়ে ছিলেন। বাহ্যত এর উদ্দেশ্য এই ছিল যে, ইবরাহীম আ.-এর প্রভু আনুগত্য যেন পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। নতুবা স্বপ্নে প্রাপ্ত আদেশে আসল উদ্দেশ্য পাশ কাটিয়ে ইচ্ছা মাফিক অন্য কোন ব্যাখ্যা বের করে নেয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু হযরত ইবরাহীম আ.- এ ধরনের কোন পন্থা অবলম্বন না করে স্বপ্নের পরিষ্কার অর্থ যা, তার উপর আমল করতে প্রস্তুত হয়ে যান।

তাছাড়া এ আদেশের উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে, সত্য সত্যই ইসমাঈলকে যবেহ করা হবে। বরং আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্য এতটুকুই ছিল যে, করেন। যাতে প্রভুপ্রেমে ত্যাগ স্বীকার তিনি কতটুকু আন্তরিক একনিষ্ঠ তার পরীক্ষা হয়ে যায়।

সে মুতাবেক হযরত ইবরাহীম আ. স্বীয় পুত্রকে যবেহ করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিলেন। এ পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নও বাস্তবায়িত হলো। পক্ষান্তরে আল্লাহপাক যদি সরাসরি হুকুম করতেন, তাহলে পরে আবার ইবরাহীম আ.-এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহর এ হুকুমটি রহিত করতে হতো এবং তখন আল্লাহ তা’আলার একটি হুকুম অকার্যকর গণ্য হত।

উল্লেখ্য যে, হযরত ইসমাঈল আ. পিতার মুখ থেকে আল্লাহ তা’আলার কোন হুকুমের কথা শুনেই আল্লাহর রাহে স্বীয় জীবন উৎসর্গ করার দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করার সাথে সাথে পিতাকেও যেভাবে সান্তনা দিয়ে আশ্বস্থ করে এই মহা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সহায়তা করেছেন, তাঁকে যবেহ করার চরম মুহূর্তে ধৈর্যের যে চরম পরাকাষ্ঠ প্রদর্শন করেছেন এবং পিতাকে যে সকল গুরত্বপূর্ণ ও সৎপরামর্শ দিয়েছিলেন, সেগুলোর মধ্যে আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য অনেক মূল্যবান শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। আলোচনার শেষাংশে তা উদ্ধৃত হবে।

মূল ঘটনাঃ

খলীলুল্লাহ ইবরাহীম আ. মহান আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য স্বীয় পুত্র ইসমাঈলকে নিয়ে কুরবানীর নির্ধারিত স্থান মিনা’র পানে রওয়ানা হলেন।

সম্পূর্ণ অংশ ডাউনলোড করে পড়ুন