elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর লিখিত সকল কিতাব পাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

ফোন ও মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ের একটি নতুন আবিষ্কার। এর কিছু ভালো দিক যেমন আছে তেমনি মন্দ দিকও আছে। অন্য দশটা প্রয়োজনীয় জিনিসের মতো এরও প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার আপত্তিকর নয়। তবে যথেচ্ছা ব্যবহার শরী‘আত অনুমোদিত নয়। বরং ফোন বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের কিছু বিধি নিষেধ রয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্য তা মেনে চলা জরুরী।

১। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে কোন প্রাণীর ছবি শেভ করে রাখবে না, কারণ এর দ্বারা ছবির প্রদর্শনী হয়, যা রহমতের ফিরিশতার আগমন থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। আর শরী‘আতে ছবির প্রকাশ ও প্রদর্শন নিষেধ করা হয়েছে এবং এর উপর কঠোর আযাবের ধমকি এসেছে। তেমনিভাবে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে আল্লাহ তা‘আলার নামের ক্যালিগ্রাফি বা লিখিত আয়াত কিংবা অন্য কোন যিকির ইত্যাদি শেভ করে রাখবে না। কারণ এভাবে ক্ষেত্র বিশেষে এগুলোর সাথে বেয়াদবী হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। (বুখারী শরীফ হা: নং ২১০৬, মুসলিম শরীফ হা: নং ৫৯৬১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫:৩৫৯/১:৫০)

২। আযান, যিকির, তিলাওয়াত ও দু‘আ কালামকে রিংটোন বা ওয়েলকাম টিউন হিসাবে ব্যবহার করবে না। কারণ এসব কিছু অতীব মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। এগুলোর ব্যবহার একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে রাজি খুশি করার উদ্দেশ্যে হতে হবে, আর এগুলোর ব্যবহার ক্ষেত্রও সুনির্ধারিত। কাজেই মোবাইল ফোনের রিংটোন বা ওয়েলকাম টিউন হিসাবে এগুলোর প্রয়োগ অবমাননা এবং অপব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। (আলমগীরী ৫:৩১৫, ফাতাওয়া শামী ১:৫১৮)

৩। মিউজিক, গান-বাদ্যের কলিকে রিংটোন অথবা ওয়েলকাম টিউন হিসাবে ব্যবহার করবে না। কারণ এসব শোনা ও শোনানো সবই কবীরাহ গুনাহ। (তিরমিযী শরীফ হা: নং ১২৮৫)

৪. ঘণ্টার আওয়াজ, হর্নের  আওয়াজ, গাড়ীর আওয়াজ, পাখির আওয়াজ বা এ ধরনের স্বাভাবিক কোন আওয়াজ যাকে মিউজিক বলা যায় না বা বিশ্রী কোন আওয়াজও নয় তাকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করবে।

৫। ক্যামেরা বা ভিডিও ওয়ালা মোবাইল সেট ব্যবহার করবে না। কারণ এর দ্বারা তার প্রতি অন্যের মনে বদগুমানী বা কু-ধারণা সৃষ্টি হয়। এধরনের কাজ থেকে বেঁচে থাকার জন্য হাদীসে তাকীদ করা হয়েছে। (ইতহাফ ৮:৫২৪)

৬। নামাযের সময় বা কারো বিশ্রামের সময় বা অন্য কোন ব্যস্ততার সময় তাকে ফোন করে বিরক্ত করবে না বা কষ্টে ফেলবে না। কারণ অন্যকে অযথা কষ্ট দেয়া এবং পেরেশান করা নাজায়িয। (মাআরিফুল কুরআন ৬:৩৯৪)

৭। একান্ত অপারগতা বা ঠেকা ছাড়া কাউকে মিসড কল দিবে না। কারণ এতে মানুষকে বিরক্ত করা হয় যা গুনাহের কাজ এবং তার দ্বারা নিজের কৃপণতা প্রকাশ করা হয়। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ১০:৬০১৮)

৮। কেউ ফোন করলে পারতপক্ষে অবশ্যই রিসিভ করবে, পরিচিত হোক বা অপরিচিত হোক। হ্যাঁ! একান্ত উজর থাকলে রিসিভ না করার অনুমতি আছে। ঘুমানোর পূর্বে মোবাইল ফোনের রিংটোন বন্ধ করে ঘুমাবে না। এতে অনেক সময় অন্যদের পেরেশানি হয়। প্রয়োজনে মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমাবে। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৬০১৮, মাআরিফুল কুরআন ৬:৩৯৪)

৯। ‍সালাম দিয়ে কথা শুরু করবে। এটাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত, হ্যালো দিয়ে নয়। কারণ হ্যালো দিয়ে কথা শুরু করা সুন্নাত পরিপন্থী কাজ এবং বিজাতীয় অনুকরণ। (তিরমিযী শরীফ হা: নং ২৭০৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫:৩২৪)

১০। সালামের পর কোন সমস্যা না থাকলে নিজের পরিচয় পেশ করে কথা বলার অনুমতি নিয়ে কথা শুরু করবে। অনেক পরিচয় পেশ না করে কথা শুরু করে। এতে অপর ব্যক্তি বিব্রতবোধ করে এবং বিভ্রান্তির শিকার হয়। আর অনেকে অনুমতি না নিয়েই কথা শুরু করে, অথচ অপরপক্ষ তখন এমন কোন কাজে ব্যস্ত থাকে যার জন্য কথার জওয়াব দেয়া সম্ভব হয় না। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৬৭১০-১৮)

১১। কোন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে কথা বলার নির্ধারিত সময় থাকলে তা জেনে নিয়ে শুধুমাত্র সে সময়ে ফোন করবে। আর এ ধরনের সময় নির্ধারিত না থাকলে ফোন করে অপর ব্যক্তির সুযোগ আছে কিনা তা জেনে কথা বলার অনুমতি নিয়ে কথা শুরু করবে। অনেকেই ফোন করে অনুমতি গ্রহণ ছাড়াই কথা শুরু করে দেয়। অপর ব্যক্তি কোন অবস্থায় আছে তা জানার প্রয়োজন বোধ করে না। এটা বড়ই অভদ্রতা। দীর্ঘ সময় কথা বলার প্রয়োজন হলে তার জন্য অনুমতি চেয়ে নিবে, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় কথা বলে বিরক্ত করবে না। (মাআরিফুল কুরআন ৬:৩৯৪)

১২। একবার ফোন করার পর অপর পক্ষ যদি রিসিভ না করে তবে সে মুহূর্তে আর দ্বিতীয় বার ফোন করবে না। মনে করবে যে অপর ব্যক্তি কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত আছে, এ মুহূর্তে সে রিসিভ করতে অক্ষম। হ্যাঁ ! দশ পনের মিনিট বিরতি দিয়ে পুনরায় করতে পারে। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৬২৪৫)

১৩। মসজিদে প্রবেশর পূর্বেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিবে। যাতে নামাযের মধ্যে রিংটোন বেজে উঠে মুসল্লীদের একাগ্রতা নষ্ট না করে। কোন কারণে যদি নামাযের পূর্বে মোবাইল ফোন বন্ধ না করে থাকে আর নামায অবস্থায় বেজে উঠে, তখন সম্ভব হলে এক হাত দ্বারা বন্ধ করে দিবে। দুহাত ব্যবহার করবে না। কারণ দুহাত ব্যবহার করা আমলে কাসীর হওয়ায় নামায নষ্ট হয়ে যায়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১:১০৫, ফাতাওয়া শামী ১:৬২৪)

উল্লেখ্য মোবাইল ফোন মসজিদে বা মজলিসে বন্ধ রাখা ব্যবহারকারীর দায়িত্ব। এ ব্যাপারে মুআযযিনের কোন দায়িত্ব নেই।

১৪। মোবাইল ফোনে বোনাস টকটাইম পাওয়ার জন্য অযথা বেশি বেশি কথা বলবে না। কারণ এতে জীবনের মহামূল্যবান সময় এবং অর্থের অপচয় হয়। আর অপচয় থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানর জন্য একান্ত কর্তব্য। (সুরায়ে ফাতির আয়াত নং ৩৭, সূরায়ে বনী ইসরাইল আয়াত নং ২৭)

১৫। মোবাইল ফোনে গেমস খেলবে না। কারণ এতে জীবনের মহামূল্যবান সময়কে বেকার নষ্ট করা হয়। তাছাড়াও এ ধরনের খেলায় দীনী বা দুনিয়াবী কোন উপকার নেই। (সূরায়ে ইসরা আয়াত নং ১২-২৭, সূরায়ে ফাতির আয়াত নং ৩৭)

১৬। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদেরকে ফোন দিবে না। কারণ এতে জানমালের মারাত্মক ক্ষতি এবং তাদের নৈতিক চরিত্র ধ্বংসের আশংকা থাকে। (সূরায়ে বাকারা আয়াত নং ১৯৫)