elektronik sigara

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

প্রতিদিন আমল করার জন্য “দৈনন্দিন আমল ও দু‘আসমূহ” নামক একটি গুরত্বপূর্ণ কিতাব আপলোড করা হয়েছে।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর সৌদি আরবের নাম্বার 00966 576861915

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ শে আগষ্ট, ২০১৯ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেরিয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হাজী সাহেবানদের জন্য এক নজরে হজের ৭ দিনের করণীয় ডাউনলোড করুন

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

১. ফজরের নামাযের পর কয়েক মিনিট মৃত্যু, কবর ও হাশরের ময়দানের মুরাকাবা করা।

২. এই দু‘আ (اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ، وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ) করবে। এরপর জরুরত অনুযায়ী দীন ও দুনিয়ার যে কোন কাজে লাগবে।

৩. দীন দুনিয়ার যে কোন কাজ করবে সেখানে আল্লাহর হুকুম ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত আছে কিনা দেখা এবং আল্লাহপাকের নাফরমানী তথা গুনাহ থেকে খুব সতর্কতার সাথে বিরত থাকা।

৪. (রাত্রে) বিছানায় সুন্নাত তরীকায় শুয়ে ঘুমানোর আগে ২ হতে ৩ মিনিট সারা দিনের আমলের হিসাব নেওয়া। অর্থাৎ, নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ রাখবে।

* সারা দিনের ভুল (গুনাহ) কাজের জন্য আল্লাহপাকের কাছে তাওবা করা। (কিতাবুল ঈমানের তাওবার ৩ শর্ত দেখুন পৃঃ ৫৫)

* সারা দিনের সহীহ কাজের জন্য আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করা।

* পরবর্তী দিনের জন্য সহীহভাবে কাজ-কর্ম করার নিয়্যত করা।

উপরোক্ত আমলের বদৌলতে যদি সে এ রাতে মার যায় তবে সে জান্নাতী হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহওয়ালাগণ তাঁদের অভিজ্ঞার আলোকে বলেনঃ

৫. নিম্নোক্ত তিনটি সুন্নাতের উপর গুরুত্ব সহকারে আমল করতে পারলে অন্যান্য সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায়-

১ম সুন্নাত: সালামকে ব্যাপক করা এবং আগে আগে সহীহ শুদ্ধ ভাবে সালাম দেওয়া।

হাদীসে আছে “যে ব্যক্তি আগে আগে সালাম দিবে আল্লাহপাক তাকে অহংকার হতে মুক্তি দিবেন।”

২য় সুন্নাত:  কোনটা উন্নত আর কোনটা নিম্নমানের কাজ তা বিচার করে উন্নত কাজ ও স্থানে ডান দিককে (ডান হাত/ডান পা) এবং নিম্নমানের কাজ ও স্থানে বা দিককে (বাম পা/বাম হাত) প্রাধান্য দেওয়া।

৩য় সুন্নাত: আল্লাহপাকের যিকির বেশি বেশি করা।

অর্থাৎ, ক. প্রতিদিন কুরআন শরীফ হতে কিছু না কিছু তিলাওয়াত করা। (কুরআনকে সহীহ করা, সম্ভব হলে এক মাস জামি‘আ রাহমানিয়া মাদরাসায় হারদুই ট্রেনিং নেওয়া) দেখে পড়া ভাল অন্যথায় যে সূরা মুখস্থ আছে সেটা হাঁটতে হাঁটতে বা গাড়ীতে পড়তে থাকা।

খ. ফরয নামাযের শেষে কিছু ওজীফা পড়া-

* তিনবার ইস্তেগফার পড়া। (মুসলিম-হাদীস নং ৫৯১),

* একবার আয়াতুল কুরছী পড়া। (সুনানে কুবরা, হাদীস নং ৯৮৪৮),

* তাসবীহ ফাতেমী পড়া। (৩৩ বার سُبحَا نَ ا لله, ৩৩ বার اَلحَمدُ لِلّهِ, ৩৪ বার اَللهُ اَكبَر) (মুসলিম হাদীস নং:৫৯৬)

উক্ত আমলসমূহ পাঁচ ওয়াক্তেই করবে। আর ফজর এবং মাগরিবে ২টা আমল বৃদ্ধি পাবে।

* ৭ বার (কথা বলার পূর্বে) (اللَّهُمَّ أجِرْنِي مِنَ النَّارِ) (মুঃ আহমাদ হাদীস নং ১৮০৫৪)

* সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত পড়তে হবে। (মুঃ আহমাদ হাদীস নং ২০৩০৬)

গ. প্রতি দিন কালেমা সুওম (১০০ বার), সহীহ দুরূদ (১০০ বার), ইস্তেগফার (১০০ বার) (মুসলিম হাদীস নং ২৬৯২)

ঘ. রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেখানে যে দু‘আ পড়েছেন সেখানে সে দু‘আ পড়া (লেখকের মাসনূন দু‘আ ও দরূদ পুস্তিকাটি দেখে মুখস্থ করা যেতে পারে।)

ঙ. উপরের দিকে উঠতে- (اللَّهُ أكْبَرُ), নিচের দিকে নামতে-  (سُبْحانَ اللَّهِ), সমান জায়গায় চলতে-  (لاَ إلهَ إلاَّ اللهُ) (দাঃ কুতনী-২/২৩৩, মাউসুআহ-৬/৪৭৫)

৬.  ফজরের পর সূরা ইয়াসীন পড়া।

ফায়দাঃ একবার সূরা ইয়াসীন পড়লে ১০ বার কুরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিযী হাদীস নং ২৮৮৭)

৭. চার রাকাআত করে ইশরাক ও চাশতের নামায পড়া (সময়ঃ বেলা উঠার ১৫ মিনিট পর থেকে দ্বিপ্রহরের ৫ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত) (উত্তম সময়ঃ বেলা উঠার এক/দেড় ঘণ্টার পর ইশরাক পড়া এবং বেলা ১০/১১ টায় চাশতের নামায পড়া।)

ফায়দাঃ ইশরাকের প্রথম দু’রাকা‘আতে ১টা কবুল হজ্জের নেকী এবং ২য় দু’রাকা‘আতে আল্লাহপাক তার সারা দিনের যিম্মাদারী নিয়ে নিবেন। (তিরমিযী হাদীস নং ৫৮৬; হাদীস নং ৪৭৫)

৮. যুহরের নামায এর সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথে যাওয়ালের নামায পড়া। (রাকা‘আতের সংখ্যাঃ ২ কিংবা ৪ রাকা‘আত)

ফায়দাঃ আল্লাহপাক এ সময় আসমানের সব দরজা খুলে দেন এবং আছানীর সাথে সব ইবাদাত বন্দেগী ও দু‘আ কবুল হয়ে যায়। (তিরমিযী হাদীস নং ৪৭৮)

৯. মাগরিবের ফরযের পর ৬ রাকাআত আওয়াবীন নামায পড়া।

(বিঃদ্রঃ মাসআলা-কেউ যদি দু’রাকা‘আত সুন্নাত সহ বাকী ২,২ রাকা‘আত নফল নামায পড়ে তবে তার ৬ রাকা‘আত আওয়াবীন হয়ে যাবে।)

ফায়দাঃ আল্লাহপাক তাকে একটানা ১২ বৎসর ইবাদাত করার সওয়াব দিবেন (তিরমিযী হাদীস নং ৪৩৫)

১০. সূরা ওয়াকিয়াহ পড়া।

সময়ঃ মাগরিবের পর থেকে ইশার আগ পর্যন্ত।

ফায়দাঃ আল্লাহপাক রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা ও বরকত দান করবেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর-পৃঃ ৪/২৯৭)

১১. ইশার পর সূরা মুলক পড়া।

ফায়দাঃ আল্লাহপাক কবরের আযাব কেয়ামত পর্যন্ত মাফ করে দিবেন। (তিরমিযী হাদীস নং ২৮৭৫)

১২. তাহাজ্জুদ নামায পড়া।

তাহাজ্জুদের উত্তম সময় হলো সুবহে সাদিকের ২ ঘণ্টা আগে থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যে কোন সময়।

তাহাজ্জুদের ফায়দাঃ

ক. পূর্ববর্তী সকল নবী ওলীদের আমল ছিল,

খ. আল্লাহপাকের অত্যাধিক নৈকট্য লাভ হয়।

গ. গুনাহ হতে বাঁচার তাওফীক হয়,

ঘ. আল্লাহপাক এ সময় প্রথম আসমানে এসে ডাকতে থাকেন। (তিরমিযী হাদীস নং ২১৭; তিরমিযী হাদীস নং ৩৫৪৯)

১৩. বাসায় তালীম করতে থাকা (বিশেষ করে কিতাবুল ঈমানের গুনাহের অধ্যায় পড়া ও নিজের গুনাহের আলাদা লিষ্ট করা এবং কোন হক্কানী পীরের পরামর্শ অনুযায়ী তা পরিহার করা) (তাফসীরে ত্ববারী-১৫/১৮৫)

১৪. নিজ আত্মীয়-স্বজন মহল্লাবাসী এবং বন্ধু-বান্ধবদের নিকট দীনের দাওয়াত পেশ করা এবং দীনের জরুরী কথার তা‘লীম করা। (রহুল মাআনী-১৪/২৩২)

১৫. আল্লাহওয়ালাদের সোহবতে বসা এবং তাদের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করে নিজের অন্তরের রোগসমূহের চিকিৎসা করা। (তাফসীরে রুহুল মাআনী-৬/৮১)