elektronik sigara

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাব অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে চাইলে ভিজিট করুনঃ www.maktabatunnoor.com

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.darsemansoor.com এ ভিজিট করুন।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় একদল কুচক্রি খ্রিস্টানদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে চিরমুক্তির আশায় অনেকে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করছে। অনেক মুসলমানও ঈসায়ী মুসলিম নামধারণ করে খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস ঐ সরলমনা মুসলমানরা খ্রিস্টচক্রের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়েই ইসলাম ত্যাগ করে ঈসায়ী মুসলিম হয়েছে। কারণ, খাঁটি মুসলমান জীবন বিলিয়ে হলেও ঈমান হেফাজত করে থাকে। খ্রিস্টানদের অপপ্রচারে আর কোনো মুসলমান যেন বিভ্রান্ত না হয় এবং যারা ইতিমধ্যে খ্রিস্টানদের ফাঁদে পা দিয়েছে তারা যেন পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসতে পারে, সেজন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পরে ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। তাই এখন তাঁর আনীত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে বিশ্বাস করলে পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে না; বরং ইসলাম ধর্ম না মানার অপরাধে চিরকাল তাকে জাহান্নামের কঠিন আগুনে জ্বলতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনের সূরা আল ইমরানের ৮৫ নং আয়াতে স্পষ্টভাষায় বলে দিয়েছেনঃ     ومن يبتغِ غير الاسْلاَم دينا فلن يقبل منه و هو فى الاخرة من الخسرين

যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পালন করবে তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না, আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ এই সূরারই ১৯ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ان الدين عند الله الاسلام ‘নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম’

এই দুই আয়াত দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, কিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব, যারা পরকালে চিরমুক্তির আশায় ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পালন করছেন তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, আপনারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে চিরমুক্তি ও শান্তির পথে প্রবেশ করুন। কুরআন শরীফের অনেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা খ্রিস্টান ও ইয়াহুদীদেরকে মুসলমান হতে বলেছেন। মুসলমান না হলে তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির হুমকি দিয়েছেন।

নিম্নে এ বিষয়ের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলোঃ

১. ولو امن اهل الكتب لكان خيرا لهم ‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা যদি প্রকৃত মুসলমান হতো, তাহলে তা তাদের জন্য ভালো হতো’ (সূরা আল ইমরান ১১০)

২. ياهل الكتب لم تكفرون بايت الله وانتم تشهدون ‘হে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করো, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন করো’ (আল ইমরানঃ ৭০) অর্থাৎ ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ এই সাক্ষ্য দেয় যে তাওরাত ও ইঞ্জিল আল্লাহর কিতাব । আর ঐ উভয় কিতাবে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াতের এবং তার উপর অবতীর্ণ কুরআনের সত্যতা ও তাঁর আগমন বার্তা বর্ণিত ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এবং কুরআনকে মানতে অস্বীকার করে তারা বস্তুত তাওরাত ও ইন্জীলকে অস্বীকার করছে। তারা তাওরাত ও ইন্জীলের পাঠ বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছে। (আল-কুরআনুল কারীম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃ.৮৮)

৩. قل ياهل الكتب لم تكفرون بايت الله والله شهيد على ما تعملون ‘হে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে কেন অস্বীকার করো? অথচ তোমরা যা করো আল্লাহ তার উপর সাক্ষী’ (আল ইমরানঃ ৯৮)

৪. ولو ان اهل الكتب امنوا واتقوا لكفرنا عنهم سياتهم… ‘ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা যদি প্রকৃত মুসলমান হতো এবং ভয় করতো, তাহলে আমি অবশ্যই তাদের পাপসমূহ মোচন করতাম এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবেশ করাতাম’ (মায়িদাঃ ৬৫) উল্লেখ্য, এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, খ্রিস্টানদের জন্য পাপ মোচনের একমাত্র মাধ্যম হলো মুমিন-মুসলমান হওয়া। প্রকৃত মুসলমান না হলে পরকালে তারা মুক্তি পাবে না।

৫. ان الذين كفروا من اهل الكتب والمشركين فى نار جهنم… ‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে যারা কুফুরী করে (তথা মুসলমান হয় না) তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তারাই সৃষ্টির অধম।’ (বাইয়িনাতঃ ৬)

৬. وما امروا الا ليعبدوا الله مخلصين له الدين… ‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে আদেশ করা হয়েছিল যাতে তারা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদত করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, এটাই সঠিক দ্বীন।’ (বাইয়িনাতঃ ৫) উল্লেখ্য, এই সঠিক দ্বীনের নামই ইসলাম।

৭. يايها الذ ين اوتوا الكتب امنوا بما نزلنا مصدقا لما معكم… ‘হে ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ! তোমাদের নিকট যা আছে তার সমর্থকরূপে আমি যা অবতীর্ণ করেছি (অর্থাৎ আল-কুরআন) তার প্রতি তোমরা ঈমান আনো।’ (নিসাঃ ৪৭)

৮. ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,يا يها الذ ين امنوا ان تطيعوا فريقا من الذ ين اوتوا الكتب يردوكم  بعد ايمانكم كفرين

‘হে মুমিনগণ! তোমরা যদি ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের দলবিশেষের আনুগত্য করো তাহলে তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফের বানিয়ে ছাড়বে।’ (আল ইমরান ১০০)

উপরিউক্ত আয়াতসমূহ দ্বারা তিনটি বিষয় প্রমাণিত হলঃ

১. হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবী হওয়ার পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্য নয় ।

২. অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মত খ্রিস্টানদেরকেও মুসলমান হতে হবে। মুসলমান না হলে তারা পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে না; বরং চিরকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।

৩. খ্রিস্টানদের একটা দল কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকবে। মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে মানবে, তারা ঐ মুসলমানদেরকে বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে কাফের বানিয়ে ছাড়বে।

অতএব, হে সরলমনা মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আপনারা কুচক্রি খ্রিস্টানদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না কিংবা সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে নিজের অমূল্য ঈমান খ্রিস্টানদের হাতে বিলিয়ে দিবেন না। ‘ঈসায়ী মুসলিম’ হয়ে কিংবা ‘আহলে কুরআন’ হয়ে নিজের ঈমানকে ধ্বংস করবেন না। ঈমান অমূল্য সম্পদ। যারা মুসলমান অবস্থায় সামান্য ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদেরকেও আল্লাহ তা‘আলা এই পৃথিবীর ১১ টি পৃথিবীর সমান সুবিশাল জান্নাত দান করবেন। সেই জান্নাতে আপনি যা চাবেন তাই পাবেন। কিন্তু কেউ যদি ঈমান হারা হয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, তাহলে তাকে জাহান্নামের ভয়ংকর আগুনে চিরকাল জ্বলতে হবে। সেই আগুনের জ্বলন সহ্য করার মতো ক্ষমতা কারো থাকবে না। কুরআনের শতশত আয়াত এ ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

অনুরোধ করছি, কুরআন বা ইসলাম সম্পর্কে কেউ কোনো নতুন কথা বললে তার কথা যাচাই না করেই বিশ্বাস করবেন না; বরং এ ধরণের কোনো কথা শুনলে কওমী মাদরাসার ভালো কোনো আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করে নিবেন যে, কথাটি ঠিক না বেঠিক । যে কারো কথা বিশ্বাস করে নিজের ঈমানকে ধ্বংস করবেন না। মুসলমান না হলে যখন খ্রিস্টানরাই মুক্তি পাবে না তখন আপনি খ্রিস্টান হয়ে বা ঈসায়ী মুসলিম হয়ে কীভাবে মুক্তির আশা করতে পারেন? মনে রাখবেন, ঈসায়ী মুসলিম এবং আহলে কুরআন মূলত পাক্কা খ্রিস্টান।

নিম্নে এমন কয়েকটি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে, যার অপব্যাখ্যা করে খ্রিস্টানরা সরলমনা মুসলমানদেরকে ঈসায়ী মুসলিম বা আহলে কুরআন নামে খ্রিস্টান বানানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

১. সূরা মায়েদার ৬৮ নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে খ্রিস্টান প্রতারক চক্র বলে থাকে, ‘এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদেরকে তাওরাত ও ইনজীল প্রতিষ্ঠা ও অনুসরণ করতে বলেছেন। অতএব, তোমরা তাওরাত ও ইনজীল প্রতিষ্ঠা করো এবং ঈসায়ী মুসলিম হয়ে যাও। অন্যথায় তোমরা মুক্তি পাবে না।’

আমি সূরা মায়েদার ৬৮ নং আয়াতের মূলপাঠ নিম্নে উল্লেখ করে সরল অনুবাদ তুলে ধরছিঃ

قل ياهل الكتب لستم على شيء حتى تقيموا التوراة والانجيل وما انزل اليكم من ربكم وليزيدن كثيرا منهم ما انزل اليك من ربك طغيانا وكفرا فلا تأس على القوم الكفرين

‘হে নবী! আপনি বলুন, হে ইয়াহুদী- খ্রিস্টানগণ তাওরাত-ইনজীল ও যা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে (তথা কুরআন) তোমরা তা প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত তোমাদের কোনো ভিত্তি নেই। আপনার প্রতিপালকের নিকট থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা (কুরআন) তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাসই বাড়াবে। সুতরাং আপনি কাফের সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করবেন না।’

সূরা মায়েদার ৬৮ নং আয়াতের মূলপাঠ ও অনুবাদ উল্লেখ করা হলো। প্রিয় পাঠক! আপনিই বলুন, এই আয়াতের কোন স্থানে আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদেরকে তাওরাত-ইনজীল অনুসরণ ও প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন? এই আয়াতে তো আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদেরকে তাওরাত-ইনজীলের সাথে সাথে কুরআন মানতে বলেছেন (আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআন মানলে ও প্রতিষ্ঠা করলে তাদেরকে অবশ্যই মুসলমান হয়ে যেতে হবে।) এবং কুরআন না মানলে তাদের ধর্মদ্রোহিতা বৃদ্ধি পাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাহলে কোন যুক্তিতে তারা এই আয়াত বলে মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিতে পারে? আর আমরাই বা কেমন মুসলমান যে, যে যা বলে তাই মেনে দুনিয়ার লোভে পড়ে ঈমান হারা হয়ে যাচ্ছি। আসল মুসলমান কারো সাথে প্রতারণা করে না এবং প্রতারণার শিকারও হয় না। আমরা মুসলমানরাই দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ রয়ে যাচ্ছি। আর এই অজ্ঞতার সুযোগে খ্রিস্টানরা আমাদের মুসলমান ভাই-বোনদের ঈমান ধ্বংস করছে। অথচ যথেষ্ট পরিমাণ দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা সকল মুসলমানের উপর ফরয । এই ফরযের প্রতি অবহেলার কারণেই খ্রিস্টানরা আমাদেরকে সহজেই বোকা বানাতে পারছে। বর্তমানে প্রতিদিন ইউরোপ-আমেরিকাতে শত শত খ্রিস্টান কুরআনের সত্যতা অনুধাবন করে মুসলমান হচ্ছে। আর বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম দেশে মুসলমানরা খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে, এর চেয়ে বড় আফসোসের কথা আর কী হতে পারে? আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে প্রয়োজন পরিমাণ দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন এবং খ্রিস্টান প্রতারক চক্রের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে হেফাজত করুন।

২. দ্বিতীয় যে বিষয়টি বলে তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে তা এই যে, তারা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, কুরআনে বলা হয়েছে ‘আল্লাহর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।’ (সূরা ইউনুসঃ ৬৪, সূরা আনআমঃ১১৫,৩৪, সূরা কাহাফঃ ২৭) আর তাওরাত-ইনজীল যেহেতু আল্লাহর বাণী তাই এতেও কোনো পরিবর্তন হতে পারে না। অতএব সবাইকে তাওরাত ইনজীল মানতে হবে। তথা ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান হতে হবে।

প্রিয় পাঠক! ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য নয়; বরং আল্লাহর বাণী দ্বারা একেক আয়াতে একেক অর্থ উদ্দেশ্য। তাফসীরের কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ তাফসীরের কিতাব ইবনে কাসীর রহ. কর্তৃক প্রণীত ‘তাফসীরুল কুরআনিল আজীম’ এর উদ্ধৃতিতে আমরা ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতের মর্ম নিম্নে উল্লেখ করছি।

সূরা আনআমের ৩৪ নং আয়াতে বিভিন্ন বালা-মুসিবাতে আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূলগণকে সাহায্য করেছেন একথা উল্লেখ করে বলেন ‘কেউ আমার বাণী পরিবর্তন করতে পারবে না।’ ইবনে কাসীর রহ. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,

ولا مبدل لكلمات الله اى التى كتبها بالنصر فى الدنيا و الاخرة لعباده المؤمنين

‘মুমিন বান্দাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করা হবে বলে যে ওয়াদা আল্লাহ তা‘আলা করেছেন তা কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা সূরা সাফ্ফাত এর ১৭১-১৭৩ নং আয়াতে বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূল ও মুমিন বান্দাদেরকে অবশ্যই সাহায্য করবেন’ এই ওয়াদা (বাণী) কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।’ এখানে বাণী দ্বারা কুরআনে মুমিন বান্দাদের জন্য কৃত আল্লাহর ওয়াদা উদ্দেশ্য।

আর সূরা আনআমের ১১৫ নং আয়াতের শুরুতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন ‘সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে তোমার প্রতিপালকের বাণী পরিপূর্ণ হয়েছে’ এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তাঁর বাণী কেউ পরিবর্তন করার নেই’ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসীর রহ. বলেন, اى ليس احد يعقب حكمه تعالى لافى الدنيا ولا فى الاخرة

‘এমন কেউ নেই যে আল্লাহর হুকুম পাল্টাতে পারে- না দুনিয়াতে না আখিরাতে ।’ বুঝা গেল যে, এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা আল্লাহর হুকুম তথা কুরআন উদ্দেশ্য।

আর সূরা ইউনুসের ৬৪ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিন মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন ‘لاتبديل لكلمات الله’ ‘আল্লাহর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তন নেই।’ এই আয়াতের মর্ম সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছেঃ

 لاتبديل لكلمات الله اى هذا الوعد لايبدل ولايخلف ولايغير بل هو مقرر مثبت كائن لا محالة ‘আল্লাহর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তন নেই অর্থাৎ (মুমিনদের জন্য) আল্লাহ তা‘আলা যে ওয়াদা করেছেন তা পরিবর্তন করা হবে না, ভঙ্গ করা হবে না এবং তার বিপরীত কিছু করা হবে না; বরং এই ওয়াদা সুনির্ধারিত ও সুসাব্যস্থ এবং তা  অনিবার্যভাবে সংগঠিত হবে।’ এই আয়াতেও আল্লাহর বাণী দ্বারা মুমিনদের সাথে কুরআন শরীফে কৃত আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা উদ্দেশ্য।

আর সূরা কাহাফের ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেন, لا مبدل لكلماته ‘তাঁর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তনকারী নেই’ তাফসীরে ইবনে কাসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে

يقول تعالى امرا رسوله صلى الله عليه وسلم بتلاوة كتابه العزيز وابلاغه الى الناس لامبدل لكلماته اى لامغير لها ولا محرف ولامزيل

‘আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় রাসূলকে নিজের প্রিয় কিতাব তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তাঁর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তনকারী নেই’ অর্থাৎ এই কুরআনের মধ্যে কেউ কোনো ধরণের পরিবর্তন, বিকৃতি ও বিলুপ্তি ঘটাতে পারবে না।’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা কুরআন মাজীদ উদ্দেশ্য।

প্রিয় পাঠক! কুরআন শরীফ ও কুরআনের বিশুদ্ধ তাফসীর দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য নয়। তাছাড়া এই আয়াতে তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ, কুরআনের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা তাদের কিতাব তাওরাত-ইনজীল নিজেদের ইচ্ছা মতো পরিবর্তন করেছে। যেমন সূরা বাকারার ৯ নং রুকুতে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের বদকর্মের আলোচনা করতে গিয়ে ৭৯ নং আয়াতে বলেন, فويل للذين يكتبون الكتب بايديهم…… ‘সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে অতঃপর তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির আশায় বলে, এটা আল্লাহর নিকট হতে এসেছে।’ অতএব, কুরআন দ্বারাই এ কথা প্রমাণিত হলো যে, ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা দুনিয়াবী স্বার্থে তাদের কিতাব পরিবর্তন করেছে। এখন আপনিই বলুন ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা কীভাবে তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য হতে পারে?

খ্রিস্টানরা যদিও আরো কয়েকটি আয়াতের অপব্যাখ্যা করে মুসলমানদেরকে ঈমান হারা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত পরিচয় দীর্ঘ আলোচনা করা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি খ্রিস্টচক্রকে প্রতিহত করার জন্য সূরা আল ইমরানের ৮৫ নং আয়াত মনে রাখাই মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট। কারণ, এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو فى الاخرة من الخسرين.

‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

অতএব, হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা! কোনো প্রতারক যদি আপনাকে কুরআনের কথা বলে বা অন্য কোনো কিছুর কথা বলে নতুন কোনো মতবাদ গ্রহণ করার দাওয়াত দেয় তাহলে আপনি তা গ্রহণ করবেন না। আপনি সূরা আল ইমরানের ৮৫ নং আয়াত মনে রাখুন এবং যেকোনো মূল্যে মৃত্যু পর্যন্ত খাঁটি মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন। ঈমান বাঁচানোর জন্য জান-মাল কুরবানী করার প্রয়োজন হলে জান-মাল কুরবানী করে দিবেন কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ঈমান বিলিয়ে দিবেন না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে খাঁটি ঈমান ও ইসলাম নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের দেশকে খ্রিস্টচক্রের আগ্রাসী থাবা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।